Belgium vs Senegal: কার্যত, মধ্যরাতে শিহরণ জাগানো ফুটবল! দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে সেই খেলায় কেউ জিততে পারে, প্রমাণ করল বেলজিয়াম। তাও আবার ম্যাচের একদম শেষদিকে এসে চূড়ান্ত নাটকীয়তা। এইভাবেও ফিরে আসা যায়? হ্যাঁ, রোমেলো লুকাকুরা সেটাই করে দেখালেন।
Belgium vs Senegal: বিশ্বকাপ ফুটবলের রাউন্ড অফ ৩২-র হাইভোল্টেজ ম্যাচে ভারতীয় সময় বুধবার রাতে, সিয়াটেল স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় বেলজিয়াম বনাম সেনেগাল (Belgium vs Senegal World Cup 2026)। আর এই ম্যাচে বেলজিয়াম খেলতে নামে ৪-২-৩-১ ছকে এবং সেনেগাল মাঠে নামে ৪-৩-৩ ফর্মেশনে। কিন্তু এই ম্যাচ যেন চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ম্যাচ হয়ে উঠল।

কার্যত, মধ্যরাতে শিহরণ জাগানো ফুটবল! দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে সেই খেলায় কেউ জিততে পারে, প্রমাণ করল বেলজিয়াম। তাও আবার ম্যাচের একদম শেষদিকে এসে চূড়ান্ত নাটকীয়তা। এইভাবেও ফিরে আসা যায়? হ্যাঁ, রোমেলো লুকাকুরা সেটাই করে দেখালেন। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে ৩-২ ব্যবধানে ম্যাচ জিতল বেলজিয়াম এবং পৌঁছে গেল রাউন্ড অফ সিক্সটিনে (Belgium vs Senegal live score)।

থিবাউট কুর্তোয়া, টিমোথি কাস্টেন, ব্র্যান্ডন মেচেলে, আর্থার থিয়েট, ম্যাক্সিম ডি কুইপার, ইউরি টিয়েলেম্যানস, হ্যান্স ভানাকেন, জেরেমি ডোকু, কেভিন ডি ব্রুয়েনা, লিয়েন্দ্রো ট্রসার্ড এবং চার্লস ডি কেটেলায়েরে শুরু করেন বেলজিয়ামের প্রথম একাদশে। অন্যদিকে, সেনেগালের হয়ে মাঠে নামেন মোরি দিয়াউ, ক্রেপিন দিয়াত্তা, পাথে সিস, মুসা নিয়াখাতে, ইসমাইল জ্যাকবস, হাবিব দিয়ারা, ইদ্রিসা গানা গুয়ে, পাপে গুয়ে, ইলিমান এনদিয়ে, ইসমাইলা সার এবং সাদিও মানে।

ম্যাচের ৯ মিনিটেই, প্রথম আক্রমণ তুলে আনে বেলজিয়াম। টিমোথি কাস্টেনের অ্যাসিস্ট থেকে বক্সের ডানদিক দিয়ে বেলজিয়াম ফরোয়ার্ড লিয়ান্দ্রো ট্রসার্ডের ডান পায়ের শটটি রুখে দেন সেনেগালের গোলকিপার মোরি দিয়াউ। খেলার ১৩ মিনিটে, প্রতি আক্রমণে উঠে আসে সেনেগাল। তবে ইসমাইলা সারের শট বারপোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। তারপরের মুহূর্তেই ফের জোরালো শট নেন ইসমাইলা সারে। কিন্তু এক্ষেত্রে লক্ষ্যভ্রষ্ট!

অন্যদিকে, ১৭ মিনিটের মাথায় আবার ইদ্রিসা গুয়ের শট সেভ করেন বেলজিয়ান গোলকিপার কুর্তোয়া। ১৮ মিনিটে, দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে উঠে আসে বেলজিয়াম। ইউরি টিয়েলেম্যানসের অ্যাসিস্ট থেকে বল পেয়ে ডান পায়ের শট নেন বেলজিয়াম মিডফিল্ডার কেভিন ডি ব্রুয়েনা। কিন্তু অনেকটা বাইরে দিয়ে চলে যায় তাঁর শট। তারপরেই ম্যাচের রঙ বদলে দেয় সেনেগাল।
খেলার ২৪ মিনিটে, অসাধারণ একটি মুভ তৈরি করে তারা। বক্সের বাঁদিক থেকে ঠিকানা লেখা ক্রস তোলেন সাদিও মানে এবং হেড করেন ইসমাইলা সার। কিন্তু সেই হেডারটি পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। তবে ফিরতি বলে ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে গোল করে যান সেনেগাল মিডিও হাবিব দিয়ারা। আর সেই সুবাদেই সেনেগাল ম্যাচে লিড নেয় ১-০ ব্যবধানে।

তারপরেও আক্রমণ জারি ছিল সেনেগালের তরফে। ম্যাচের ৩৭ মিনিটে, সাদিও মানের শট তালুবন্দি করেন বেলজিয়ামের গোলকিপার। এরপর ৪৫ মিনিটের মাথায়, ভালো আক্রমণ তুলে আনে বেলজিয়াম। ম্যাক্সিম ডি কুইপারের শট বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে সেভ করেন সেনেগাল গোলকিপার।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার একটু আগে বেলজিয়ান মিডফিল্ডার জেরেমি ডোকুকে ফাউল করেন সাদিও মানে। ফ্রি-কিকের নির্দেশ দেন রেফারি। তবে ম্যাক্সিম ডি কুইপারের নেওয়া সেই ফ্রি-কিক সেনেগাল মানবপ্রাচীরে প্রতিহত হয়। এরপর সুযোগ নষ্ট করেন কেভিন ডি ব্রুয়েনাও। শেষপর্যন্ত, প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ ফলাফল নিয়েই।

