England vs DR Congo: দুরন্ত কামব্যাক এবং অসাধারণ জয়। আসলে অভিজ্ঞতা, অবশ্যই লড়াকু মানসিকতা এবং বুদ্ধিদীপ্ত ফুটবল। দারুণভাবেই ম্যাচে ফেরত এল ইংল্যান্ড। উপযুক্ত পরিকল্পনা, গতি এবং দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক। কঙ্গোর হাতে 'হ্যারি কেন' ধরাল ইংল্যান্ড! দুরন্ত কামব্যাক বুকায়ো সাকাদের, ২-১ গোলে জিতে পরের রাউন্ডে।

England vs DR Congo: দুরন্ত কামব্যাক এবং অসাধারণ জয়। আসলে অভিজ্ঞতা, অবশ্যই লড়াকু মানসিকতা এবং বুদ্ধিদীপ্ত ফুটবল। দারুণভাবেই ম্যাচে ফেরত এল ইংল্যান্ড। উপযুক্ত পরিকল্পনা, গতি এবং দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাককে সঙ্গী করেই ম্যাচ জয় হ্যারি কেনদের (England vs DR Congo live score)। তাই বলতেই হয়, কঙ্গোর হাতে 'হ্যারি কেন' ধরাল ইংল্যান্ড! দুরন্ত কামব্যাক বুকায়ো সাকাদের, ২-১ গোলে জিতে পরের রাউন্ডে চলে গেল তারা। এই ম্যাচে জোড়া গোল করে দলকে দুরন্ত জয় এনে দিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন। রাউন্ড অফ ৩২-র গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বুধবার রাতে, আটলান্টা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ড বনাম কঙ্গো। সেই ম্যাচেই ২-১ গোলে জয় ছিনিয়ে নিল ইংল্যান্ড (England vs DR Congo highlights)।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কঙ্গোর হাতে 'হ্যারি কেন' ধরাল ইংল্যান্ড! 

তবে খেলার শুরুতেই বড় ধাক্কা দেয় কঙ্গো। ম্যাচের ৭ মিনিটেই গোল পেয়ে যায় তারা। চ্যান্সেল এমবেম্বার অ্যাসিস্ট থেকে বক্সের বাঁদিক দিয়ে দিয়ে ডান পায়ের অনবদ্য শটে গোল করেন ব্রায়ান সিপেঙ্গা। সবাইকে রীতিমতো চমকে দিয়ে কঙ্গো এগিয়ে যায় ১-০ ব্যবধানে। 

সেই গোলের পরেই আরও জোরালো আক্রমণ শুরু করে তারা। নাথানেল এমবুকু, অ্যারন ওয়ান-বিসাকা এবং নোয়া সাদিকিরা একের পর অ্যাটাক তুলে আনতে শুরু করেন। গোটা মাঠ জুড়ে অসাধারণ ফুটবল উপহার দিতে থাকে আফ্রিকার এই দেশটি। কার্যত, ওপেন ফুটবল। 

তবে ইংল্যান্ডও পাল্টা কাউন্টার অ্যাটাক শুরু করে। খেলার ৩০ মিনিটে, জুড বেলিংহ্যামের শট সেভ করেন কঙ্গো গোলকিপার লিওনেল ম্পাসি। তবে একবার নয়। একাধিকবার দলের নিশ্চিত পতন রোধ করেন তিনি। ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত সব সেভ। তবে ৩২ মিনিটের মাথায়, কঙ্গো স্ট্রাইকার ব্রায়ান সিপেঙ্গার শট অনেকটা বাইরে দিয়ে চলে যায়। ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে কঙ্গোর এই আক্রমণাত্মক ফুটবল নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। 

YouTube video player

দুরন্ত কামব্যাক বুকায়ো সাকাদের

ম্যাচের ৩৫ মিনিটে, ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার নিকো ও'রাইলির শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপরেই মার্কাস র‍্যাশফোর্ডের শট ব্লক হয় কঙ্গো ডিফেন্সে। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে, ননি মাদুয়েকের ক্রস থেকে ভেসে আসা বলে হেড করেন ইংল্যান্ড ফরোয়ার্ড বেলিংহ্যাম। কিন্তু এক্ষেত্রেও অনবদ্য সেভ করেন লিওনেল ম্পাসি। এরপর হ্যারি কেনের শক্তিশালী শটও রুখে দেন তিনি। শেষপর্যন্ত, প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ ফলাফল নিয়েই।

দ্বিতীয়ার্ধে খেলা ধরে নেয় ইংল্যান্ড। মাঝমাঠের দখল নিতে শুরু করে তারা। ৫১ মিনিটে, র‍্যাশফোর্ডের শট একটুর জন্য বাইরে চলে যায়। এরপর ৫৪ মিনিটে, ফের হেডার সেই র‍্যাশফোর্ডের। কিন্তু এবারও বাইরে! ম্যাচের ৬১ মিনিটে, দলে পরিবর্তন করতে বাধ্য হন ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেল। কারণ, সময় কমে আসছিল। খেলায় গতি বাড়াতেই হত। তাই ননি মাদুয়েকের জায়গায় বুকায়ো সাকা এবং মার্কাস র‍্যাশফোর্ডের জায়গায় নামেন অ্যান্থনি গর্ডন। 

