Brazil vs Haiti: এই ম্যাচটি আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ ছিল কারণ, নক-আউট পর্বে যেতে গেলে ব্রাজিলকে এই ম্যাচ জিততেই হত। আর সেই লড়াই শেষে ৩-০ গোলে জয় হাসিল করল ব্রাজিল। এই ম্যাচে জোড়া গোল করলেন কুনহা। চলতি বিশ্বকাপে প্রথম জয় ব্রাজিলের। বিপক্ষে ছিল তুলনামূলকভাবে দুর্বল প্রতিপক্ষ হাইতি।

Brazil vs Haiti: চলতি বিশ্বকাপে প্রথম জয় ব্রাজিলের। বিপক্ষে ছিল তুলনামূলকভাবে দুর্বল প্রতিপক্ষ হাইতি। সেই দলের বিরুদ্ধে তিন গোল দিল ব্রাজিল। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভারতীয় সময় শনিবার ভোরে, ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় ব্রাজিল বনাম হাইতি (Brazil vs Haiti FIFA World Cup 2026)। এই ম্যাচটি আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে তার কারণ, নক-আউট পর্বে যেতে গেলে ব্রাজিলকে এই ম্যাচ জিততেই হত (fifa football world cup 2026)। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

নিজেদের গত ম্যাচে মরক্কোর বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করার ফলে, এই ম্যাচটি কার্যত মরণ-বাঁচন লড়াই হয়ে দাঁড়ায় সেলেকাওদের সামনে। অন্যদিকে, হাইতিও আবার স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১-১ গোলে পরাজিত হয়। তাই তাদের কাছেও এই ম্যাচটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়। আর তারপরেই রীতিমতো গ্রুপ সি-র লড়াই জমে ওঠে। অতএব, দুই দলই হাড্ডাহাড্ডি ফুটবল খেলার লক্ষ্যে মাঠে নামে। পরিস্থিতি এমন ছিল যে, কেউ কাউকে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে পারবে না। আর সেই লড়াই শেষে ৩-০ গোলে জয় হাসিল করল ব্রাজিল।

হাইতির বিরুদ্ধে সাম্বা ঝড়!

খেলার শুরু থেকেই চাপ বাড়াতে শুরু করে তারা। পাল্টা ডিফেন্সকে সজাগ রেখে কাউন্টার অ্যাটাকের উপর নির্ভর করে হাইতিও। ম্যাচের ১৬ মিনিটে,ডি বক্সের বাঁদিক থেকে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের ডান পায়ের জোরালো শটটি আটকে যায়। এরপর ২০ মিনিটে, ফের শট নেন ভিনি। কিন্তু এক্ষেত্রেও তা প্রতিহত হয়। 

গোটা ম্যাচে ভিনিসিয়াস জুনিয়র একাধিকবার আক্রমণ তুলে আনেন। ম্যাচের ২২ মিনিটে, ব্রুনো গিমারাইসের পাস থেকে বল পেয়ে গোলপোস্টের মাঝ বরাবর ডান পায়ের জোরালো শট নেন সেই ভিনি। কিন্তু সতর্ক ছিলেন হাইতি গোলকিপার জনি প্লাসিড। তিনি এই শট রুখে দেন। 

YouTube video player

কিন্তু ২৩ মিনিটের মাথায়, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ তুলে আনে ব্রাজিল। একেবারে বক্সের মাঝখান থেকে বাঁ পায়ে নেওয়া ম্যাথিউস কুনহার শটটি গোলপোস্টের নিচ দিয়ে লেফট কর্নার বরাবর গিয়ে জালে জড়িয়ে যায়। আর সেই সুবাদেই ব্রাজিল খেলায় লিড নেয় ১-০ ব্যবধানে। 

প্রথমার্ধ শেষ হয় ৩-০ ফলাফল নিয়ে

অন্যদিকে, ম্যাচের ২৮ মিনিটে, র‍্যাফিনহার শট সেভ করেন জনি প্লাসিড। এই আক্রমণটির ক্ষেত্রে লুকাস পাকেতা একটি থ্রু বল বাড়িয়েছিলেন। তারপর ৩৫ মিনিটের মাথায়, আবার গোল। এক্ষেত্রেও সেই ম্যাথিউস কুনহা। বক্সের বাঁ-প্রান্ত থেকে বাঁ পায়ের শটে গোলপোস্টের টপ লেফট কর্নার দিয়ে অসাধারণ গোল করে যান কুনহা। এই গোলটির ক্ষেত্রে থ্রু বল বাড়ান ভিনিসিয়াস জুনিয়র। খেলার ফলাফল তখন ২-০। 

