Morocco World Cup History: বিশ্বকাপে বড় নজির। আজ, রবিবার ভোরে ব্রাজিল বনাম মরক্কো ম্যাচের ৬৫ মিনিটে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে আগে কখনও দেখা যায়নি। সেই সময় মাঠে মরক্কোর হয়ে খেলছিলেন ১১ জন ফুটবলার।
Morocco World Cup History: বিশ্বকাপে বড় নজির। আজ, রবিবার ভোরে ব্রাজিল বনাম মরক্কো ম্যাচের ৬৫ মিনিটে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে আগে কখনও দেখা যায়নি। সেই সময় মাঠে মরক্কোর হয়ে খেলছিলেন ১১ জন ফুটবলার। কিন্তু বিস্ময়কর বিষয় হল, তাঁদের একজনও মরক্কোতে জন্মগ্রহণ করেননি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও দেশ এমন একটি দল মাঠে নামাল, যেখানে একই সময়ে খেলতে থাকা সব ফুটবলারের জন্ম দেশের বাইরে। ফিফাও জানাল, এদিন মরক্কোর জার্সিতে খেলতে নামা ১১ জন ফুটবলারের কেউই সেই দেশেই জন্মাননি। এঁরা প্রত্যেকেই মরক্কোর নাগরিক, কিন্তু তাঁরা অন্য দেশে জন্ম নেওয়া ফুটবলার।

ম্যাচের ৬৫ মিনিটে হল ইতিহাস
গ্রুপ সি-র ম্যাচে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে এমনভাবেই ইতিহাস গড়ল মরক্কো। ম্যাচ ১-১ ড্র হলেও, ফুটবলবিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে অ্যাটলাস লায়ন্সদের এই অনন্য নজির। ম্যাচের শুরুতেই মরক্কোর প্রথম একাদশে থাকা ১০ জন ফুটবলার ছিলেন বিদেশে জন্মানো। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে পরিবর্ত খেলোয়াড় নামার পর মাঠে থাকা মরক্কোর পুরো দলটাই বিদেশে জন্ম নেওয়া ফুটবলারদের নিয়ে গঠিত হয়। মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু জন্মেছেন কানাডার মন্ট্রিলে। অধিনায়ক আক্রাফ হাকিমির জন্ম স্পেনের মাদ্রিদে। এছাড়া শাদি রিয়াদ, ইসমাইল সাইবারি-সহ একাধিক ফুটবলারের জন্ম স্পেনে। ইসা দিয়প, আইয়ুব বুয়াদি, নিল এল আইনাউই ও বদলি ফুটবলার সামির এল মুরাবেতের জন্ম ফ্রান্সে। বিলাল এল খান্নুস এবং শেমসদিন তালবির জন্ম বেলজিয়ামে, আর নুসাইর মাজরাউই জন্মেছেন নেদারল্যান্ডসে।

ফিফার নিয়ম কী বলছে
এই ঘটনা মরক্কোর বিশাল ফুটবল 'ডায়াসপোরা'র শক্তিকেই সামনে এনে দিয়েছে। দেশটির ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে প্রায় ১৯ থেকে ২০ জন ফুটবলারের জন্ম দেশের বাইরে। তবে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, পারিবারিক সূত্রে কোনও দেশের নাগরিকত্ব বা যোগ্যতা থাকলে সেই দেশের জাতীয় দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা যায়। সেই সুযোগেই ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকায় বেড়ে ওঠা বহু ফুটবলার আজ মরক্কোর জার্সিতে খেলছেন।
সুফল পাচ্ছে মরক্কো
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রান্স, স্পেন, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস এবং কানাডার মতো দেশের উন্নত ফুটবল পরিকাঠামো ও অ্যাকাডেমি ব্যবস্থায় তৈরি হওয়া এই ফুটবলাররা মরক্কোর জাতীয় দলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন। ২০২২ বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল মরক্কো। সেই সাফল্যের নেপথ্যেও ছিল প্রবাসী মরক্কান ফুটবলারদের বড় ভূমিকা।
গত বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসাবে সেমিফাইনালে ওঠার নজির গড়েছিল মরক্কো
ব্রাজিলের মতো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের বিরুদ্ধে এই ঐতিহাসিক নজির গড়ে মরক্কো আরও একবার প্রমাণ করল, আধুনিক ফুটবলে জাতীয় পরিচয় শুধু জন্মস্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বেড়ে ওঠা ফুটবলাররাও নিজেদের শিকড়ের টানে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন।

