নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধনের আগে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। আগামী ২৮ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এর উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠান উপলক্ষে নিরাপত্তা, ট্র্যাফিক এবং অন্যান্য সুবিধা নিয়ে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গৌতমबुদ্ধনগর: রবিবার নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (জেवर) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে সরেজমিনে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। এরপর তিনি জনপ্রতিনিধি এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। বৈঠকে সমস্ত কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এবং সঠিক মান মেনে শেষ করার নির্দেশ দেন তিনি।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

২৮ মার্চ উদ্বোধন করবেন মোদী, শিলান্যাস হবে MRO প্রকল্পেরও

আগামী ২৮ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং এর কার্গো টার্মিনাল উদ্বোধন করবেন। একই সঙ্গে তিনি একটি MRO (মেন্টেনেন্স, রিপেয়ার অ্যান্ড ওভারহল) প্রকল্পেরও শিলান্যাস করবেন। এই বিশাল অনুষ্ঠান সফল করতে এখন জোরকদমে প্রস্তুতি চলছে।

টার্মিনাল থেকে হেলিপ্যাড, সব খতিয়ে দেখলেন যোগী

পরিদর্শনের সময় মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য যাত্রাপথ এবং অনুষ্ঠানের জায়গাগুলি ঘুরে দেখেন। তিনি প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল, কার্গো টার্মিনাল, র‍্যালির জায়গা, পার্কিং, রাস্তঘাট এবং হেলিপ্যাডসহ সব গুরুত্বপূর্ণ এলাকা খতিয়ে দেখেন এবং আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।

সব বিভাগকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ

পরিদর্শনের পর বিমানবন্দর চত্বরে একটি পর্যালোচনা বৈঠক হয়। সেখানে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "সব বিভাগকে आपसी বোঝাপড়ার সঙ্গে কাজ করতে হবে এবং প্রতিটি কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে।" তিনি আরও বলেন, এই অনুষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি, বিশেষ অতিথি, মিডিয়া এবং বহু সাধারণ মানুষ আসবেন, তাই সব ব্যবস্থা একেবারে নিখুঁত হওয়া চাই।

জমকালো অনুষ্ঠানের জন্য বিশেষ জোর

অনুষ্ঠানটিকে জমকালো এবং বিশ্বমানের করে তুলতে ব্যাপক প্রচার ও ব্র্যান্ডিংয়ের নির্দেশ দেন যোগী। তিনি সমস্ত রাস্তাঘাট পরিষ্কার রাখা, বিদ্যুৎ, পানীয় জল, শৌচাগার, নিরাপত্তা, ট্র্যাফিক ম্যানেজমেন্ট, পরিবহন, অগ্নি নির্বাপণ এবং চিকিৎসার মতো সুবিধাগুলি সময়ের আগে নিশ্চিত করতে বলেন। এছাড়াও, বাইরে থেকে আসা মানুষের জন্য পার্কিং লটে মোবাইল টয়লেট, হেল্প ডেস্ক, পানীয় জল এবং চিকিৎসার সুবিধা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

থাকছে চার-স্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা

অনুষ্ঠানের জায়গায় পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রশাসন, পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, যাতে কারও কোনও অসুবিধা না হয়। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে অনুষ্ঠানের জন্য চার-স্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হবে। বৈঠকে প্রশাসন ও পুলিশ পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে নিরাপত্তা, ট্র্যাফিক, পার্কিং এবং বিকল্প রাস্তা নিয়ে তাদের বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রতিনিধি ও শীর্ষ আধিকারিকরা

এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী ব্রিজেশ সিং, বিজেপির আঞ্চলিক সভাপতি সত্যেন্দ্র সিসোদিয়া, জেলা সভাপতি অভিষেক শর্মা, মহানগরের সভাপতি মহেশ চৌহান, সাংসদ ডঃ মহেশ শর্মা, বিধায়ক ধীরেন্দ্র সিং, বিধায়ক তেজপাল নাগর এবং বিধান পরিষদ সদস্য শ্রীচাঁদ শর্মার মতো জনপ্রতিনিধিরা। এছাড়াও, অতিরিক্ত মুখ্য সচিব দীপক কুমার, মুখ্যমন্ত্রীর সচিব অমিত সিং, ডিভিশনাল কমিশনার ভানু চন্দ্র গোস্বামী, যমুনা কর্তৃপক্ষের সিইও রাকেশ কুমার সিং, পুলিশ কমিশনার লক্ষ্মী সিং এবং জেলাশাসক মেধা রূপম সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিকও বৈঠকে যোগ দেন।