East Bengal: এতদিন অবধি ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন কোচ অস্কার ব্রুজো কারও নাম নেননি। এবার সরাসরি নাম ধরেই নিশানা করেছেন তিনি। আর সেই নামটি হল, লাল হলুদের সর্বময় কর্তা দেবব্রত সরকার তথা ময়দানের অতি পরিচিত নীতুদা (East Bengal latest news)।
East Bengal: তিনি কি তাহলে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের অন্দরে চলা রাজনীতির কালো দিকটি তুলে আনার চেষ্টা করছেন? ফের লাল হলুদে কামান দাগলেন ইস্টবেঙ্গলের একমাত্র আইএসএল জয়ী কোচ অস্কার ব্রুজো (East Bengal)। যিনি প্রথম ক্লাবকে এই ট্রফিটি এনে দিয়েছেন। তাই সমর্থকদের অনেকেই বলছেন, সেই অস্কার যখন এতগুলো কথা বলছেন, তখন কিছু তো কারণ থাকবেই। এতদিন অবধি ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন কোচ অস্কার ব্রুজো কারও নাম নেননি। এবার সরাসরি নাম ধরেই নিশানা করেছেন তিনি। আর সেই নামটি হল, লাল হলুদের সর্বময় কর্তা দেবব্রত সরকার তথা ময়দানের অতি পরিচিত নীতুদা (East Bengal latest news)।
ঠিক কী বলেছেন অস্কার?
অস্কার বলেছেন, “পুরো বিষয়টার সঙ্গে নীতুদা জড়িত। আমি মনে করি, সমালোচনা ফুটবলের একটা অংশ। সেটা মেনে নিতে আমাদের কারও কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ, অজ্ঞাতপরিচয় বা সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট থেকে বারবার একই ধরনের প্রচার করা এবং একটি অভ্যন্তরীণ মতবিরোধকে অন্য ক্লাবের মধ্যে টেনে নিয়ে যাওয়ার যে অপচেষ্টা! এই বিষয়গুল তো পুরোপুরি আলাদা। বেশ কিছু বিষয় দেখে আমার মনে হয়েছে এবং তার ভিত্তিতেই আমার বিশ্বাস, এইসব নীতুদার নেতৃত্বাধীন ক্লাবের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। মূলত যিনি ক্লাব চালান, সেই নীতুদার কাছেই জানতে চাই যে, এই সবকিছুর সঙ্গে যুক্ত এমন কেউ কি আক্রমণগুলিকে উৎসাহ দিচ্ছেন বা কোনও জায়গা থেকে কি নির্দেশ আসছে? তিনি কি কোনওভাবে এর থেকে লাভবান হচ্ছেন?"
তাঁর কথায়, "সতর্কতার সঙ্গেই এই পার্থক্যটা তুলে ধরছি। আমি নিজে যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছি, তার উপর ভিত্তি করেই নিজের মূল্যায়নের কথা জানাচ্ছি। কোনও ভুয়ো অ্যাকাউন্ট বা টাকার বিনিময়ে পরিচালিত প্রোফাইলের যাচাই না করা দাবি বা তথ্যকে একেবারেই তুলে ধরছি না। নীতুদা এবং ইস্টবেঙ্গল ক্লাব এই সব ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থাকলে, সেটা সবার সামনে তাদের পরিষ্কারভাবে জানানো উচিত। এখন তো ইস্টবেঙ্গলের নাম ব্যবহার কর ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে। যদি কেউ জড়িত না থাকেন, তাহলে ক্লাবের তো উচিত যে, এইসব বন্ধ করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া।"
লাল হলুদে কামান দাগলেন একমাত্র আইএসএল জয়ী কোচ অস্কার
লাল হলুদের প্রাক্তন কোচ জানাচ্ছেন, "ইস্টবেঙ্গলে থাকাকালীন দল এবং ক্লাবের প্রতি আমার দায়িত্ব ছিল। কোনও ব্যক্তি, লবি, দালাল বা অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীর প্রতি আমি আনুগত্য ছিলাম না। ফুটবলার এবং সাপোর্ট স্টাফরা একসঙ্গে খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। ড্রেসিংরুমকে সুরক্ষিত রাখতে এবং পারফরম্যান্সের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সবাই মিলে চেষ্টা করতেন। অবশ্যই সমর্থকরা পাশে ছিলেন। তাদের সমর্থনেই আমরা ২২ বছর পর, একটা চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেতে পেরেছি। এই সাফল্য শুধু ফুটবলার, সাপোর্ট স্টাফ এবং সমর্থকদের। যারা ব্যক্তিগত স্বার্থের উপরে ইস্টবেঙ্গলকে রেখেছিলেন, এই সাফল্য তাদেরও। কিন্তু আমি ইস্টবেঙ্গলকে প্রত্যাখ্যান করতে চাইনি। তবে এটাও ঠিক যে, আর কাজ চালিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। আমার মনে হয়েছিল, এমন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে কোনওভাবেই খোলাধুলো সম্ভব নয়। অভ্যন্তরীণ হস্তক্ষেপ এবং স্বল্পমেয়াদি স্বার্থ একটি বড় ক্লাবকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বারবার বাধার সৃষ্টি করে। কেন স্বাধীনভাবে কাজ করলে বা ক্লাব ছাড়লে তাঁকে শত্রু হিসেবে তুলে ধরা হয়? নীতুদা বা অন্য কাউকে আক্রমণ করার জন্য এগুলো আমি এই লেখা লিখছি না। একটা উত্তরের আশায় লিখছি। যেভাবে আমায় হেনস্থা হতে হচ্ছে, সেটা বন্ধ করার আশায় লিখছি। মনে রাখবেন, তথ্য-প্রমাণ কিন্তু আমিও দিতে পারি।"
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

