এশিয়ান যোগা ফেডারেশনের প্রতিযোগিতায় প্রথম হলো হুগলির মানকুণ্ডর দশ বছরের ছোট্ট সৃজা। সাত থেকে এগারো বছর বিভাগে সোনা জিতেছে হুগলির মানকুণ্ডুর মহাডাঙ্গা কলোনির বাসিন্দা পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি সুশান্ত সাহার ছোট মেয়ে সৃজা। দক্ষিণ কোরিয়ায় নবম এশিয়ান যোগাসন প্রতিযোগিতায় সোনা জিতেছে। সৃজার এই সাফল্যে তার পরিবার তো বটেই, গর্বিত গোটা এলাকা। সৃজার পরিবার অবশ্য তার এই সাফল্যের জন্য চন্দনগরের বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেনকেই অনেকটা কৃতিত্ব দিচ্ছে।

মা নবনীতা সাহার উদ্যোগেই সৃজা ভর্তি হয় চন্দননগর পাদ্রিপাড়া  ত্রিশক্তি ক্লাবের যোগাসন কেন্দ্রে। নবনীতা জানান, ছোট মেয়ের যখন সাত বছর বয়স তখন একটি যোগাসন প্রতিযোগিতা দেখেই  সৃজাকে যোগ ব্যায়াম শেখানোর কথা মাথায় আসে।  এর পরেই সৃজাকে তিনি যোগ ব্যায়াম কেন্দ্রে ভর্তি করে দেন।  সেই বছরই  সৃজা জেলার মধ্যে  যোগাসন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান দখল করে। এর পর রাজ্যভিত্তিক প্রতিযোগিতাতেও প্রথম হয় সে। 

প্রশিক্ষক অমিত দাসের তত্বাবধানে ক্রমশ উন্নতি করে সৃজা। এর পর সবথেকে বড় সুযোগটা এসে যায় এ বছর। এশিয়ান যোগা ফেডারেশনে অংশগ্রহণে ডাক পায় সৃজা।  কিন্তু অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজন ছিল প্রায় দেড় লক্ষ টাকা। যে খরচ সৃজার পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব ছিল না। প্রায় লাখ দেড়েক টাকার দরকার ছিল। সবকিছু শুনে এগিয়ে আসেন এলাকারই এক সহৃদয় ব্যক্তি শৈলেন ভড় নামে এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক । তিনিই ওই অর্থ জোগাড় করে দেন। যদিও পরে সরকারের ক্রীড়া দফতরের  তরফ থেকে সৃজার পরিবারকে দু' লক্ষ লাখ টাকা দেওয়া হয়। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লা নিজে উদ্দ্যোগ নিয়ে পুরো বিষয়টি দেখভাল করেন। 
সৃজার সাফল্যের পর থেকে তাকে দেখতে ভিড় লেগেই রয়েছে সৃজার বাড়িতে। ট্র্যাকশ্যুট পরে সৃজাও অতিথিদের অবাদার অনুযায়ী তাঁদের যোগ ব্যায়াম দেখাচ্ছে। ডিসেম্বর মাসে ন্যাশনাল মিটে অংশ নিতে কানপুর যাবে সৃজা। তার পর মালয়েশিয়াতেও একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার কথা তার। 

সৃজার এই সাফল্যের অনেকটা কৃতিত্বই স্থানীয় বিধায়ক এবং মন্ত্রী ইন্দ্রনীলকে জানাচ্ছে সৃজার মা। তিনি বলেন, 'ওঁর মতো শক্ত খুঁটি ছিল বলেই আমি মেয়েকে নিয়ে এতদূর এগোতে পেরেছি। ক্রীড়া দফতরের কাছেও পৌঁছতে পেরেছি তাঁরই দয়ায়। চন্দননগর কাশীশ্বরী পাঠশালার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী সৃজা পড়াশোনাতেও যথেষ্ট ভাল।

বাড়িতে গেলে এদিন দেখা যায় সৃজা রীতিমতো ট্রাকশ্যুট পড়ে মেডেল সাজিয়ে খাটে বসে আছে । সবাইকে তার সাফল্যের কথা শোনাচ্ছে । এরপর আগামী ডিসেম্বরে কানপুর যাবে ন্যাশনাল মিট করতে , তারপর মালয়েশিয়া । আসছেন অনেকে । স্থানীয় বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেনের আসার কথা আছে । সাংসদ লকেট ও আসবেন বলে জানা যাচ্ছে। সৃজার মা সমস্ত কৃতিত্ব দেন ইন্দ্রনীল কে । ওনার মতো শক্ত খুঁটি ছিলো বলেই আমি মেয়েকে নিয়ে এতদূর এগোতে পেরেছি । ক্রীড়া দফতরের কাছেও পৌঁছতে পেরেছি তাঁর ই দয়ায় । অপকট স্বীকারোক্তি  নবনীতা দেবীর । পাশাপাশি পড়াশোনা তেও সৃজার রেজাল্ট খুব ভালো হয়েছে । চন্দন নগর কাশীশ্বরী পাঠশালার চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী সৃজা।