FIFA World Cup 2026: বিশ্বকাপে ৮৬ মিনিটের অভিশাপ! আফ্রিকার ফুটবলে যেন নতুন এক দুঃস্বপ্নের নাম হয়ে উঠেছে ম্যাচের ৮৬তম মিনিট। সাম্প্রতিক একাধিক আন্তর্জাতিক ম্যাচে ঠিক এই সময়েই গোল হজম করে বড় ধাক্কা খেয়েছে আফ্রিকার একাধিক শক্তিশালী দল।

FIFA World Cup 2026: বিশ্বকাপে ৮৬ মিনিটের অভিশাপ! আফ্রিকার ফুটবলে যেন নতুন এক দুঃস্বপ্নের নাম হয়ে উঠেছে ম্যাচের ৮৬তম মিনিট। সাম্প্রতিক একাধিক আন্তর্জাতিক ম্যাচে ঠিক এই সময়েই গোল হজম করে বড় ধাক্কা খেয়েছে আফ্রিকার একাধিক শক্তিশালী দল। ফলে সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয়েছে '৮৬তম মিনিটের অভিশাপ' নিয়ে তুমুল আলোচনা। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে আইভরি কোস্ট, ডিআর কঙ্গো এবং সেনেগালের মতো শক্তিশালী দলগুলির পরাজয়। তিন দলই রাউন্ড অফ ৩২ পর্বের ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াইয়ে থাকলেও ৮৬তম মিনিটের আশপাশে গোল হজম করে হার মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। শেষ বাঁশি বাজতে আর কয়েক মিনিট বাকি থাকায় এই গোলগুলি সমর্থকদের কাছে আরও বেশি হতাশাজনক হয়ে উঠেছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বিদায়ের পিছনে দায়ি ৮৬ মিনিটে হওয়া গোল

গতকাল, রাতে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ম্য়াচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-১ এগিয়ে ছিল সেনেগাল। কিন্তু ৮৬ মিনিটে রোমেলু লুকাকু-র গোলে সমতায় ফেরার পর সেনেগালের কপাল পুড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত এক্সট্রা টাইমের একেবারে শেষের দিকে টাইব্রেকার হওয়ার ঠিক আগে পেনাল্টি থেকে করা গোলে জিতে যায় বেলজিয়াম। বিদায় নেয় সেনেগাল। ঠিক তেমনই রাউন্ড অফ ৩২-এ কঙ্গোর বিরুদ্ধে ইংল্য়ান্ডের জয়সূচক গোলটি হ্য়ার কেন করেন ঠিক ম্যাচের ৮৬ মিনিটে। নরওয়ের বিরুদ্ধে আইভরি কোস্টও হেরে বিদায় নেন এরলিং হাল্যান্ডের ৮৬ মিনিটে করা গোলে।

আফ্রিকান নেটিজেনরা হতাশ

সোশ্যাল মিডিয়ায় আফ্রিকার ফুটবলপ্রেমীরা বিস্ময়, হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকে মজার ছলেও '৮৬তম মিনিটের অভিশাপ' নিয়ে অসংখ্য মিম ও পোস্ট শেয়ার করছেন। মুহূর্তের মধ্যেই বিষয়টি ফুটবল মহলে অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে ওঠে। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, ম্যাচের শেষদিকে শারীরিক ক্লান্তি, মানসিক চাপ এবং মনোযোগে ঘাটতি এই ধরনের গোল হজমের অন্যতম কারণ হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিপক্ষ সেট-পিস, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ অথবা ব্যক্তিগত ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।

সবচেয়ে হতাশ হয়তো আইভরি কোস্টের সমর্থকরা

বিশেষ করে আইভরি কোস্টের শেষ মুহূর্তের হার দেশের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা তৈরি করেছে। একইভাবে ডিআর কঙ্গোও ৮৬তম মিনিটে গোল খেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হাতছাড়া করেছে। সেনেগালও দীর্ঘ সময় ভালো খেলেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ ধরে রাখতে পারেনি। এই ধারাবাহিক পরাজয় শুধু ম্যাচের ফলই বদলে দেয়নি, বরং গ্রুপের অবস্থান, যোগ্যতা অর্জনের সম্ভাবনা এবং টুর্নামেন্টে এগিয়ে যাওয়ার লড়াইকেও কঠিন করে তুলেছে। ফলে প্রতিটি দেরিতে হজম করা গোলের মূল্য আরও বেড়ে গিয়েছে।

৮৬ মিনিটের 'অভিশাপ'

ম্যাচগুলির পর গোলরক্ষক ও রক্ষণভাগের ফুটবলারদের পারফরম্যান্স নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেক সমর্থকের দাবি, শেষ কয়েক মিনিটে দলগুলির আরও সংগঠিত ও সতর্ক থাকা উচিত ছিল। অন্যদিকে, কেউ কেউ এটিকে শুধুই দুর্ভাগ্য বলে মনে করছেন। ধারাভাষ্যকার ও ফুটবল বিশ্লেষকরাও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। তাঁদের মতে, ম্যাচ শেষ করার কৌশল বা 'গেম ম্যানেজমেন্ট'-এর ওপর আফ্রিকার দলগুলিকে আরও বেশি জোর দিতে হবে। শেষ মুহূর্তে লিড ধরে রাখার অনুশীলন ভবিষ্যতে এই ধরনের বিপর্যয় এড়াতে সাহায্য করতে পারে।