যোগী মন্ত্রিসভার একাধিক বড় সিদ্ধান্ত—‘এক জনপদ, এক व्यंजन’ প্রকল্প, নতুন বদলি নীতি, কৃষকদের জন্য দ্বিগুণ ক্ষতিপূরণ এবং টেক্সটাইল পার্ক তৈরির অনুমোদন। উত্তরপ্রদেশ সরকারের এই পদক্ষেপে কারা কীভাবে লাভবান হবেন, জেনে নিন।

সোমবার লখনউতে হওয়া ক্যাবিনেট বৈঠকে উত্তরপ্রদেশ সরকার এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব সাধারণ মানুষ, কৃষক, যুবক এবং শিল্পের উপর পড়বে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে স্থানীয় খাবারকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগের পাশাপাশি কৃষকদের ক্ষতিপূরণ বৃদ্ধি, বদলি নীতি নির্ধারণ এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলিকে রাজ্যের অর্থনীতি এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে নতুন দিশা দেওয়ার চেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

‘এক জনপদ, এক ব্যঞ্জন’ প্রকল্প: স্থানীয় খাবারের গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম

সরকার ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট, ওয়ান প্রোডাক্ট’-এর ধাঁচে ‘এক জনপদ, এক ব্যাঞ্জন’ প্রকল্পকে অনুমোদন দিয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হল, প্রতিটি জেলার ঐতিহ্যবাহী খাবারকে পরিচিতি দেওয়া এবং তাকে ব্র্যান্ড হিসেবে বাজারে প্রতিষ্ঠা করা। এই প্রকল্পের অধীনে:

  • ঐতিহ্যবাহী খাবারের ব্র্যান্ডিং, প্যাকেজিং এবং মার্কেটিং করা হবে।
  • গুণমান উন্নয়ন এবং শেলফ লাইফ (shelf life) বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হবে।
  • কারিগর এবং উদ্যোক্তাদের ২৫% পর্যন্ত ভর্তুকি (সর্বাধিক ₹২০ লক্ষ) দেওয়া হবে।
  • মোট ₹১৫০ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে।

আগ্রার পেঠা, মথুরার পেড়া এবং জৌনপুরের ইমারতির মতো খাবারগুলি এবার আন্তর্জাতিক বাজারে জায়গা করে নিতে পারে।

নতুন বদলি নীতি ২০২৬-২৭: ৩১ মের মধ্যে হবে ট্রান্সফার

ক্যাবিনেট সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বদলি নীতি অনুমোদন করেছে। এর প্রধান বিষয়গুলি হল:

  • সমস্ত বদলি ২০২৬ সালের ৩১ মের মধ্যে শেষ করতে হবে।
  • একই জেলায় ৩ বছর এবং একই ডিভিশনে (মণ্ডল) ৭ বছর পূর্ণ হলে বদলি বাধ্যতামূলক।
  • গ্রুপ ‘ক’ ও ‘খ’-এর ২০% এবং গ্রুপ ‘গ’ ও ‘ঘ’-এর ১০% পর্যন্ত বদলি করা যাবে।
  • মেধা-ভিত্তিক অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে বদলি হবে।
  • বিশেষভাবে সক্ষম (দিব্যাঙ্গ) সন্তানের অভিভাবকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এই নীতির লক্ষ্য হল স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং প্রশাসনিক ভারসাম্য বজায় রাখা।

PWD-তে কড়াকড়ি: এবার নিম্নমানের কাজে লাগবে ব্রেক

লোক নির্মাণ বিভাগ বা PWD-তে কাজের মান উন্নত করতে সরকার নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া চালু করেছে।

  • ₹৫ কোটি টাকার বেশি মূল্যের প্রকল্পে কড়া নিয়ম মানতে হবে।
  • কম রেটে টেন্ডার নেওয়া সংস্থাগুলির থেকে অতিরিক্ত সিকিউরিটি নেওয়া হবে।
  • ১৫% এর বেশি কমে দরপত্র জমা দিলে বিশেষ তদন্ত হবে।

এর মাধ্যমে নিম্নমানের নির্মাণ কাজ বন্ধ করা এবং স্বচ্ছতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

কৃষকদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত: হাই-টেনশন লাইনে দ্বিগুণ ক্ষতিপূরণ

সরকার বিদ্যুতের হাই-টেনশন লাইনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বড়সড় স্বস্তি দিয়েছে। নতুন ব্যবস্থা অনুযায়ী:

  • টাওয়ারের নিচের জমির জন্য ২০০% ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
  • লাইন করিডোরের আওতায় আসা জমির জন্য ৩০% ক্ষতিপূরণ মিলবে।
  • সব মিলিয়ে কৃষকরা ২১% থেকে ৩৩% বেশি লাভবান হবেন।

এই সিদ্ধান্ত কৃষকদের আয় বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিতে তাঁদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

টেক্সটাইল পার্ক এবং পরিকাঠামোয় জোর

রাজ্যে ১০টি টেক্সটাইল পার্ক তৈরি করা হবে, যার জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়া মিলগুলির জমি ব্যবহার করা হবে। অন্যদিকে, লখনউতে ₹৫৪৬ কোটি টাকার একটি সড়ক প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে, যা শিল্পের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও মজবুত করবে এবং পণ্য পরিবহণের খরচ কমাবে।

‘ওয়ান ট্রিলিয়ন ডলার’ লক্ষ্যের জন্য প্রতি জেলায় CM ফেলো

সরকার প্রতিটি জেলায় দুজন বিশেষজ্ঞ ফেলো নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে:

  • একজন ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট ফেলো।
  • একজন ডেটা অ্যানালিস্ট ফেলো।

তাঁদের কাজ হবে উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির উপর নজর রাখা এবং ডেটা-ভিত্তিক কৌশল তৈরি করা। নির্বাচিত ফেলোরা প্রতি মাসে ₹৫০,০০০ টাকা বেতন এবং অন্যান্য সুবিধা পাবেন।

  • শিক্ষা, বিচার এবং শক্তি ক্ষেত্রেও বড় পদক্ষেপ
  • ১৫০টি সরকারি স্কুলে ড্রিম স্কিল ল্যাব তৈরি হবে।
  • ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে ই-সাক্ষ্য এবং ই-সমন ব্যবস্থা চালু হবে।
  • ছোটখাটো অপরাধের জন্য জেলের পরিবর্তে সামাজিক সেবামূলক কাজের শাস্তি।
  • নয়ডা-যমুনা অঞ্চলে ₹৬৫৩ কোটি টাকার হাই-টেক বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র তৈরি হবে।

উন্নয়ন, স্বচ্ছতা এবং কর্মসংস্থানে ফোকাস

যোগী মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তগুলি শুধু ঘোষণা নয়, বরং রাজ্যের অর্থনীতি, প্রশাসন এবং সামাজিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এক পদক্ষেপ। স্থানীয় খাবারকে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি দেওয়া থেকে শুরু করে কৃষকদের স্বস্তি এবং যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা পর্যন্ত, সরকার প্রতিটি বিষয়কে মাথায় রেখেই কৌশল তৈরি করেছে। আগামী দিনে এই সিদ্ধান্তগুলির প্রভাব বাস্তবে কতটা দেখা যায়, সেটাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।