ভারতীয় ক্রীড়া ইতিহাসে নজির তৈরি করল দেশের ক্রীড়ামন্ত্রক। এবারের ‘পদ্ম’ পুরস্কারের জন্য নয় জন ক্রীড়াবিদের নামের প্রস্তাব পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রক, আর এই নজনই দেশের কৃতী মহিলা ক্রীড়াবিদ। এর আগে একসঙ্গে এতজন মহিল ক্রীড়াবিদের নামের প্রস্তাব যায়নি ক্রীড়ামন্ত্রকের তরফে। ‘পদ্ম’ পুরস্কারের সেরা সম্মান পদ্মবিভূষনের জন্য নাম প্রস্তাব করা হয়েছে এমসি মেরি কমের। পদ্মভূষণে নাম প্রস্তাব করা হয়েছে পিভি সিন্ধুর। একই সঙ্গে হরমনপ্রীত কৌর, রাণী রামপালদের নামের প্রস্তাব গেছে পদ্মশ্রী পুরস্কারের জন্য। 

ছয় বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন মেরি কম এর আগেই পদ্মশ্রী ও পদ্মভূষণ পুরস্কারে পেয়েছেন।  ২০০৬ সালে মেরি পেয়েছিলেন পদ্মশ্রী পুরক্সার আর ২০১২ অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ পদক পাওয়ার পর ২০১৩ সালে পদ্মভূষণ পুরস্কারে সম্মানিত করা হয় মেরিকে। গত বছর ষষ্ঠ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছেন মেরি। ২০২০ অলিম্পিকের প্রস্তুতিও শুরু করেছিন মণিপুরের এই বক্সার।   মেরির আগে মাত্র তিনজন ক্রীড়াবিদ পদ্মবিভূষণ সম্মান পেয়েছেন, বিশ্বনাথন আনন্দ, সচিন তেন্ডুলকার ও স্যার এডমন্ড হিলারি পেয়েছিলেন পদ্মবিভূষণ পুরস্কার।
 
ব্যাডমিন্টনের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন পিভি সিন্ধু ২০১৫ সালে পদ্মশ্রী পুরস্কার পান। ২০১৭ সালে পদ্মভূষণ পুরস্কারের জন্য তাঁর নামের প্রস্তাব পাঠিয়েছিল দেশের ক্রীড়া মন্ত্রক। কিন্তু সেবার দেশের তৃতীয় নাগরিক সম্মান পাননি সিন্ধু। কিন্ত এবার ছবিটা সম্পুর্ণ আলাদা। সিন্ধু এবার প্রথম ভারতীয় ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। তাই অনেকের মতেই এবার তাঁর পদ্মভূষণ পুরস্কার পাওয়াটা সময়ের অপেক্ষা। 

এই দুই তারকা ক্রীড়াবিদ ছাড়াও পদ্মশ্রী পুরস্কারের জন্য আরও সাতটি নামের প্রস্তাব করা হয়েছে ক্রীড়া মন্ত্রক থেকে। ভিনেশ ফোগাট (কুস্তি),   হরমনপ্রীত কৌর (ক্রিকেট),   রাণী রামপাল (হকি),  সুমা শিরুর (শ্যুটিং), মনিকা বাত্রা (টেবলি টেনিস),  তাসি ও নিঙ্গসি মালিক (পর্বতারোহন)।  ক্রীড়া মন্ত্রকের পাঠানো নামের প্রস্তাব থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট। সাম্প্রতিক অতীতে ভারতীয় খেলাধূলোর আঙ্গিনায়, ছেলেদের থেকে মেয়েদের সাফল্য অনেকে বেশি। ২০১৬ রিও অলিম্পিকে ভারত যে তিনটি মেডেল পেয়েছিল তিনটিই এসেছিল মহিলা ক্রীড়াবিদের হাত ধরে। বর্তমানেও হিমা দাস, মেহুলি ঘোষ, স্মৃতি মন্দানা, স্বপ্না বর্মণ, অপূর্বি চান্ডিলারা দেশের নাম উজ্জ্বল করে চলেছেন।