করোনা ভাইরাসের জেরে আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল পিছিয়ে যাচ্ছে টোকিও অলিম্পিকের দিনক্ষণ। তবে কবে থেকে শুরু হবে অলিম্পিক তা নিয়ে এতদিন কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি। তবে জল্পনা চলছিল খুব শ্রীঘ্রই অলিম্পিকের পরিবর্তী সময়সূচি। অবশেষে  
টোকিও অলিম্পিকের দিনক্ষণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি। সোমবার জাপানের অলিম্পিক সংস্থার কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল আইওসি। আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয় এই বছরে যেমন সময়সূচি ছিল আগামী বছরই প্রায় একই সময়ে হতে চলেছে অলিম্পিক।  এ বছরের মতো আগামী বছরও অলিম্পিক শুরু হবে জুলাই মাসে। ২৩ জুলাই শুরু হয়ে শেষ হবে ৮ আগস্ট। অলিম্পিকের ক্রীড়াসূচিতে কোনও কাটছাঁট করা হচ্ছে না। শীঘ্রই সরকারিভাবে এই সিদ্ধান্ত ঘোষিত হবে। আধুনিক অলিম্পিকের ১২৪ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার ১ বছর পিছিয়ে দিতে হল টুর্নামেন্ট। 

আরও পড়ুনঃকরোনার জেরে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন ইসিবি, কোপ পড়তে পারে ইংল্যান্ড ক্রিকেটারদের বেতনে
 
এবছরের অলিম্পিক আগামী ২৪ জুলাই থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের জন্য তা স্থগিত করে দিতে হয়েছে। গোটা বিশ্বেই ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছে করোনা। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৭ লক্ষ। মৃত্যু হয়েছে ৩৪ হাজারের বেশি লোকের। টোকিওতেও করোনার প্রভাব যথেষ্ঠ লক্ষণীয়। এই পরিস্থিতিতে জাপানের স্থানীয়রাদেরও দাবি ছিল, অলিম্পিক বাতিল করতে হবে। তাঁদের ধারণা, অলিম্পিকের জন্য হাজার হাজার মানুষ জাপানে গেলে তাঁদের সঙ্গে করোনাও ছড়িয়ে পড়তে পারে। কারণ, প্রশাসনের পক্ষে এত মানুষের দিকে নজর রাখা সম্ভব নয়। করোনার জেরে বিশ্বের বৃহত্তম স্পোর্টিং ইভেন্ট বাতিল করার দাবি জানাচ্ছিল অংশগ্রহণকারী দেশগুলিও। সেই সব দাবি মেনে গত সপ্তাহেই অলিম্পিক স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অলিম্পিকের পিছনে এখনও পর্যন্ত ১৩ হাজার কোটি ডলার খরচ করেছে জাপান।  ৩ হাজার কোটি টিকিট এবং স্পনসরদের কাছ থেকে তোলা সম্ভব হয়েছে। আয়োজকদের ধারণা, আগামী বছর একই সময়ে অলিম্পিক আয়োজন করলে টিকিট এবং স্পনসরদের টাকা ফেরত দিতে হবে না। কম হবে লোকসান। সে সেকারণেই একই সময় ইভেন্ট আয়োজনের ভাবনা।

আরও পড়ুনঃময়দানের অন্যান্য ক্লাবের মালিদের ত্রাণ সামগ্রি দিল ইষ্টবেঙ্গল

আরও পড়ুনঃটেনিস থেকে বিশ্রাম, করোনা যুদ্ধে দরীদ্রদের মুখে অন্ন তুলে দিচ্ছেন কেটি সোয়ান

অলিম্পিক পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে আগই সমর্থন করেছিল বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের অ্যাথলিটরা। এবার অলিম্পিকের পরবর্তী সময়সূচি নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অ্যাথলিটরা। কারণ করোনা ভাইরাসের প্রভাবের জেরে বন্ধ রয়েছে সকল অ্যাথলিটদের অনুশীলন। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে তা নিয়ে প্রশ্ন চিহ্ন রয়েই যাচ্ছে। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর ফের তৈরি হওয়ার জন্য কিছুটা সময় আশা করেছিলেন সকলে। পরের বছর অলিম্পিকের দিনক্ষণ ঠিক করায় স্বস্তিতে অ্যাথলিটরা।