দ্বিতীয়ার্ধর শুরুতেই বেলাজিয়ামের প্রথম একাদশে। চার্লস ডি কেটেলায়েরের পরিবর্তে মাঠে নামেন রোমেলু লুকাকু। খেলার ৫১ মিনিটে, সুযোগ নষ্ট করে সেনেগাল। মিস করেন হাবিব দিয়ারা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে যেন সেনেগালের আক্রমণের তেজ অনেকটাই বেড়ে যায়। আর সেই সূত্রেই গোল। ম্যাচের ৫১ মিনিটে, মাঝমাঠ থেকে মুসা নিয়াখাতের থ্রু বলটি বুক দিয়ে দুর্দান্ত রিসিভ করেন ইসমাইলা সার এবং এরপর ডান পায়ের বিধ্বংসী শটে বলকে জালে জড়িয়ে দেন ইসমাইলা সার। সেনেগাল এগিয়ে যায় ২-০ ব্যবধানে।

তারপরেই বেলজিয়াম দলে দুটি পরিবর্তন আসে। জেরেমি ডোকুর বদলে মাঠে আসেন ডোডি লুকেবাকিও এবং কেভিন ডি ব্রুয়েনার জায়গায় আসেন নিকোলাস রাস্কিন। তবে ৬০ মিনিটের মাথায়, দোদি লুকেবাকিওর শট ব্লক হয় সেনেগাল ডিফেন্সে। দুটি গোলে এগিয়ে যেতেই সেনেগাল ডিফেন্স লাইন-আপে থাকা ক্রেপিন দিয়াত্তা, পাথে সিস, মুসা নিয়াখাতে এবং ইসমাইল জ্যাকবসরা আরও সতর্ক হয়ে যান।
![]()
অন্যদিকে, সেনেগাল দলেও একটি পরিবর্তন আসে। পাপে গুয়েয়ের বদলে মাঠে আসেন লামিন কামারা। কিন্তু নেমেই বেলজিয়ামের ফুটবলার লিয়ান্দ্রো ট্রসার্ডকে ফাউল করার অপরাধে হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। ৭৮ মিনিটের মাথায়, বেলজিয়ামের দোদি লুকেবাকিওর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তারপরেই ম্যাচে চূড়ান্ত নাটকীয় মোড়। কার্যত, খেলা ঘুরিয়ে দিল বেলজিয়াম। এইভাবেও ফিরে আসা যায়! আসলে লড়তে হয় শেষ মিনিট অবধি। তার ফল মেলে। প্রমাণ করল রুডি গার্সিয়ার ছেলেরা।

ম্যাচের ৮৬ মিনিটে, ম্যাক্সিম ডি কুইপারের পরিবর্ত হিসেবে নামা টমাস মিউনিয়েরের ক্রস থেকে আসা বলে রোমেলু লুকাকুর ডান পায়ের শট এবং গোল! লড়াইতে ফিরে আসে বেলজিয়াম। খেলা তখন রীতিমতো জমে উঠেছে। তারপরেই ফের আক্রমণ। সেনেগালকে চেপে ধরে বেলজিয়াম। ঠিক ৮৯ মিনিটের মাথায়, বক্সের বাঁদিক থেকে লিয়ান্দ্রো ট্রসার্ডের ভাসানো ক্রসে দুরন্ত হেড করে বলকে জালে জড়িয়ে দেন ইউরি টিয়েলেম্যানস। সমতা ফেরাল বেলজিয়াম। খেলার ফলাফল তখন ২-২।

শেষপর্যন্ত, নির্ধারিত সময়ে খেলার নিস্পত্তি না হওয়ায়, ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এরপর অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে দুই দলই রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে। তারই মাঝে সাদিও মানের পরিবর্তে মাঠে নামেন নিকোলাস জ্যাকসন। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে আবার কিছুটা আক্রমণাত্মক খেলা দেখা গেল। একদিকে বেলজিয়ামের নিকোলাস রাস্কিনের হেডার বাইরে চলে যায় এবং অন্যদিকে, সেনেগালের ইব্রাহিম এমবায়ের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
খেলার ১১৩ মিনিটে, একটি ভালো সেভ করেন বেলজিয়াম গোলকিপার। এরপরেই আবার শিহরণ। লামিন কামারা পেনাল্টি বক্সের ভিতর ফাউল করেন বেলজিয়াম ফুটবলার ইউরি টিয়েলেম্যানসকে। ভিএআর রিপ্লে দেখে রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। ম্যাচের ১২৫ মিনিটে, সেই পেনাল্টি থেকে গোল করেই দলকে জয় এনে দেন টিয়েলেম্যানস। শেষপর্যন্ত, ৩-২ গোলে ম্যাচ জিতে পরের রাউন্ডে চলে গেল বেলজিয়াম।
ফুটবল বিশ্বকাপের সব খবর সব আগে, শুধুমাত্র এশিয়ানেট নিউজ বাংলায়।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।