মোবাইল গেম এর সঙ্গে বাচ্চাদের সম্পর্ক অনেক গভীর। তবে লক্ষ লক্ষ টাকা বাচ্চার গেমের জন্য ব্যয় করা অবাক করার মতো বিষয়। এরকম একটি ঘটনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে ছয় বছরের একটি শিশু তার মায়ের ক্রেডিট কার্ড থেকে মোবাইল গেম এর জন্য প্রায় ১২ লক্ষ টাকা ব্যয় করেছে। উইলটন কানেকটিকাট USA-তে জর্জ জনসন নামে এই শিশু তার অ্যাপলের আইপ্যাড থেকে 'সোনিক ফোর্সেস' নামে তার প্রিয় ভিডিও গেমটি কেনার জন্য তার মায়ের ক্রেডিট কার্ড থেকে প্রায় প্রায় ১১.৮০ লক্ষ টাকা খরচ করেছে। 

আরও পড়ুন- আকর্ষণীয় লুক ও দুর্দান্ত ফিচার, ভারতের বাজের লঞ্চ হতে চলেছে Redmi 9 Power

নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে যে বছর ছয়েকের এই গেমার প্রথমে রেড রিং গুলি ১.৯৯ ডলারে এবং তারপরে সোনার রিংগুলি ৯৯.৯৯ ডলারে কিনে তার খেলার জন্য একটি বুস্টার কিনেছিল। প্রতিবার এই বুস্টারগুলিতে হাজার হাজার ডলার ব্যয় করলে প্লেয়াররা নতুন কোড-সহ এবং আরও স্পিড পায়। ছয় বছরের এই শিশুটি জুলাই মাসে এই গেম বুস্টারগুলি ক্রয়  করে। যার মূল্য মোট ২৫০০ ডলার ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১,৮০,০০০ টাকা। বাচ্চাটির মা দেখতে পায় যে তার অ্যাকাউন্ট থেকে  অ্যাপল এবং পেপল-এ এই বিপুল পরিমাণ অঙ্কের ট্রান্সাকশন হয়েছে। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন যে তিনি জালিয়াতির শিকার। যার পরে তিনি ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

আরও পড়ুন- সাধারণ টিভি কে বদলে দেবে স্মার্ট টিভিতে, বিনোদন জগতে পরিবর্তন আনতে চলেছে বাংলার এই ব্রডব্যান্ড পরিষেবা

জনসন-এর মায়ের ক্রেটিড কার্ডের বিল যখন ১১.৯৯ লক্ষ টাকা পৌঁছয় তখন তিনি এই জালিয়াতির দাবি করেছিলেন। তবে ব্যাঙ্কের থেকে তাঁকে জানানো হয়েছিল যে এই ট্রান্সাকশনগুলি তার অ্যাকাউন্ট থেকেই করা হয়েছে এবং এজন্য তাকে অ্যাপলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। অ্যাপলের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন যে, এটি তাঁর ছয় বছরের ছেলের কাজ। যে তার প্রিয় আইপ্যাড গেমের জন্য এই বিপুল পরিমান অর্থ ব্যয় করেছে। অ্যাপল এর তরফ থেকে জানানো হয় যে তারা এই বিষয়ে কোনও সাহায্য করতে পারবে না, কারণ বিগত ৬০ দিনের মধ্যে তাদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি।

জনসন-এর মা বলেছেন যে চার্জগুলি এমনভাবেই করা হয়েছিল যে, এটি কোনও খেলার জন্য ব্যয় হয়েছিল তা খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, তিনি তার অ্যাকাউন্টে কোনও সিকিউরিটি সেটিংস রাখেন নি। কারণ সেগুলি সম্পর্কে সে বিস্তারিত জানতেন না। তিনি বলেছিলেন, "অবশ্যই যদি আমি জানতাম যে এটির জন্য কোনও ব্যবস্থা রয়েছে, তবে আমি আমার ছয় বছরের ছেলেকে ভার্চুয়াল সোনার আংটির জন্য প্রায় ২০,০০০ ডলার ব্যয় করতে দিতাম না।"