ফুটবলে হলুদ কার্ড ও লাল কার্ড দেখানো কবে থেকে চালু হয়? ইতিহাস জানলে অবাক হবেন
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এখন শেষ পর্যায়ে। ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে ফুটবলের উত্তেজনা তুঙ্গে। এই সময় অনেকেরই মনে প্রশ্ন জাগে—ফুটবলে ইয়েলো কার্ড বা হলুদ কার্ড ও রেড কার্ড বা লাল কার্ডের অর্থ কী?

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এখন শেষ পর্যায়ে। ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে ফুটবলের উত্তেজনা তুঙ্গে। এই সময় অনেকেরই মনে প্রশ্ন জাগে—ফুটবলে ইয়েলো কার্ড বা হলুদ কার্ড ও রেড কার্ড বা লাল কার্ডের অর্থ কী? কেন এগুলো দেখানো হয়? চলুন জেনে নেওয়া যাক।

হলুদ কার্ড কী?
হলুদ কার্ড হল রেফারির পক্ষ থেকে একজন খেলোয়াড়কে দেওয়া সরকারি সতর্কবার্তা। সাধারণত নিচের কারণে ইয়েলো কার্ড দেখানো হয়—
- বিপজ্জনক ট্যাকল করা
- খেলোয়াড়সুলভ আচরণ না করা
- রেফারির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক প্রতিবাদ
- ইচ্ছাকৃতভাবে সময় নষ্ট করা
- বারবার নিয়ম ভঙ্গ করা
লাল কার্ড কী?
রেড কার্ডের অর্থ হল মাঠ থেকে সঙ্গে সঙ্গে বহিষ্কার। কোনও খেলোয়াড় রেড কার্ড দেখলে তাকে অবিলম্বে মাঠ ছাড়তে হয় এবং তার দলকে ম্যাচের বাকি সময় একজন কম খেলোয়াড় নিয়ে খেলতে হয়। একই ম্যাচে কোনও খেলোয়াড় যদি দুটি ইয়েলো কার্ড পান, তাহলে দ্বিতীয় ইয়েলো কার্ডের সঙ্গে সঙ্গে সেটি রেড কার্ডে পরিণত হয়। ফলে ওই খেলোয়াড়কে মাঠ ছাড়তে হয়।
ইয়েলো কার্ড বা হলুদ কার্ড ও রেড কার্ড বা লাল কার্ড চালু হল কেন?
বিশ্বজুড়ে শাস্তির নিয়মকে একরকম ও সহজবোধ্য করার জন্য ইয়েলো কার্ড বা হলুদ কার্ড ও রেড কার্ড বা লাল কার্ড ব্যবস্থা চালু করে। প্রথমবার এই ব্যবস্থা ১৯৭০ সালের ফিফা বিশ্বকাপে ব্যবহার করা হয়। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনালে রেফারি এবং আর্জেন্টিনার অধিনায়ক আন্তোনিও রাট্টিনের মধ্যে ভাষাগত বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনাই একটি সর্বজনগ্রাহ্য ভিজ্যুয়াল সংকেত ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা সামনে আনে।
কার মাথা থেকে এসেছিল এই ভাবনা?
ব্রিটিশ রেফারি কেন অ্যাস্টন একদিন ট্রাফিক সিগন্যাল দেখে এই ধারণা পান। তাঁর মতে—
হলুদ (Yellow) মানে সতর্ক হও।
লাল (Red) মানে থামো বা খেলা থেকে বেরিয়ে যাও।
পরে ফিফা এই ধারণা গ্রহণ করে এবং আজ তা বিশ্ব ফুটবলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।