YouTube video player

তবে ৩৯ মিনিটে, ব্রাজিল দলে একটি পরিবর্তন করতে বাধ্য হন কোচ কার্লো আনসেলোত্তি। চোটের জেরে র‍্যাফিনহার জায়গায় মাঠে নামেন রায়ান। কিন্তু তাতেও ব্রাজিলের খেলায় কোনও প্রভাব পড়েনি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার একটু আগে, লুকাস পাকেতার থ্রু বল পেয়ে ভিনিসিয়াস জুনিয়র দ্রুত আক্রমণে উঠে আসেন এবং ডান পায়ের জোরালো শটে বলকে জালে জড়িয়ে দেন। প্রথমার্ধ শেষ হয় ৩-০ ফলাফল নিয়ে। 

ড়া গোল করলেন কুনহা এবং অসাধারণ ফুটবল উপহার ভিনির

দ্বিতীয়ার্ধ একটু ধীরগতিতে শুরু হয়। হাইতি দলে দুটি পরিবর্তন আসে। কার্লেনস আর্কাসের বদলে মাঠে আসেন ডমিনিক সাইমন এবং ফ্রান্টজডি পিয়েরোর জায়গায় নামেন উইলসন ইসডোর। আর নেমেই একটি পজিটিভ মুভ। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে, তাঁর শট ব্লক হয় ব্রাজিল ডিফেন্ডারদের পায়ে। 

YouTube video player

ম্যাচের ৬২ মিনিটে, প্রায় গোলের কাছে পৌঁছে গেছিল হাইতি। বেলগার্ডের ক্রস থেকে আসা বলে রিকার্দো আদের হেডারটি সেভ করেন ব্রাজিল গোলকিপার অ্যালিসন বেকার। অন্যদিকে, খেলার ৬৩ মিনিটে, কুনহার জায়গায় নামেন এনড্রিক। এরপর ম্যাচের ৬৫ মিনিটে, হাইতি ফরোয়ার্ড রুবেন প্রভিডেন্সের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তার কয়েক মুহূর্ত বাদেই জঁ-কেভিন ডুভার্নের শটও বাইরে দিয়ে উড়ে চলে যায়। 

খেলার ৭৬ মিনিটে, ডগলাস স্যান্টোসের শট বারপোস্টের উপর দিয়ে উড়ে যায়। অপরদিকে, এনড্রিকের গোল অফসাইডের জন্য বাতিল হয়। বলা চলে, দ্বিতীয়ার্ধেও ব্রাজিলের আক্রমণের ধারা বজায় ছিল। কিন্তু আর কোনও গোল আসছিল না। ম্যাচের ফলাফল তখনও ৩-০।

ম্যাচের ৮৬ মিনিটে, লুইসিয়াস ডিডসন অ্যাসিস্ট থেকে হাইতি ফরোয়ার্ড উইলসন ইসিডোরের নেওয়া বাঁ পায়ের শটটি সেভ করেন অ্যালিসন বেকার। অন্যদিকে আবার ৮৮ মিনিটের মাথায়, উইলসন ইসিডোরের অ্যাসিস্ট থেকে পাওয়া বলে, ৩৫ গজেরও বেশি দূর থেকে নেওয়া রিকার্দো আদের ডান পায়ের শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। 

কিন্তু শেষদিকে যেন আক্রমণের গতি একটু বাড়ায় হাইতি। সংযুক্তি সময়ে, ফের একটি সেভ করেন ব্রাজিল গোলকিপার অ্যালিসন। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া ডমিনিক সাইমনের নেওয়া শটটি রুখে দেন তিনি। ৯৩ মিনিটে, কর্নারের পর ডেরিক এতিয়েনের ক্রস থেকে আসা বলে স্ট্যানলি জঁ-জ্যাক পেনাল্টি বক্সের মাঝখান থেকে হেড করলেও বলটি ডানদিক দিয়ে বাইরে চলে যায়। তবে আর কোনও গোল আসেনি।

Scroll to load tweet…

শেষপর্যন্ত, ৩-০ গোলে হাইতিকে হারিয়ে নক-আউটের দিকে এক পা বাড়িয়ে রাখল ব্রাজিল। 

ফুটবল বিশ্বকাপের সব খবর সব আগে, শুধুমাত্র এশিয়ানেট নিউজ বাংলায়।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।