আইপিএল-র দল চেন্নাই সুপার কিংসের হেড কোচের পদ ছাড়লেন স্টিফেন ফ্লেমিং। পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ১৭ বছর পর তিনি চেন্নাই দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মাধ্যমে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ইতিহাসে অন্যতম সফল ও দীর্ঘস্থায়ী এক সম্পর্কের ইতি ঘটল।
আইপিএল-র দল চেন্নাই সুপার কিংসের হেড কোচের পদ ছাড়লেন স্টিফেন ফ্লেমিং। পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ১৭ বছর পর তিনি চেন্নাই দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মাধ্যমে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ইতিহাসে অন্যতম সফল ও দীর্ঘস্থায়ী এক সম্পর্কের ইতি ঘটল। সিএসকে-র এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ফ্লেমিং এবং সুপার কিংসের ব্যবস্থাপনার মধ্যে একাধিক খোলামেলা ও আন্তরিক আলোচনার পর পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালে শিরোপা জয়ের পর থেকে গত তিনটি মরসুমে সিএসকে প্লে-অফে উঠতে ব্যর্থ হওয়ায় গত কয়েক বছরে ফ্লেমিং সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। নিউজিল্যান্ডের প্রাক্তন এই অধিনায়ক ২০০৮ সালে খেলোয়াড় হিসেবে চেন্নাই দলে যোগ দেন এবং ২০০৯ সালে প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর অধীনে সিএসকে পাঁচটি আইপিএল শিরোপা এবং দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি শিরোপা জিতেছে। দলটি রেকর্ড ১২ বার প্লে-অফে খেলার পাশাপাশি ১০ বার আইপিএল ফাইনালে অংশ নিয়েছে।

তবে সম্প্রতি ফ্লেমিংয়ের কোচিং দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ সিএসকে-র সবকটি শিরোপাই মূলত এমএস ধোনির নেতৃত্বে অর্জিত হয়েছিল।
ফ্লেমিং এসএ২০ (SA20)-তে জোহানেসবার্গ সুপার কিংস এবং মেজর লিগ ক্রিকেটে টেক্সাস সুপার কিংসের কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তাঁর অধীনে এই দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি কখনই সাফল্যের মুখ দেখেনি। এই বছরের এমএলসি (MLC)-তে টিএসকে (TSK)-এর একেবারে তলানিতে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করে। এছাড়া, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার ক্ষেত্রেও সিএসকে (CSK)-কে কিছুটা পিছিয়ে পড়তে দেখা গেছে।
চেন্নাই সুপার কিংসের মালিক রূপা গুরুনাথ বলেন, “এই ফ্র্যাঞ্চাইজির যাত্রাপথের প্রায় পুরো সময়জুড়েই স্টিফেন ফ্লেমিং আমাদের কোচিং ইউনিটের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছেন। প্রায় দুই দশক ধরে তিনি আমাদের পরিচিতি, লক্ষ্য এবং শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের প্রচেষ্টাকে গড়ে তুলতে সহায়তা করেছেন। সুপার কিংস ফ্র্যাঞ্চাইজির সকলের পক্ষ থেকে তাঁর অটল নিষ্ঠা, আবেগ এবং নেতৃত্বের জন্য আমরা গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। যদিও মাঠে আমাদের যৌথ যাত্রার সমাপ্তি ঘটছে, তবুও তিনি সর্বদা দলের ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবেন।”
চেন্নাই সুপার কিংসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর কেএস বিশ্বনাথন বলেন: “এই যাত্রার শুরুর দিনগুলো থেকেই, ফ্লেমিং কেবল আমাদের খেলার ধরনই নয়, বরং একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে আমরা কী হতে চেয়েছি—তা নির্ধারণেও সহায়তা করেছেন। তিনি ধারাবাহিকতা, বিনয় এবং দলকে সবার আগে রাখার মানসিকতার ওপর ভিত্তি করে একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলেছেন। মানুষকে বোঝার এবং দলের প্রতিটি সদস্যের কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনার ক্ষমতা তাঁর অন্যতম বড় শক্তি। মাঠের সীমানার বাইরেও তাঁর প্রভাব বিস্তৃত এবং এই অসাধারণ যাত্রায় একসঙ্গে পথ চলতে পেরে আমরা গর্বিত।”
ফ্লেমিং বলেন, “খেলাধুলার জগতে আঠারো বছর মানে দীর্ঘ সময়, আর আমি এখান থেকে কেবল কৃতজ্ঞতা নিয়েই বিদায় নিচ্ছি। চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে কাটানো সময়টুকু আমার কোচিং ক্যারিয়ারের এক বিশেষ প্রাপ্তি। আমরা যা কিছু অর্জন করেছি, তার জন্য আমি গর্বিত। আমরা একসঙ্গে অবিস্মরণীয় সব জয় উদযাপন করেছি, কঠিন মুহূর্তগুলো পার করেছি এবং এমন সব স্মৃতি তৈরি করেছি যা চিরকাল আমার সঙ্গে থাকবে। সিএসকে সর্বদা আমার হৃদয়ের খুব কাছাকাছি থাকবে এবং আগামী বছরগুলোতেও আমি দলের জন্য শুভকামনা জানিয়ে যাব।”
