Lionel Messi Retirement: আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর ঘোষণা করলেন লিওনেল মেসি। কার্যত, একটি যুগের অবসান। মেসি জানিয়েছেন, আর্জেন্টিনার জার্সি সারাজীবনের মতো তুলে রাখবেন। আর তিনি দেশের হয়ে ফুটবল খেলবেন না। কার্যত, এক মহীরুহের অবসর বলা চলে।
Lionel Messi Retirement: আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর ঘোষণা করলেন লিওনেল মেসি। কার্যত, একটি যুগের অবসান। জাতীয় দলের জার্সিতে আর তিনি মাঠে জাদু দেখাবেন না। সেই চিরন্তন স্কিল, অবিশ্বাস্য দক্ষতা, যা মুগ্ধ করেছে গোটা বিশ্বকে (Lionel Messi Retirement)। আন্তর্জাতিক মঞ্চে আর ফুটবল খেলবেন না লিওনেল মেসি। সোমবার তিনি ঘোষণা করেছেন অবসরের কথা। মেসি জানিয়েছেন, আর্জেন্টিনার জার্সি সারাজীবনের মতো তুলে রাখবেন। আর তিনি দেশের হয়ে ফুটবল খেলবেন না। কার্যত, এক মহীরুহের অবসর বলা চলে। তাঁর কথায়, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের দুদিন পরেই তিনি এই বিবৃতিটি প্রস্তুত করে রাখেন। চলতি মাসের শুরুর দিকে মেসি তাঁর বাবাকে হারান। এবার সেই প্রেক্ষাপটেই তিনি নিজের অবসরের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনলেন (Lionel Messi 2026 latest update)।
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে লিওনেল মেসির অবসর!

প্রসঙ্গত, এটি দ্বিতীয়বারের জন্য মেসি নিজের অবসরের কথা ঘোষণা করলেন। এর আগে ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা সেন্টেনারিও ফাইনালে, চিলির বিরুদ্ধে পরাজয়ের ঠিক পরেই তিনি এমন একটি ঘোষণা করেন। যদিও পরে মেসি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন এবং এরপর আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপও জেতেন। লিওনেল মেসির কথায়, "ফাইনালের পর অনেকটা সময় পেরিয়ে গেছে এবং অনেক চিন্তাভাবনার পর আমি সবাইকে জানাতে চাই যে, আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি। এই সিদ্ধান্তটি আমার হৃদয়ের অনেকটা গভীরে আঘাত করেছে এবং এখনও করে চলেছে। তবে আমি একটা জিনিস বুঝতে পারি যে, এটাই সঠিক সময়। আমি হলফ করে বলতে পারি, আমি সবসময়ই নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছি দেশের জন্য। শুধু গত কয়েক বছরে যখন আমরা সবকিছু জিতেছি তখনই নয়, বরং তার আগে থেকেও। এই জার্সির জন্য আমি সবসময় লড়াই করেছি এবং সবকিছু দিয়েছি। একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল আপনাদের আনন্দ দেওয়া এবং ফুটবলের মাধ্যমে আর্জেন্টাইন হিসেবে আপনাদের গর্বিত করে তোলা।”

এক মহীরুহের বিদায়, একটি যুগের অবসান
তারপরেই মেসি যোগ করেন, “সময় ফুরিয়ে আসছে, জীবনের একেকটি অধ্যায় শেষ হচ্ছে। আর এই অধ্যায়টির সমাপ্তি আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করছে। জাতীয় দলের হয়ে খেলাটা আমি সবসময়ই ভালোবেসেছি এবং ভবিষ্যতেও ভালোবাসব। আমি আমার সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছি; আর কিছু দেওয়ার মতো অবশিষ্ট নেই। তাছাড়া আমার পরে এমন কিছু দারুণ তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে, যাদের এই দলে জায়গা পাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। গত ২০ বছর ধরে আপনারা যে ভালোবাসা ও সমর্থন দিয়েছেন, তার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। মাঠের ভেতর থেকে আপনাদের সেই গর্জন আর উৎসাহ শোনার মুহূর্তগুলো আমি ভীষণভাবে মিস করব। এখন থেকে আমি আপনাদেরই একজন হয়ে মাঠের বাইরে থেকে গলা ফাটাব এবং সমর্থন জোগাব—সুসময় কিংবা দুঃসময়, সব পরিস্থিতিতেই। আমার পরিবারকে ধন্যবাদ সবসময় পাশে থাকার জন্য এবং এই সুন্দর অথচ কঠিন যাত্রায় আমার সঙ্গী হওয়ার জন্য। যেসব কোচ, সতীর্থ ও ম্যানেজারের সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে, তাদের প্রত্যেককে জানাই ধন্যবাদ। সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছি সব অবিস্মরণীয় স্মৃতি এবং মুহূর্ত। সতীর্থদের সঙ্গে মিলে আপনাদের এমন সব মুহূর্ত উপহার দিতে পেরেছি—যা ছিল স্বপ্নের মতো। সেই তৃপ্তি এবং গর্ব নিয়েই আমি বিদায় নিচ্ছি। আপনাদের সবার সঙ্গে এই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়াটা ছিল অসাধারণ। আমি আপনাদের ভালোবাসি! ঈশ্বর, আমাকে আর্জেন্টাইন হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। এগিয়ে চলো আর্জেন্টিনা!"

