Real Madrid: রিয়াল মাদ্রিদের ড্রেসিংরুম থেকে আবারও অস্বস্তিকর খবর সামনে আসছে। আর এবারও সব বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে।

Real Madrid: যিনি খোদ ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে সামলেছেন, সেই হোসে মোরিনহোও কি এবার হাল ছেড়ে দেবেন? রিয়াল মাদ্রিদের ড্রেসিংরুম থেকে বিরতির পর আবারও বেশ কিছু অস্বস্তিকর খবর বাইরে আসছে। আর এই সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে। গল্পটা কিন্তু দু'বছর আগে এমন ছিল না। ১৫তম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রফি তখন সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্যাবিনেটে ঢুকেছে (Real Madrid)। উয়েফা সুপার কাপ আর ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপও এরপর আসে। কিলিয়ান এমবাপে তারপর রিয়ালের সেই বিখ্যাত জার্সি গায়ে চাপান। অন্যদিকে, টনি ক্রুস আর লুকা মদ্রিচ বিদায় নেন। রিয়ালের খেলায় মাঠে একজন ক্রিয়েটিভ মিডফিল্ডারের অভাব স্পষ্ট হলেও, আসল সমস্যাটা অন্য জায়গায় লুকিয়ে ছিল।

ভিনি নাকি এমবাপে! রিয়াল মাদ্রিদের জন্য কি দুই তারকার মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়াই ভালো?

বোঝাপড়ার অভাব আর ইগো—সুপারস্টারদের মধ্যে এটাই এখন সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ। ভিনিসিয়াস জুনিয়র এবং এমবাপের মধ্যে ফরোয়ার্ড লাইনে এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে। তারা দুজন কি আদৌ একসঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবেন? নাকি দুজনের একজনকে বেছে নেওয়াই ক্লাবের ভালোর জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে? কোনও বড় ট্রফি টানা দু'বছর আসেনি। কোচ নিয়ে একের পর এক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলেছে। ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ শেষমেশ যে হোসে মোরিনহোর দ্বারস্থ হয়েছেন, তার কারণ শুধু ট্রফি জেতা নয়। তাঁর অন্যতম বড় লক্ষ্য ছিল ড্রেসিংরুমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা।

মোরিনহো ভিয়ারিয়ালের বিরুদ্ধে লিগ ম্যাচে ভিনিকে বেঞ্চে বসিয়ে এমবাপেকে সেন্ট্রাল স্ট্রাইকার হিসেবে খেলিয়েছেন। তার পিছনে অবশ্যই নির্দিষ্ট কারণ ছিল। প্রথমত, ভিনির অফ-ফর্ম। আর দ্বিতীয়ত, ভিনি আর এমবাপে একসঙ্গে প্রথম একাদশে থাকলে দলের গঠনে যে দুর্বলতা তৈরি হয়, সেটা সামাল দেওয়া। ভিয়ারিয়াল ম্যাচের আগে মাদ্রিদ ডার্বির কথাই ধরা যাক। রিয়াল ওই ম্যাচে ২-১ গোলে হেরে যায়। এমবাপে বা ভিনি—কারোরই নাম স্কোরশিটে ছিল না। চলতি মরশুমে রিয়ালের হয়ে এমবাপের গোল কন্ট্রিবিউশন ১০। ভিনি অন্যদিকে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর নামের পাশে এই মরশুমে রিয়ালের জার্সিতে মাত্র একটাই গোল রয়েছে।

অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিরুদ্ধে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা এই দুই তারকার পিচ হিট ম্যাপ দেখলেই আসল সমস্যাটা বোঝা যায়। রিয়াল ঠিক কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে ভিনি আর এমবাপে একসঙ্গে মাঠে থাকলে, সেটা ওই ম্যাপেই স্পষ্ট। অ্যাটলেটিকোর বিরুদ্ধে ভিনি লেফট উইংয়ে, বেলিংহ্যাম অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার, আর্দা গুলের রাইট উইংয়ে আর এমবাপে সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলেছিলেন। ফর্মেশন এটাই ছিল। কিন্তু হিট ম্যাপে দেখা যাচ্ছে, এমবাপেও লেফট উইংয়ে ভিনির পাশাপাশি বারবার চলে আসছেন। দুজনেই আসলে একই পজিশনে খেলতে পছন্দ করেন।

আক্রমণ কীভাবে পূর্ণতা পাবে?

এমবাপে এবং ভিনি যে রক্ষণে খুব একটা সাহায্য করেন না, এই সত্যিটা সবার অনেকদিন ধরেই জানা। মোরিনহো অবশ্য এই জায়গায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে পেরেছেন। কিন্তু পরিস্থিতি আক্রমণের সময় একেবারেই আলাদা। বেলিংহ্যাম আর গুলের রিয়ালের বর্তমান দলে দারুণ ফর্মে আছেন, তাঁরাই মূলত খেলাটা তৈরি করছেন। কিন্তু ভিনি আর এমবাপে যখন একই জায়গা দিয়ে আক্রমণ শানানোর চেষ্টা করেন, তখন সেই আক্রমণ কীভাবে পূর্ণতা পাবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। এই ব্যাপারটা বিপক্ষ দলের ডিফেন্ডারদের কাজটা আরও সহজ করে দেয়। এমবাপে আর ভিনি যদি ফাইনাল থার্ডে নিজেদের জায়গা ছড়িয়ে না নেন, তাহলে বিপক্ষ ডিফেন্স শুধু লেফট উইংয়ের দিকে নজর দিলেই অনায়াসে আক্রমণ আটকে দিতে পারে। রিয়াল এর ফলে গোল করার সুযোগ তৈরি করতে গিয়ে বারবার পিছিয়ে পড়ছে। ভিনি আর এমবাপে যদি নিজেদের নির্দিষ্ট পজিশনে থাকেন, তাহলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু দুজনেই সেটা করতে নারাজ। মোরিনহো র কাছে এখন একটা বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই দুজনকে একসঙ্গে খেলিয়ে দলের ট্যাকটিকাল ব্যালেন্স বজায় রাখা।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।