Durand Cup 2026: ক্রীড়ামন্ত্রীর কথায়, “১৩৫ তম ডুরান্ড কাপে উদ্বোধনী ম্যাচ ও ফাইনাল সহ মোট ১৬টি ম্যাচ আয়োজন করার সুযোগ পেয়েছে কলকাতা। যা আমাদের রাজ্যের প্রতিটি ফুটবলপ্রেমীর জন্য অত্যন্ত গর্বের একটা বিষয়।"
Durand Cup 2026: ঢাকে কাঠি পড়ছে ডুরান্ড কাপের। আগামী ২৫ জুলাই, শনিবার উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গল (Durand Cup 2026 live)। হাই-ভোল্টেজ কলকাতা ডার্বি দিয়েই শুরু হচ্ছে এই মেগা ফুটবল টুর্নামেন্ট। ঐতিহ্য, লড়াই, ফুটবল এবং দেশের সম্মান! সবকিছুই যেন মিলেমিশে একাকার এই ডুরান্ড কাপকে কেন্দ্র করে (Durand Cup 2026)। এবার ১৩৫ তম ডুরান্ড কাপের বল গড়াবে ডার্বির মধ্য দিয়ে। এবার সেই ডুরান্ড কাপ শুরুর আগেই বিরাট বার্তা দিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ডঃ ইন্দ্রনীল খান।
"এবার সময় এসেছে ভারতীয় ফুটবলের পাশে দাঁড়ানোর"
বুধবার, ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কম্যান্ডের সদর দফতর তথা কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে ডুরান্ড কাপের অনুষ্ঠানে এসে বিরাট বার্তা দেন ক্রীড়ামন্ত্রী। প্রসঙ্গত, এই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মেজর জেনারেল দীনেশ কুমার সিং, লেফটেনেন্ট জেনারেল গম্ভীর সিং সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। অন্যদিকে, ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং রাজ্য সরকার যৌথভাবে ডুরান্ড কাপের আয়োজন করে থাকে। তাই রাজ্য সরকারের তরফ থেকে বুধবার উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া, যুবকল্যাণ এবং সমবায় বিভাগের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব রাজেশ পান্ডে। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্রীড়া এবং যুবকল্যাণ মন্ত্রী ডঃ ইন্দ্রনীল খান।

ক্রীড়ামন্ত্রীর কথায়, “১৩৫ তম ডুরান্ড কাপে উদ্বোধনী ম্যাচ ও ফাইনাল সহ মোট ১৬টি ম্যাচ আয়োজন করার সুযোগ পেয়েছে কলকাতা। যা আমাদের রাজ্যের প্রতিটি ফুটবলপ্রেমীর জন্য অত্যন্ত গর্বের একটা বিষয়। বিশ্বকাপে আমরা কেউ ব্রাজিলকে সমর্থন করেছি, কেউ আর্জেন্টিনা, কেউ স্পেন আবার কেউ পর্তুগাল। কিন্তু এবার সময় এসেছে, নিজেদের দেশের ফুটবল এবং নিজেদের ক্লাবকে দু-হাত তুলে সমর্থন করার। সবাই মিলে একসঙ্গে গ্যালারিতে বসে ম্যাচগুলো দেখব। এটাই হবে সেরা পাওনা। আমাদের নিজেদের ফুটবলারদের পাশে দাঁড়ানোর এটাই সুযোগ। আমি পশ্চিমবঙ্গের সকল ফুটবলপ্রেমী মানুষের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, উদ্বোধনী ম্যাচ থেকে শুরু করে ফাইনাল পর্যন্ত, স্টেডিয়ামগুলি যেন কানায় কানায় থাকে। কারণ, আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য উৎসাহী সমর্থকদের অটুট সমর্থনের চেয়ে বড় আর কোনও অনুপ্রেরণা হতে পারে না।"

ডুরান্ড কাপের অনুষ্ঠানে এসে বিরাট বার্তা ক্রীড়ামন্ত্রীর
লেফটেনেন্ট জেনারেল গম্ভীর সিং বলেন, “প্রথমেই আমি মিডিয়া অফিশিয়ালদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। তারা প্রতি বছর যেভাবে আমাদের পাশে থাকেন, সেটা অনেক বড় পাওনা আমাদের কাছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে ডুরান্ড কাপ হল অন্যতম একটি ক্রীড়া-উদ্যোগ এবং সামরিক ও বেসামরিক অংশীদারিত্বের এক উজ্জ্বল ও সর্বোৎকৃষ্ট নিদর্শন। ২০১৯ সাল থেকে কলকাতা গর্বের সঙ্গে এই টুর্নামেন্টের প্রধান আয়োজক শহরের ভূমিকা পালন করে আসছে। এমন একটি শহর, যেখানে ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, বরং জীবনযাপনেরই একটি অংশ। এই অংশীদারিত্ব ভারতের প্রাচীনতম ফুটবল টুর্নামেন্টের ঐতিহ্যকে আরও সুদৃঢ় করে চলেছে।"

