Drug Trafficking: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রাক্তন আন্ডার সেক্রেটারি আর ভি এস মণি একটি বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ভারতে খেলতে আসা পাকিস্তানি ক্রিকেট দল ড্রাগ পাচার করত। তিনি শোয়েব আখতার ও মহম্মদ আসিফের নামও উল্লেখ করেছেন। মণির আরও দাবি, এটা পাকিস্তানের সরকারি নীতি ছিল এবং তার বিরোধিতা করায় কোচ বব উলমারকে প্রাণ হারাতে হয়েছিল।
Drug Trafficking: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রাক্তন আন্ডার সেক্রেটারি আর ভি এস মণি অভিযোগ করেছেন যে, ভারতে খেলতে আসা পাকিস্তানি ক্রিকেট দল এবং তাদের প্রতিনিধিরা নিয়মিত ড্রাগ পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল। মণি সরাসরি প্রাক্তন ক্রিকেটার শোয়েব আখতার এবং মহম্মদ আসিফের নাম উল্লেখ করেছেন। প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালে নিষিদ্ধ স্টেরয়েড ন্যানড্রোলন নেওয়ার দায়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) এই দু'জনকেই নির্বাসিত করেছিল।
২০০৬ সালের ডোপিং কেলেঙ্কারি
ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়ার পর, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) একটি ট্রাইব্যুনাল শোয়েব আখতারকে দুই বছরের জন্য এবং আসিফকে এক বছরের জন্য নির্বাসিত করে। দুজনের বিরুদ্ধেই নিষিদ্ধ অ্যানাবলিক স্টেরয়েড ন্যানড্রোলন ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিল। এরপর ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষে, PCB-র অভ্যন্তরীণ ডোপ টেস্টে এই দুই খেলোয়াড়ের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। সেই সময়, ভারতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি চলাকালীন জয়পুরে ১৭ অক্টোবর, শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচের আগেই তাদের দল থেকে বাদ দেওয়া হয়।
'পাকিস্তানি দল ড্রাগ পাচার করত': আরভিএস মণি
২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে কর্মরত মণি সংবাদসংস্থা ANI-কে জানিয়েছেন, "আমরা পাকিস্তানি ক্রিকেটার শোয়েব আখতার এবং মহম্মদ আসিফের একটি ঘটনা রিপোর্ট করেছিলাম। ওরা নিজেরাই ড্রাগ আনার কথা স্বীকার করার পর, পাকিস্তানের হাই কমিশনার ওদের ফেরত পাঠিয়ে দেন। এটাই ছিল ওদের আড়াল। যখনই পাকিস্তানি ক্রিকেট দল বা প্রতিনিধিরা ভারতে আসত, তারা এখানে ড্রাগ পাচার করত। আসলে ভারতে ড্রাগ পাঠানো পাকিস্তানের একটি সরকারি নীতি। ওরা পরিচিত মুখ, হাই-প্রোফাইল লোক। দলের অন্য অনেকের নাম হয়ত সামনে আসেনি, কিন্তু পুরো দলটাই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং তারা এই কাজ করত।"
বব উলমারের মৃত্যু ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের যোগসাজশের অভিযোগ
মণি আরও অভিযোগ করেন যে, পাকিস্তানের প্রাক্তন কোচ বব উলমারের মৃত্যুর সঙ্গেও এই সবকিছুর যোগ রয়েছে। কারণ, তিনি ক্রিকেটারদের এই ড্রাগ পাচারের বিরোধিতা করেছিলেন। ৫৮ বছর বয়সী বব উলমার ২০০৭ সালের ১৮ মার্চ, জামাইকার কিংস্টোনে মারা যান। ২০০৭ সালে, ক্রিকেট বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের অপ্রত্যাশিত হারের কয়েক ঘণ্টা পর তাঁকে হোটেলের ঘরে অচৈতন্য অবস্থায় পাওয়া যায় এবং পরে মৃত ঘোষণা করা হয়।
মণি দাবি করেন যে, সেই সময়ে (২০০৬ সাল) প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীনস্থ ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির একটি অনুমান অনুযায়ী, ভারতে জঙ্গি হামলার জন্য যে অর্থের প্রয়োজন হত, তার প্রায় ৩০%-ই আসত এই ড্রাগ ব্যবসার মাধ্যমে।
আরভিএস মণির কথায়, “তাদের দলের কোচ বব উলমার, যিনি পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের এই ড্রাগ পাচারের বিরোধিতা করেছিলেন, তাই তাঁকে বেশ সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে হত্যা করা হয়। সব ঘটনাগুলোকে একটি সূত্রে বাঁধতে হবে। পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা ড্রাগ আনত। এবং সেই সময়ের ডিআইএ-র অনুমান অনুযায়ী, ভারতে জঙ্গি হামলার ৩০% অর্থায়ন ড্রাগ থেকেই আসত।”
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


