বিশ্ব জুড়ে মারণ করোনা ভাইরাসের থাবার জেরে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে ক্রীড়া ক্ষেত্রে। বিশ্ব জুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৭ লক্ষ। মৃত্যু হয়েছে ৩৪ হাজারের বেশি মানুষের। ফুটবলে বেশি প্রভাব ফললেও, ক্রিকেটের ক্ষেত্রেও করোনা ভাইরাসের প্রভাব কম নয়। ক্ষতির সম্মুখীন একাধিক দেশের ক্রিকেট গভর্নিং বডি। ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে চলেছে ইংল্যান্ডের ক্রিকেট গভর্নিং বডি। যার জেরে এবার বড়সড় কোপ পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে জো রুট, বেন স্টোকসদের পারিশ্রমিকে। কারণটা খুবই স্বাভাবিক। বিশ্ব মহামারী করোনা আতঙ্কে ইতিমধ্যেই বাতিল হয়েছে রুটদের শ্রীলঙ্কা সফর। ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড সেদেশে ঘরোয়া টুর্নামেন্ট সহ সমস্ত পেশাদার ক্রিকেট স্থগিত রেখেছে মে অবধি। অর্থাৎ, তিনমাস বন্ধ ক্রিকেট।

আরও পড়ুনঃময়দানের অন্যান্য ক্লাবের মালিদের ত্রাণ সামগ্রি দিল ইষ্টবেঙ্গল

আরও পড়ুনঃকরোনার প্রকোপ ঠেকাতে হাত বাড়ালেন তারকারা, অর্থদান করলেন এবার বিরুষ্কা

গতিপ্রকৃতি যা তাতে আগামিদিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের ইংল্যান্ড সফর নিয়ে দেখা দিয়েছে ঘোর সংশয়। ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্গত দু’টি টেস্ট সিরিজের ভবিষ্যত নিশ্চিত নয়। এরপর জুন-আগস্ট সংক্ষিপ্ত ফর্ম্যাটের সিরিজ খেলতে রুটদের দেশে যাওয়ার কথা অস্ট্রেলিয়ার। কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এসব কিছুই সম্ভব নয়। আর বাস্তবে যদি ঘরের মাঠে এই সিরিজগুলি ইসিবি আয়োজন করতে না পারে তাহলে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে তাঁরা। ফলস্বরূপ কিছুটা বাধ্য হয়েই ইসিবি’কে রাশ টানতে হবে ক্রিকেটারদের বেতন দেওয়ার বিষয়ে। ইসিবি-র মুখপাত্র বলেছেন, “কী ভাবে সঞ্চয় করা যায়, সেই সমস্ত দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় চুক্তিতে রয়েছেন এমন ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে একটা নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে। আমরা অবশ্য বিশ্বাস করছি যে ক্রিকেটাররা বৃহত্তর ছবি দেখতে পাচ্ছেন।” গত সেপ্টেম্বরে ১০ জনের সঙ্গে টেস্টের চুক্তি করেছে ইসিবি। ১২ জনের সঙ্গে রয়েছে সাদা বলের ক্রিকেটের চুক্তি। যা খবর, তাতে জো রুট, বেন স্টোকস, জস বাটলারের মতো যে ক্রিকেটাররা তিন ধরনের ফরম্যাটেই খেলেন, তিন মাসের জন্য ক্রিকেট বন্ধ থাকলে প্রত্যেকের প্রায় ২ লক্ষ পাউন্ড ক্ষতি হবে।

আরও পড়ুনঃটেনিস থেকে বিশ্রাম, করোনা যুদ্ধে দরীদ্রদের মুখে অন্ন তুলে দিচ্ছেন কেটি সোয়ান

শুধু ইসিবি নয়, করোনার প্রভাবে ব্যাপক আর্খিত ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে বিশ্বেস সমস্ত দেশের ক্রিকেট বোর্ডকেই। ভারতেও আইপিএলের ভবিষ্যৎ এখন বিশ বাঁও জলে। টুর্নামেন্ট হবে কিনা তা নিয়েও রয়েছে সন্দেহে। যার ফলে বোর্ড ও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির ক্ষতির পরিমাণ অকল্পনীয়। দেশের করোনা মোকাবিলায় ৫১ কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেছে বিসিসিআই। অন্যান্য দেশের অবস্থাও একইরকম।