ক্রীড়া, যুবকল্যাণ এবং সমবায় বিভাগের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব রাজেশ পান্ডে জানান, “ডুরান্ড কাপের ঐতিহ্য সত্যিই অসাধারণ। ভারতের খুব কম ক্রীড়া ইভেন্টই এমন গৌরবময় ঐতিহ্যের দাবি করতে পারে। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে, ১৩৫ তম ইন্ডিয়ান-অয়েল ডুরান্ড কাপের সূচনা হতে চলেছে সেই বিখ্যাত ‘কলকাতা ডার্বি’র মধ্য দিয়ে এবং টুর্নামেন্টটি আবারও কলকাতায় হচ্ছে। আমি নিশ্চিত যে, রাজ্যের ফুটবলপ্রেমীরা অধীর আগ্রহে এই মুহূর্তটির জন্য অপেক্ষা করে আছেন। এই ঐতিহাসিক টুর্নামেন্টের আরও একটি সফল আয়োজন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সহায়তা করতে পেরে পশ্চিমবঙ্গ সরকার গর্বিত।"

ডুরান্ড কাপে এবার পেপারলেস টিকিট
মেজর জেনারেল দীনেশ কুমার সিং উল্লেখ করেন, “ইস্টার্ন কম্যান্ডের তত্ত্বাবধানে ২০৩২ সাল পর্যন্ত, ডুরান্ড কাপের সময়সীমা বৃদ্ধি আমাদের সকলের জন্যই অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এই টুর্নামেন্টটি যে বিপুল সমর্থন পেয়েছে এবং বিগত বছরগুলোতে যে অসাধারণ অগ্রগতি সাধন করেছে, এটি তারই প্রতিফলন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং অন্যান্য আয়োজক রাজ্যগুলোর সর্বাত্মক সহযোগিতায়, আমরা এই টুর্নামেন্টটিকে নতুন নতুন ভেন্যুতে নিয়ে যেতে, আরও বেশি সংখ্যক তরুণ ফুটবলারের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে এবং ভারতীয় ফুটবলকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"

অন্যদিকে, গ্যালারিতে সবার জন্য পানীয় জলের বন্দোবস্ত থাকবে। সমর্থক থেকে ভিআইপি, সবাই একই জল খাবে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী। তিনি নিজে আগে চেকও করবেন। পরিবহণ দফতরের সঙ্গে কথা বলে বাড়তি বাসের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানা যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই কথাবার্তা হয়ে গেছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ১৩৫ তম ডুরান্ড কাপের উদ্বোধন হবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরেই। পাশাপাশি এবার চ্যাম্পিয়ন দল পাবে তিন কোটি টাকা, সেরা তিনজন ফুটবলারের জন্য পুরস্কার হিসেবে থাকবে এসইউভি এবং সেরা ভূমিপুত্রদের জন্যও চালু হচ্ছে পুরস্কার।
![]()
সেইসঙ্গে, ডার্বির জন্য মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গল, প্রত্যেকটি ক্লাবকে ৫,০০০ করে টিকিট দেওয়া হচ্ছে। সেইসঙ্গে, অনলাইন টিকিট বিক্রি শুরু হয়ে গেছে ২১ জুলাই, মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকেই। বুক মাই শো (BookMyShow) অ্যাপ এবং ওয়েবসাইট থেকে দুই দলের সমর্থকরা টিকিট কাটতে পারবেন।
অফলাইন টিকিট বিক্রি এবং অনলাইন রিডেম্পশন শুরু হবে ২২ জুলাই থেকে এবং চলবে ২৪ জুলাই পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত, অফলাইনে টিকিট বিক্রি এবং অনলাইনে কেনা টিকিটের রিডেম্পশন চালু থাকবে। মোহনবাগান ক্লাবের টিকিট কাউন্টার এবং ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের টিকিট কাউন্টার থেকে অফলাইন টিকিট কেনা যাবে এবং অনলাইন টিকিটের রিডেম্পশন করা যাবে। জানা যাচ্ছে, কলকাতায় আয়োজিত অন্যান্য সমস্ত গ্রুপ পর্ব এবং নক-আউট ম্যাচের ক্ষেত্রে দর্শকদের সুবিধার্থে এবং স্টেডিয়ামে নির্বিঘ্ন ও পেপারলেস টিকিট মারফৎ প্রবেশ নিশ্চিত করতে বুক মাই শো (BookMyShow) অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এম-টিকিটের (মোবাইল টিকিট) ব্যবস্থা ব্যবহার করা হবে। তবে ডার্বি ম্যাচটি এই তালিকায় নেই।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।