শেষদিন অবধি গোলের খিদে, সেই হিমশীতল মানসিকতা এবং শেষ মিনিট পর্যন্ত, সতীর্থদের নিয়ে লড়ে যাওয়া। আসলে মেসি হলেন গোটা একটা প্রজন্ম। ইতিহাস এবং নিজেই একটা আস্ত ঐতিহ্য। দাপুটে ফর্ম এবং হাসি। সব ম্যাচেই দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন মেসি। বিপক্ষ ডিফেন্সকে একেবারে নাস্তানুবাদ করে ছাড়লেন গোটা ক্যারিয়ার জুড়ে। দুরন্ত গতির মুভ, কাট করে ভিতরে ঢুকেই আক্রমণ। লিওনেল মেসি আসলেই ম্যাজিশিয়ান। তিনি কাউকে পরোয়া করেন না। আক্ষরিক অর্থেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলের এক তৃপ্ত অধিনায়ক। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম তারকা, যার ধারেকাছে কেউ নেই। যিনি নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙেন। সেই লিওনেল মেসি। যেন সতীর্থদের অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখে তৃপ্ত এক সম্রাট। আকর্ষণীয় স্কিল, অসাধারণ দক্ষতা, অনবদ্য ফুটবল এবং দুরন্ত পারফরম্যান্স। যার ঝুলিতে সমস্ত সাফল্য রয়েছে।
একনজরে মেসির সর্বকালীন রেকর্ড
সর্বাধিক Ballon d'Or — ৮টি শিরোপা
সর্বাধিক FIFA World Player/Best FIFA Men's Player মিলিয়ে — ৮টি শিরোপা
সর্বাধিক European Golden Shoe — ৬টি শিরোপা
সর্বাধিক FIFA World Cup Golden Ball — ২টি (২০১৪ এবং ২০২২)
সর্বাধিক FIFA Club World Cup Golden Ball — ২টি
Laureus World Sportsman of the Year জেতা প্রথম ফুটবলারদের অন্যতম এবং ২ বার বিজয়ী।

বার্সেলোনার হয়ে সর্বাধিক গোল — ৬৭২টি
লা লিগা-তে সর্বাধিক গোল — ৪৭৪ টি
একটি ক্যালেন্ডার বছরে সর্বাধিক গোল — ৯১টি (২০১২)। তার মধ্যে বার্সেলোনার হয়ে ৭৯টি। পাশাপাশি La Liga-র একটি মরশুমে সর্বাধিক গোল — ৫০টি (২০১১-১২ মরশুম)
লা লিগা-তে সর্বাধিক হ্যাটট্রিক — ৩৬টি
একটি ক্লাবের হয়ে UEFA ক্লাব প্রতিযোগিতায় সর্বাধিক গোল — বার্সেলোনার হয়ে ১২৩টি।
এক ক্লাবের হয়ে Champions League-এ সর্বাধিক গোল — বার্সেলোনার হয়ে ১২০ Champions League-এ ধারাবাহিকভাবে গোল করা মরশুম — ১৮, যা Karim Benzema-র সঙ্গে যৌথ রেকর্ড। Champions League-এ বার্সেলোনার হয়ে তাঁর গোলসংখ্যা ১২০।
আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বাধিক ম্যাচ — ২০৭। আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বাধিক গোল — ১২৫ টি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বাধিক অ্যাসিস্ট — ৬১। CONMEBOL World Cup কোয়ালিফায়ারে সর্বাধিক গোল — ৩৬ টি।
বিশ্বকাপের রেকর্ডও তাৎপর্যপূর্ণ। সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জেতা খেলোয়াড়দের মধ্যে শীর্ষে, ২৩টি জয়। ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনালে টানা ৯ ম্যাচে গোল। সবচেয়ে কম বয়সে দেশের জার্সিতে গোল, ১৮ বছর ৩৫৭ দিন। সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল, ৩৯ বছর ১৩ দিন।
FIFA World Cup — ২০২২, Copa América — ২০২১, ২০২৪, Finalissima — ২০২২, Olympic Gold — ২০০৮, FIFA U-20 World Cup — ২০০৫
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।