World Cup 2026: ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্বে অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দলগুলি প্রত্যেকেই দুটি করে ম্যাচ খেলে ফেলল।প্রত্যেকটি দলেরই বাকি থাকল আর একটি করে ম্য়াচ। এরই পরেই শুরু হবে 'রাউন্ড অফ ৩২'-এর নক আউট পর্ব। তেমনই ৫টি দেশ বিদায় নিয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকেই।

World Cup 2026: ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্বে অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দলগুলি প্রত্যেকেই দুটি করে ম্যাচ খেলে ফেলল। প্রত্যেকটি দলেরই বাকি থাকল আর একটি করে ম্য়াচ। এরই পরেই শুরু হবে 'রাউন্ড অফ ৩২'-এর নক আউট পর্ব। গ্রুপ পর্যায় থেকে ৩২টি দল উঠবে নক আউট রাউন্ডে আর ১৬টি দল বিদায় নেবে। উত্তর আমেরিকায় আয়োজিত ইতিহাসের প্রথম ৪৮ দলের বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই কয়েকটি দল শেষ ৩২-এ জায়গা নিশ্চিত করে ফেলেছে। অন্যদিকে, কয়েকটি দেশের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে গিয়েছে গ্রুপ পর্বেই। এখনও পর্যন্ত মোট ৭টি দেশ নক আউট পর্বে উঠে গিয়েছে। তেমনই ৫টি দেশ বিদায় নিয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকেই।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কোন পাঁচটি দেশ বিদায় নিয়েছে, কোন সাতটি দেশ নক আউটে

এক ম্যাচ বাকি থাকতেই যে সাতটি দেশ নক আউটে উঠেছে সেগুলি হল- ১) মেক্সিকো, ২) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ৩) জার্মানি, ৪) আর্জেন্টিনা, ৫) ফ্রান্স, ৬) নরওয়ে ও ৭) কলম্বিয়া। অন্যদিকে, যে দেশগুলি ছিটকে গিয়েছে সেগুলি হল- ১) হাইতি, ২) তুরস্ক, ৩) তিউনেসিয়া, ৪) জর্ডন, ৫) পানামা। বিদায়ের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, কাতার, ইরাক, নিউ জিল্যান্ড, সৌদি আরব, উজবেকিস্তান। নক আউটে ওঠার ব্যাপারে ফেভারিট দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, ব্রাজিল, মরক্কো,আইভরি কোস্ট, নেদারল্যান্ডস, জাপান, ইজিপ্ট, স্পেন, পর্তুগাল, ইংল্যান্ড।

চমকের নাম কেপ ভার্দে, কুরাসাও

এবারের বিশ্বকাপে চমকে দিয়ে কেপ ভার্দে। প্রথমবার বিশ্বকাপে আফ্রিকার এই দেশটি স্পেন ও উরুগুয়েকে রুখে দিয়ে নক আউটে ওঠার স্বপ্ন দেখছে। গ্রুপের শেষ ম্যাচে কেপ ভার্দে যদি সৌদি আরবকে হারিয়ে দেয় তাহলে তারা নক আউটে (রাউন্ড অফ ৩২)-এ উঠে যাবে। চমক দিয়েছে একেবারে ছোট্ট দ্বীপপুঞ্জে দেশ কুরাসাও। জার্মানির কাছে ১ গোল করে ৭ গোল হজম করলেও ইকুয়েডরকে রুখে চমকে দিয়েছে কুরাসাও। গ্রুপের শেষ ম্য়াচে তাদের প্রতিপক্ষ আইভরি কোস্ট।

এশিয়ার দেশগুলি কে কোথায়

চলতি বিশ্বকাপে এশিয়ার তিনটি দেশ- জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইরান বেশ ভাল ফুটবল খেলছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া নক আউটে উঠতে পারে। সেখানে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে নেমে এশিয়ার দুই দেশ জর্ডন ও উজবেকিস্তান লড়াই করলেও শুরুতে বিদায় নিয়েছে। শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে। দুটি ম্যাচে হেরে ইরাকও কার্যত বিদায় নেয়েছে। অন্যদিকে, উরুগুয়েকে রুখে দিলেও স্পেনের কাছে ৪ গোল হজম করে বিদায়ের মুখে সৌদি আরব। এশিয়া থেকে বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলা অস্ট্রেলিয়া দুটি খেলে একটিতে জিতে নক আউটে ওঠার সম্ভাবনা বজায় রেখেছে।