ম্যাচের ৬৩ মিনিটে, কঙ্গো ফরোয়ার্ড নাথানায়েল মবুকুর শট প্রতিহত হয়। এক্ষেত্রে অ্যাসিস্ট করেন গোলস্কোরার ব্রায়ান সিপেঙ্গা। এরপর কঙ্গোর প্রথম একাদশেও একটি পরিবর্তন আসে। নাথানেল এমবুকুর পরিবর্তে মাঠে আসেন মেশ্যাক এলিয়া। কঙ্গো ডিফেন্সে গোটা ম্যাচে লড়ে গেলেন মাসুয়াকু, তুয়ানজেবে এবং ওয়ান-বিসাকারা। একের পর ইংল্যান্ডের আক্রমণ তখন প্রতিহত হচ্ছে কঙ্গোর রকসলিড ডিফেন্সে। 

২-১ গোলে জিতে পরের রাউন্ডে ইংল্যান্ড

YouTube video player

কিন্তু বিপক্ষ দলটার নাম যে ইংল্যান্ড। এটা তো মাথায় রাখতে হবে। আধুনিক ফুটবল এবং অভিজ্ঞতাতেই তারা বাজিমাৎ করল খেলার ৭৫ মিনিটে। পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামা অ্যান্থনি গর্ডনের ক্রস থেকে দুরন্ত হেডে গোল করে যান হ্যারি কেন এবং ইংল্যান্ড ম্যাচে সমতা ফেরায়। খেলার ফলাফল তখন ১-১। এরপর ৭৯ মিনিটের মাথায়, এলিয়ট অ্যান্ডারসনের শট উপর দিয়ে উড়ে যায়। এক্ষেত্রেও সেই অ্যাসিস্ট করেন হ্যারি কেন। ৮৫ মিনিটে, অ্যান্থনি গর্ডনের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে তারপরেই কঙ্গোর আক্রমণ। মেশাক এলিয়ার শট সেভ করেন ইংল্যান্ড গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ড। উল্লেখ্য, গোটা ম্যাচেই তিনি বেশকিছু ভালো সেভ করেন। 

অন্যদিকে, ম্যাচের ৮৬ মিনিটে, বেলিংহ্যামের শট আবার রুখে দেন কঙ্গো গোলকিপার। শেষদিকে দুই দলই একের পর অ্যাটাক করতে থাকে। এক্ষেত্রে প্রশংসা করতে হয় ইংল্যান্ড ডিফেন্স লাইন-আপের। কনসা, ও'রেইলি এবং অ্যান্ডারসনরা সর্বদা সজাগ ছিলেন। 

কিন্তু সবাই যখন প্রায় ধরে নিয়েছে যে, এই ম্যাচ হয়ত টাইব্রেকারেই যাবে। ঠিক তখনই হ্যারি কেন ম্যাজিক। সেই অ্যান্থনি গর্ডনের অ্যাসিস্ট থেকেই আবার গোল। খেলার ৮৬ মিনিটে, ঠিক বক্সের ডানদিক থেকে ডান পায়ের বিধ্বংসী শটে চোখধাঁধানো গোল করেন হ্যারি কেন এবং ইংল্যান্ড ম্যাচে লিড নেয় ২-১ ব্যবধানে। সেই মুহূর্তে ম্যাচ জেতানো জোড়া গোলের নায়ক হ্যারি কেন। গোটা গ্যালারি জুড়ে শুরু সেলিব্রেশন।

YouTube video player

অসাধারণ গোল এবং ইংল্যান্ডের দুরন্ত কামব্যাক। যারা একটু আগেও ইংল্যান্ডের পরাজয় চাইছিলেন, তাদের এক লহমায় চুপ করিয়ে দিলেন হ্যারি কেন। দারুণভাবে এবং দাপটের সঙ্গেই ম্যাচে ফেরত এল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। এরপর কঙ্গো দলে পরিবর্তন করেও কোনও লাভ হয়নি। আর্থার মাসুয়াকুর জায়গায় মাঠে নামেন জোরিস কায়েম্বে। 

কিন্তু চেষ্টা করেও কঙ্গো আর লড়াইতে ফিরতে পারেনি। শেষপর্যন্ত, ২-১ গোলে কঙ্গোকে হারিয়ে রাউন্ড অফ সিক্সটিনে পৌঁছে গেল ইংল্যান্ড।

ফুটবল বিশ্বকাপের সব খবর সব আগে, শুধুমাত্র এশিয়ানেট নিউজ বাংলায়।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।