ইংল্যান্ড মহিলা দলের অধিনায়ক হিথার নাইটের পর কেটি সোয়ান। ইংল্যান্ডের আরও এক মহিলা ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব সামিল হলেন করোনা যুদ্ধে। বিপদের সময়  সাময়িক খেলা ছেড়ে পাশে দাঁড়ালেন দরিদ্র দুস্থ মানুষদের। কেটি সোয়ান ইংল্যান্ডের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন টেনিসে। পেশাদার টেনিসে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন কেটি। গত বছরের নভেম্বরে সিঙ্গলসে বিশ্বক্রমতালিকায় ২৪০ নম্বরে ছিলেন তিনি। স্বভাবতই টেনিসমহলেও খুব পরিচিত নন কেটি সোয়ান। কিন্তু মায়ের সঙ্গে করোনা যুদ্ধে সামিল হয়ে লাইম লাইটে চলে এসেছেন বছর ২১-এর এই টেনিস সুন্দরী।

আরও পড়ুনঃলকডাউনে ঘরেই ক্রিকেট খেলছেন পান্ডিয়া ব্রাদার্স, দিলেন সচেতনতার পরামর্শও

যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে উইচিতা বলে একটা জায়গায় থাকেন কেটি ও তার পরিবার। বর্তমানে আমেরিকাতে মারাত্মক রূপ নিয়েছে মারণ করোনা ভাইরাস। এক  লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। এই পরিস্থিতিতে নিজের বাড়ির গ্যারাজ থেকে প্রতিদিন  ৭০ জন দরিদ্র মানুষকে খাবার বিলি করছেন কেটি ও তার মা নিকি। মূল উদ্যোগটা মা নিকির হলেও কেটি নিজেও কিন্তু সারাক্ষণই তাঁকে সাহায্য করেন। সাউদাম্পটনের সমাজর্কমী কেটির মা নিকি, এই ধরনের কাজে রীতিমতো সিদ্ধহস্ত। কেটি জানান, 'করোনা ভাইরাস মহামারীর রূপ নেওয়ার পর থেকে দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে দরিদ্র মানুষের জীবন। সংক্রামিত হওয়ার ভয়ে ঘর থেকে বরোচ্ছেন না কেউ। ফলে খাওয়ার জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না তাদের। আমার বাবা
-মা প্রতিদিন সকালে কস্টকোয় যায়। ওখান থেকেই ট্রলি ভর্তি করে মুদিখানার জিনিস নিয়ে আসে। আমাদের গ্যারাজে তৈরি হয় খাবার।  পরে খাবারগুলি আমার মায়ের বলে দেওয়া ঠিকানায় পৌছে দিয়ে আসি। যাদের খাবার দেওয়া হয় তারা প্রত্যেকেই খুব গরীব। শিশু ও বৃদ্ধরাও রয়েছে সেই তালিকায়। আমাদের কর্মকাণ্ডের কথা ফেসুবকে জানানো হয়। সঙ্গে আমরা সাহায্যও প্রার্থনা করি। অবিশ্বাস্য ব্যাপারটা হচ্ছে দিন দু’য়েকের মধ্যে তহবিলে উঠে আসে প্রায় তিন লক্ষ টাকা। এবং এ সবই হয়েছে আমার মায়ের জন্য। আমি, ভাই আর বাবা ওকে সঙ্গ দিয়েছি এই যা। সত্যি এমন মায়ের জন্য আমি গর্বিত।'

আরও পড়ুনঃ২২ গজ ছেড়ে দেশের বিপদে স্বাস্থ্য কর্মী হলেন ইংল্যান্ড মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক

আরও পড়ুনঃকরোনার প্রকোপ ঠেকাতে হাত বাড়ালেন তারকারা, অর্থদান করলেন এবার বিরুষ্কা

এই সমাজ সেবার জন্য নিজের টেনিস ট্রেনিংও বন্ধ রেখেছেন কেটি পেরি। কেটি জানান 'এই সময় আমার বিদেশে টেনিস নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা। কিন্তু রয়েছি বাড়িতে সবার সঙ্গে। যা আমাকে এনে দিয়েছে মায়ের সঙ্গে মানুষের সেবার করার অবিশ্বাস্য এক সুযোগ। আমি তাই রীতিমতো শিহরিত।' ইংল্যান্ড মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হিদার নাইট করোনার বিরুদ্ধে লড়তে সে দেশের জাতীয় স্বাস্থ্য স্কিম-এ স্বেচ্ছাসেবিকা হিসেবে যোগ দিয়েছেন।  আর কেটি সোয়ান টেনিস ছেড়ে ব্যস্ত জনসেবায়। দুই মহিলা ক্রীড়াবিদের উ্যদ্যোগ সাধুবাদ ও কুর্নিশ জানিয়েছে গোটা ক্রীড়া বিশ্ব।