Germany vs Paraguay: নির্ধারিত সময় পর্যন্ত খেলার ফলাফল ছিল ১-১। ফলে, ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। আর সেখানেই বাজিমাৎ করল প্যারাগুয়ে। অপ্রতিরোধ্য, অপরাজেয় এবং অসম লড়াই। নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক জয়। গোটা ম্যাচে বিধ্বংসী গোলকিপিং করলেন অরল্যান্ডো গিল।
Germany vs Paraguay: চলতি বিশ্বকাপে রাউন্ড অফ ৩২-র লড়াইতে বোস্টন স্টেডিয়ামে ভারতীয় সময় সোমবার মধ্যরাতে, মুখোমুখি হয় জার্মানি বনাম প্যারাগুয়ে (germany vs paraguay)। সেই ম্যাচেই ইতিহাস লিখল প্যারাগুয়ে! টাইব্রেকারে জার্মানিকে হারিয়ে পরের রাউন্ডে, ম্যাচের নায়ক অরল্যান্ডো গিল (Germany vs Paraguay FIFA World Cup 2026)।

নির্ধারিত সময় পর্যন্ত খেলার ফলাফল ছিল ১-১। ফলে, ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। আর সেখানেই বাজিমাৎ করল প্যারাগুয়ে। অপ্রতিরোধ্য, অপরাজেয় এবং অসম লড়াই। নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক জয়। গোটা ম্যাচে বিধ্বংসী গোলকিপিং করলেন অরল্যান্ডো গিল।
শক্তিশালী জার্মানির আক্রমণকে রুখে দিয়ে নতুন মাইলস্টোন রচনা করলেন তারা। অসাধারণ ফুটবল এবং অনবদ্য জয়। খেলার একেবারে শুরুতেই একটি আক্রমণ তুলে আনে প্যারাগুয়ে। জুলিও এনসিসোর ডান পায়ের শটটি ব্লক হয়। এরপরেই জুনিয়র অ্যালোনসোর শট সেভ করেন জার্মান গোলকিপার ম্যানুয়েল ন্যুয়ের। তবে পাল্টা অ্যাটাকে আসার চেষ্টা করে জার্মানরাও। খেলার ৮ মিনিটে, ফ্লোরিয়ান উইর্টজের শট অনেকটা বাইরে দিয়ে চলে যায়। নিঃসন্দেহে যথেষ্ট উত্তেজনাপূর্ণ খেলা হয়।

ম্যাচের ৩৩ মিনিটে, অ্যালেকজান্ডার পাভলোভিচের অ্যাসিস্ট থেকে জার্মান ফরোয়ার্ড কাই হ্যাভার্টজের বাঁ পায়ের শট প্রতিহত হয়। কার্যত, জার্মান আক্রমণের ঝড় চলছে তখন। কিন্তু তার মাঝেও রীতিমতো বুক চিতিয়ে লড়াই চালিয়ে গেল প্যারাগুয়ে ডিফেন্স। জুনিয়র অ্যালোনসো, ক্যানালে এবং গোমেজরা সর্বদা সতর্ক ছিলেন। তাছাড়া ৪-৫-১ ছকে খেলতে নামে প্যারাগুয়ে। ফলে, মাঝমাঠকে তারা ডিফেন্সিভ স্ক্রিন হিসেবে ব্যবহার করে। আর তার ফলেই এল সাফল্য।

ম্যাচের ৪২ মিনিটে, মাতিয়াস গালারজার ক্রস থেকে অনবদ্য হেডারে গোল করেন প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার জুলিও এনসিসো। পরাস্ত হলেন ম্যানুয়েল ন্যুয়ের। আর সেই সুবাদেই খেলায় ১-০ গোলে এগিয়ে যায় তারা। ম্যাচ তখন রীতিমতো জমে উঠেছে। কিন্তু চেষ্টা জারি রাখে জার্মানি। জশুয়া কিমিখের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। শেষপর্যন্ত, প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ ফলাফল নিয়েই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বদল আসে জার্মানির প্রথম একাদশে। ফেলিক্স নেমেচার পরিবর্তে মাঠে নামেন লিয়ন গোরেৎজকা। ৫০ মিনিটের মাথায়, জুলিও এনসিসোর শট এগিয়ে এসে রুখে দেন ম্যানুয়েল ন্যুয়ের। তবে ম্যাচের ৫৪ মিনিটে, খেলায় ফেরে জার্মানি। ফ্লোরিয়ান উইর্টজের ক্রস থেকে ভেসে আসা বলে হেড করেন কাই হ্যাভার্টজ এবং গোল। সেই গোলের সুবাদেই সমতা ফেরায় জার্মানি। ম্যাচের ফলাফল তখন ১-১।

