২০১৬ রিও অলিম্পিকে আশা জাগিয়েও সোনার পদকটা গলায় ঝোলাতে পারেননি ভারতীয় শাটলার। তারপর থেকে একের পর এক টুর্নামেন্টের ফাইনালে পৌছেও হারতে হয়েছে সিন্ধুকে। অনেক সামালোচরা বলতে শুরু করেছিলেন সোনার পদকের ছটা হায়দারাবাদী শাটলারের জন্য নয়। কোথায় যেন পিঠে সেঁটে যাচ্ছিল চোকার্স তকমা। কিন্তু গতমাসে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে সেই চোকার্স তকমা পিঠ থেকে ঝেড়ে ফেলেছেন সিন্ধু। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছেন দাপটের সঙ্গেই। হায়দরাবাদী শাটলার বলছেন এতদিন তাঁকে যা কথা শুনতে হয়েছে তারই জবাব বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের খেতাব। তবে এর আগের একাধিক ফাইনালে হারের ধাক্কা তাঁকে অনেক কিছু শিখিয়েছে সেটা জানাতেও ভুলছেন না সিন্ধু। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে সিন্ধুর ফোকাসে এবার ২০২০ বেজিং অলিম্পিকের সোনার পদক। 

মজা করেই বলছিলেন তাঁর ট্রফি ক্যাবিনেটে অলিম্পিক গোল্ড মেডেলের জন্য একটা জায়গা এখনও ফাঁকা করে রেখেছেন। মজার ছলে কথাটা বলেও অলিম্পিকের দৌড়াটে কতটা কঠিন সেটা তিনি ভাল করেই জানেন। একাধিক কঠিন প্রতিপক্ষকে হারাতে হবে। পাশাপাশি তাঁকে মাত দেওয়ার জন্য তৈরি হবে স্ট্র্যাটেজিও। সিন্ধু মনে করেন ২০১৬তে প্রথমবার অলিম্পিকের মঞ্চে নেমেছিলেন তিনি। আর পাঁচজন সাধারণ খেলোয়াড়ের মতেই তাঁকে দেখেছিলেন প্রতিপক্ষরা। কিন্ত এবার ছবিটা বদলে যাবে। কারণ এখন তিনি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। তাঁকে ব্যাডমিন্টন দুনিয়া চেনে। তাই প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা তাঁর বিরুদ্ধে অনেক বেশি তৈরি হয়ে মাঠে নামবে। কাজটা এবার তাই অনেক কঠিন হায়দরাবাদি শাটলারের কাছে। 
তবে কঠিন কাজের জন্য তিনিও কঠিন ভাবেই তৈরি হচ্ছেন। অলিম্পিকের মঞ্চে নামার আগে বিশ্ব তালিকায় যতটা সম্ভব নিজেকে ওপরে নিয়ে যেতে চাইছেন সিন্ধু। এখন তিনি বিশ্বের পাঁচ নম্বর খেলোয়াড়। যতটা ওপরে থেকে অলিম্পিকের মঞ্চে নামতে পারবেন, প্রাথমিক পর্বে ততই সহজ প্রতিপক্ষের মুখে পরতে হবে সিন্ধুকে। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে চায়না ওপেনে নামবেন। তার পরের সপ্তাহেই আছে কোরিয়া ওপেন। সেই দুটো প্রতিযোগিতা কে পাখীর চোখ করেই এগিয়ে যাচ্ছেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন  পিভি সিন্ধু।