আফ্রিকার দেশগুলি কে কোথায়

আফ্রিকার দেশগুলির মধ্যে সবচেয়ে হতাশ করেছে তিউনেসিয়া,সেনেগাল। তেমনই উজ্জ্বল দেখিয়েছে কেপ ভার্দেকে। ইজিপ্ট বিশ্বকাপের ইতিহাসে তাদের প্রথম জয় তুলে নিয়ে লিগ তালিকায় শীর্ষে আছে। ব্রাজিলকে রুখে দেওয়া মরক্কো, ইংল্যান্ডকে আটকানো ঘানা, আইভরি কোস্ট, আলজেরিয়াও নক আউটে ওঠার লড়াইয়ে ভালভাবেই আছে। তবে তেমনভাবে ছাপ ফেলতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা।

আয়োজকরা কে কোথায়

সহ-আয়োজক মেক্সিকো চলতি বিশ্বকাপে দুরন্ত ছন্দে রয়েছে। গ্রুপ পর্বে টানা জয়ের সুবাদে তারাই প্রথম দিকের দলগুলির মধ্যে নকআউট পর্বে জায়গা পাকা করে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে দাপুটে জয় মেক্সিকোর আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আরেক সহ-আয়োজক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে অনায়াসে পরের রাউন্ডে পৌঁছে গিয়েছে। শক্তিশালী রক্ষণ এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জেরে গ্রুপ পর্বের বাধা সহজেই পেরিয়েছে তারা।

সুপার পাওয়াররা কে কোথায়

চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিও নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছে। প্রতিপক্ষকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করেছে ইউরোপের অন্যতম সেরা দলটি। একইভাবে সহজেই পরের পর্বে উঠে গিয়েছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এখনও পর্যন্ত নিজেদের জয়ের ধারা বজায় রেখেছে। ফ্রান্সও প্রত্যাশামতোই শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে। গত বিশ্বকাপের রানার্স দলটি গ্রুপ পর্বে ধারাবাহিকভাবে ভালো ফুটবল উপহার দিয়েছে। এ ছাড়া নরওয়ে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম চমক। প্রত্যাশার থেকেও ভালো পারফরম্যান্স করে তারা নকআউটে জায়গা নিশ্চিত করেছে। দক্ষিণ আমেরিকার আরেক প্রতিনিধি কলম্বিয়াও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে পরের রাউন্ডে পৌঁছে গিয়েছে।

হাইতিতে হতাশা, তুরস্কে হায় হায়

তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে হতাশাও কম নেই। টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়া প্রথম দল হাইতি। স্কটল্যান্ড এবং ব্রাজিলের বিরুদ্ধে পরপর হারের ফলে তাদের অভিযান দ্রুতই শেষ হয়ে যায়। সবচেয়ে বড় অঘটনের মধ্যে রয়েছে তুরস্কের বিদায়। দীর্ঘ ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে এলেও গ্রুপ পর্বের বাধা টপকাতে পারেনি তারা। অস্ট্রেলিয়া এবং প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে পরাজয়ের ফলে আগেভাগেই বিদায় নিতে হয়েছে তুর্কিদের।

মেগা ফ্লপ তিউনিসিয়া

তিউনিসিয়াও হতাশাজনক পারফরম্যান্সের জেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গিয়েছে। সুইডেন এবং জাপানের বিরুদ্ধে পরাজয় তাদের স্বপ্ন ভেঙে দেয়। প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলা জর্ডনের কাছেও অভিযান সুখকর হয়নি। দুই ম্যাচের পরই বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায় তাদের। অন্যদিকে, ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে পানামাও। গ্রুপ পর্বের গণ্ডি পেরোনো সম্ভব হয়নি মধ্য আমেরিকার দেশটির।