এরপর একটি পরিবর্তন আসে প্যারাগুয়ের প্রথম একাদশে। গ্যাব্রিয়েল আভালোসের জায়গায় আসেন গুস্তাভো ক্যাবলেরো। অন্যদিকেম চোটের কারণে মাঠ ছাড়েন জুলিও এনসিসো। তাঁর বদলে নামেন মউরিসিও। আর মাঠে নেমেই একটি ভালো হেড করেন গুস্তাভো ক্যাবলেরো। যদিও সেটি তালুবন্দি করেন জার্মান গোলকিপার। এরপর মাঠে নামেন জার্মান অ্যাটাকিং মিডিও মুসিয়ালা। উঠে যান দেনিজ উন্দাভ।

অন্যদিকে, ম্যাচের ৬৫ মিনিটে, ফাউল করার অপরাধে হলুদ কার্ড দেখেন প্যারাগুয়ের ফুটবলার আন্দ্রেস কুবাস। খেলার ৬৬ মিনিটে, ফ্রি-কিক থেকে শট নেন জার্মান মিডিও লেরয় সানে। যদিও বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া সেই ফ্রি-কিক প্যারাগুয়ের ডিফেন্সে প্রতিহত হয়। ৭০ মিনিটের মাথায়, মউরিসিওর ক্রস থেকে গুস্তাভো গোমেজের হেডার একটুর জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
ম্যাচের ৭৮ মিনিটে, দুরন্ত সেভ করেন প্যারাগুয়ের গোলকিপার অরল্যান্ডো গিল। কাই হ্যাভার্টজের হেডার বাঁদিকে শরীর ছুঁড়ে দিয়ে রুখে দেন তিনি। তবে খুব দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে উঠে আসছিল প্যারাগুয়ে। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে, লিয়ন গোরেৎজকার হেডার বাইরে চলে যায়।

ইনজুরি টাইমে প্যারাগুয়ের আক্রমণ, তবে মিগেল আলমিরনের বাঁ পায়ের শট প্রতিহত হয়। শেষপর্যন্ত, নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হয় ১-১ ফলাফল নিয়েও। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। তবে তখনই যেন নাটকীয় মোড়। জার্মানির হয়ে গোল করেন জোনাথন তাহ। কিন্তু ভিএআর রিপ্লে দেখে রেফারি গোল বাতিল করে দেন। ফলে, অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধেও ফলাফল ছিল সেই ১-১। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে জশুয়া কিমিখের শট রুখে দেন প্যারাগুয়ের গোলকিপার।
কিন্তু কোনও গোল হয়নি। এরপর শুরু হয় টাইব্রেকার। পুরো ম্যাচে দাপুটে গোলকিপিং করে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে পৌঁছে গেছিলেন প্যারাগুয়ের গোলকিপার অরল্যান্ডো গিল। হিমশীতল মানসিকতাকে সঙ্গী করেই সেটাকে কাজে লাগালেন টাইব্রেকারে।

টাইব্রেকারের হাইলাইটস
জার্মানিঃ
কাই হ্যাভার্টজ (মিস)। বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে সেভ করলেন অরল্যান্ডো গিল।
জশুয়া কিমিচ (গোল)। পরাস্ত হলেন অরল্যান্ডো গিল।
জামাল মুসিয়ালা (গোল)। পরাস্ত হলেন অরল্যান্ডো গিল।
নিক ভল্টেমাডে (মিস)। বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে সেভ করলেন অরল্যান্ডো গিল।
নাদিয়েম আমিরি (গোল)। পরাস্ত হলেন অরল্যান্ডো গিল।
জোনাথন তাহ (মিস)। বল অনেকটা উপর দিয়ে চলে যায়।

প্যারাগুয়েঃ
মউরিসিও (গোল)। পরাস্ত হলেন ম্যানুয়েল ন্যুয়ের।
গুস্তাভো গোমেজ (গোল)। পরাস্ত হলেন ম্যানুয়েল ন্যুয়ের।
মাতিয়াস গালারজা (গোল)। পরাস্ত হলেন ম্যানুয়েল ন্যুয়ের।
আন্তোনিও সানাব্রিয়া (মিস)। বল বাইরে চলে যায়।
ফাবিয়ান বালবুয়েনা (মিস)। সেভ করেন ম্যানুয়েল ন্যুয়ের।
হোসে কানাল (গোল)। পরাস্ত হলেন ম্যানুয়েল ন্যুয়ের।
শেষপর্যন্ত, টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জার্মানিকে হারিয়ে রাউন্ড অফ সিক্সটিনে পৌঁছে গেল প্যারাগুয়ে। সত্যিই নতুন রুপকথা, বিশ্বকাপে ইতিহাস লিখল প্যারাগুয়ে।
ফুটবল বিশ্বকাপের সব খবর সব আগে, শুধুমাত্র এশিয়ানেট নিউজ বাংলায়।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

