হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলে পুলিশের ইউনিফর্ম পরা লোক? “আপনার নামে মানি লন্ডারিং কেস, এখনই ডিজিটাল অ্যারেস্ট হবেন, সব টাকা এই অ্যাকাউন্টে পাঠান”। এই ভয়েই কোটি কোটি টাকা খোয়াচ্ছে মানুষ। এবার জালিয়াতদের খেলা শেষ। CBI আনল নতুন AI অস্ত্র ‘অভয়’।

সকাল ১০টা। বেজে উঠল ভিডিও কল। ওপাশে পুলিশের ড্রেস। ব্যাকগ্রাউন্ডে থানার বোর্ড। গম্ভীর গলায় বলল, “স্যার, আমি CBI থেকে বলছি। আপনার আধার কার্ড দিয়ে দুবাইতে ড্রাগস পাচার হয়েছে। ২ ঘণ্টার মধ্যে ডিজিটাল অ্যারেস্ট হবেন। বাঁচতে চাইলে ৫ লাখ টাকা এখনই এই অ্যাকাউন্টে পাঠান।”

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

হাত-পা ঠান্ডা। মাথা কাজ করছে না। বাড়ির লোককে জানালেই বিপদ বাড়বে, এই ভয় দেখায় ওরা। ব্যাস, আপনি ফাঁদে পা দিলেন।

ভারতের আইনে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’, ‘ভার্চুয়াল থানা’, ‘অনলাইন জেরা’ বলে কিছু নেই। পুলিশ, CBI, ED, ইনকাম ট্যাক্স, কেউ কোনোদিন ফোনে, হোয়াটসঅ্যাপে, স্কাইপে আপনাকে গ্রেপ্তার করতে পারে না। অ্যারেস্ট করতে গেলে ওয়ারেন্ট লাগে, অফিসারকে সশরীরে আসতে হয়।

জালিয়াতরা ঠিক কীভাবে ফাঁসায়? ৪টে ধাপ:

১. ভয়: আপনার নামে মাদক, মানি লন্ডারিং, চাইল্ড পর্ন কেস।

২. আইসোলেশন: “কাউকে বলবেন না, বললে কেস আরও খারাপ হবে।”

৩. ভিডিও কল: ভুয়ো ইউনিফর্ম, ভুয়ো আইডি, পেছনে থানার সেট।

৪. টাকা: “জামিনের জন্য”, “ভেরিফিকেশনের জন্য” টাকা চাওয়া। টাকা গেলেই নম্বর ব্লক।

এবার CBI-এর পাল্টা চাল: ‘অভয়’ অ্যাপ

জালিয়াতদের টেকনোলজি দিয়েই মারতে CBI লঞ্চ করেছে AI-ভিত্তিক টুল ‘অভয়’।

অভয় কীভাবে কাজ করে?

১. ভয়েস ক্লোন ধরে: জালিয়াতরা AI দিয়ে অফিসারের গলা নকল করে। অভয় ৩০ সেকেন্ডে ধরে ফেলে গলাটা আসল না AI।

২. ভিডিও ব্যাকগ্রাউন্ড স্ক্যান: থানার যে সেট বানায়, সেটার পিক্সেল, লাইট, ছায়া স্ক্যান করে বলে দেবে এটা স্টুডিও না আসল থানা।

৩. নম্বর ডেটাবেস: CBI, পুলিশের সব অফিসিয়াল নম্বর অভয়-এর কাছে আছে। কলটা সেই লিস্টে না থাকলেই লাল সিগন্যাল।

৪. ডকুমেন্ট চেক: ওরা যে ওয়ারেন্ট, আইডি পাঠায়, সেটার QR, সিল, ফন্ট স্ক্যান করে ১০ সেকেন্ডে বলে দেবে জাল না আসল।

আপনাকে কী করতে হবে?

স্টেপ ১: ফোনে ‘অভয়’ অ্যাপ ইনস্টল করুন। CBI-এর অফিসিয়াল সাইট থেকে। প্লে স্টোরে এখনও আসেনি, ভুয়ো অ্যাপ থেকে সাবধান।

স্টেপ ২: সন্দেহজনক কল পেলেই কল রেকর্ড করুন বা স্ক্রিনশট নিন।

স্টেপ ৩: অভয় অ্যাপ খুলে ‘ভেরিফাই কল’ অপশনে ফাইল আপলোড করুন।

স্টেপ ৪: ৩০ সেকেন্ডে রেজাল্ট: সবুজ টিক মানে আসল, লাল ক্রস মানে ১০০% জালিয়াত। সাথে সাথে ১৯৩০-তে রিপোর্ট করার অপশনও পাবেন।

মনে রাখুন ৩টে গোল্ডেন রুল:

১. CBI, পুলিশ কোনোদিন টাকা চায় না। টাকা চাইলেই বুঝবেন জালিয়াত।

২. ভিডিও কলে জেরা হয় না। পুলিশ ডাকলে থানায় যেতে হয়, ভিডিও কলে নয়।

৩. আধার, OTP, ব্যাংক ডিটেইলস ফোনে কেউ চাইলে দেবেন না। সরকারের কোনো সংস্থা ফোনে এগুলো চায় না।

বাড়ির বয়স্ক মানুষকে কীভাবে বাঁচাবেন?

ওদের ফোনে কল ফরওয়ার্ডিং অন করে রাখুন আপনার নম্বরে। ‘Truecaller’ এ ‘Government Services’ অপশন অন করুন। আর আজই অভয় অ্যাপ বুঝিয়ে দিন। বলুন, “অচেনা পুলিশ কল পেলেই আমাকে না জানিয়ে কিছু করবে না।”

শেষ কথা:

জালিয়াতদের পুঁজি আপনার ভয়। ভয় পেলেন তো লাখ টাকা গেল। ‘অভয়’ আপনার হাতে থাকা মানে আপনি ভয় পাবেন না। জালিয়াতরাই এবার ভয় পাবে।