মোহন বাগানের পর ইস্টবেঙ্গল। ফের কলকাতার বড় দলকে হারিয়ে চমকে দিল জহর দাসের পিয়ারলেস। আর পিয়ারলেসের জয়ের নায়ক আবারও সেই আনসুমানা ক্রোমা। তাঁর পেনাল্টি থেকে করা গোলেই ১-০ ব্যবধানে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে চলে গেল পিয়ারলেস। পয়েন্ট সমান হলেও গোল পার্থক্যের নিরিখে সবুজ মেরুনের থেকে এগিয়ে রয়েছে জহর দাসের দল।

এ দিন ক্রোমা একটি গোল করেছেন বটে। কিন্তু লাইবেরিয়ান স্ট্রাইকার আরও গোল করলেও অবাক হওয়ার কিছু ছিল না। তাঁকে নিয়েই বেশি চিন্তা ছিল ইস্টবেঙ্গলের স্প্যানিশ কোচের। বর্ষার কাঁদা মাঠে সেই ক্রোমাই বার বার টলিয়ে দিলেন লাল হলুদ ডিফেন্সকে। 

এ দিনও শুরু থেকে দলের সেরা অস্ত্র স্যান্টোস কোলাডোকে নামাননি আলেজান্দ্রো মেনেন্দেস। নামানো হয়নি বিদ্যাসাগর সিংকেও। 

প্রথমার্ধ গোলশূন্য ভাবে শেষ হওয়ার পরে মার্কোসের জায়গায় ৬২ মিনিটে কোলাডোকে নামান আলেজান্দ্রো। তার আগে রোনাল্ডো অলিভিয়েরার জায়গায় বিদ্যাসাগর সিংকেও মাঠে আনেন তিনি। কিন্তু জোড়া বদলেও গোল পায়নি লাল- হলুদ। উল্টে ৬৫ মিনিটে ইস্টবেঙ্গল বক্সের মধ্যে পঙ্কজ মৌলাকে ফাউল করেন কমলপ্রীত। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি বড় দলের কাছে ত্রাস হয়ে ওঠা ক্রোমা। এই ম্যাচে হেরে কলকাতা লিগের লড়াই থেকে কার্যত ছিটকে গেল ইস্টবেঙ্গল।

গোল খেয়ে তা শোধ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন স্যান্টোস, ব্রেন্ডন, সামাদরা। কিন্তু দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে যায় পিয়ারলেসের ফুটবলাররা। চ্যাম্পিয়ন হয়ে কলকাতা ফুটবলে সাম্প্রতিককালের সবথেকে বড় অঘটন ঘটানোর স্বপ্নটা তাঁরাও দেখতে শুরু করে দিয়েছেন যে। 

খেলার শেষেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ইস্টবেঙ্গল মাঠ। খারাপ রেফারিংয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন লাল হলুদ সমর্থকরা। লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যায় পুলিশ। আহত হন দুই সমর্থক।