করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে দেশ জুড়ে চলছে ২১ দিনের লকডাউন। সামাাজিক দূরত্বই এই ভাইরাস থেকে বাঁচার একমাত্র পথ বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। ক্রীড়াবিদরা দিনের পর দিন ঘরবন্দি থাকায় বন্ধ রয়েছে অনুশীলন। দীর্ঘদিন অনুশীলনের বাইরে থাকায় এবার অনুশীলনের অনুমতি চেয়ে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী কিরেণ রিজিজুকে চিঠিই লিখে বসলেন স্প্রিনটার হিমা দাস। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই অনুশীলন করবে বলে জানিয়েছেন হিমা।

আরও পড়ুনঃ করোনা মোকাবিলায় আরও ১৭ লক্ষ টাকাা দিল সিএবি, আগে দিয়েছিল ২৫ লক্ষ

বর্তমানে পাটিয়ালায় এনআইএস হস্টেলে গৃহবন্দি হয়ে রয়েছেন হিমা সহ অন্যান্য অ্যাথলিটরা। ফলে বাইরে বেরিয়ে অনুশীলন করার কোনও সুযোগই নেই। তাই ঘর থেকে বেরিয়ে হোস্টেলের মাঠেই অনুশীলন করার অনুমতি চেয়ে কিরেণ রিজিজুকে চিঠি দিয়েছে  হিমা সহ অন্যান্য অ্যাথলিটরা। হিমারা সঙ্গে পেয়ে গিয়েছেন ভারতীয় অ্যাথলেটিক্স দলের সহকারী প্রধান কোচ রাধাকৃষ্ণন নায়ারকে। চিঠিতে হিমা যুক্তি দিয়েছেন, যেহেতু হস্টেল প্রাঙ্গনে এই মুহূর্তে বাইরের থেকে কেউ ঢুকতে পারছেন না, ফলে সংক্রমণের সম্ভাবনাও নেই।  চিঠিতে বলা হয়েছে, অনুশীলনের সময়ে অ্যাথলিটেরা একে অপরের থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবে।’’ পাশাপাশি চিঠিতে এটাও বলা হয়েছে, যদি হস্টেলের বাইরে বেরিয়ে অনুশীলনের অনুমতি না দেওয়া হয়, তা হলে অ্যাথলিটদের যেন বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু দেশে এই মুহূর্তে লকডাউন চলছে। এই পরিস্থিতিতে যে যেখানে রয়েছে, তাঁকে সেখানেই থাকতে বলা হয়েছে। ফলে বাড়ি যাওয়া সম্ভব নয়। হিমা ও অন্যান্য অ্যাথলিটদের আশা তারা কয়েক দিনের মধ্যেই উত্তর পেয়ে যাবেন। 

আরও পড়ুনঃকরোনা মোকাবিলায় অভিনব উদ্যোগ,বিশ্বকাপ ফাইনালের জার্সি নিলামে তুললেন জস বাটলার

আরও পড়ুনঃকরোনা যুদ্ধে সামিল ভারতীয় ক্রিকেটাররা, একঝলকে দেখে নিন কে কত অনুদান দিলেন.

চিঠিতে হিমা আরও উল্লেখ করেছেন,অনেক অ্যাথলিট ঘরের মধ্যে ছোট জায়গায় অনুশীলন করতে পারেন। কিন্তু যারা দৌড়ায় বা ডিসকাস ও জ্যাভলিন ছোড়ে তাদের শরীরের স্ট্রেংথ ও শরীরে রক্তসঞ্চালন পদ্ধতি ধারাবাহিক ভাবে অনুশীলনের মাধ্যমে তৈরি করতে হয়। গত দু’বছর ধরে এই অ্যাথলিটেরা এ ভাবেই দিনে তিন বার করে অনুশীলন করছে। এখন হঠাৎ এ ভাবে অনুশীলন বন্ধ করে দিলে সমস্যায় পড়বে অ্যাথলিটেরা। তখন ফের নতুন করে ওদের শুরু করতে হবে। কিন্তু হিমার চিঠির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। যেভাবে দেশ জুড়ে করোনা ভাইরাস নিজের থাবা বিস্তার করছে তাতে অ্যাথলিটদের অনুশীলন করতে দেওয়াটা ঝুঁকি সাপেক্ষ হয়ে যাবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। এছাড়া হিমাদের অনুমতি দিলে দেশ জুড়ে অন্যানন্য অ্যাথলিটরাও যদি একই পথে হাঁটেন তাহলে আরও বড় সমস্যা তৈরী হবে। এখন কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রী কিরেণ রিজিজুর সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে হিমারা।