Tech News: নতুন রিসার্চ বলছে, চ্যাটজিপিটি ৭৮% কেসে ঠিক রোগ ধরতে পারছে। জ্বর, ডায়াবেটিস, স্কিন র‍্যাশ—সব বলে দিচ্ছে সেকেন্ডে। তাহলে কি আর ডাক্তারের চেম্বারে লাইন দেওয়ার দরকার নেই? AIIMS, হার্ভার্ডের ডাক্তাররা বলছেন—একদম না। কারণ বাকি ২২% ভুল মানে আপনার জীবন-মরণ প্রশ্ন। 

Tech News: হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের ২০২৫-এর স্টাডিতে ১০০টা জটিল কেস চ্যাটজিপিটি-৪ কে দেওয়া হয়। AI ৭৮টা কেসে একদম সঠিক ডায়াগনোসিস করেছে, ৯৮% কেসে সম্ভাব্য রোগের লিস্টে আসল রোগটা রেখেছে। কমন জ্বর, UTI, মাইগ্রেন, একজিমা—এগুলো ৯০% এর বেশি অ্যাকুরেসি। AI হাজার হাজার মেডিকেল জার্নাল, কেস স্টাডি পড়ে। তাই প্যাটার্ন ম্যাচিং-এ দুর্দান্ত। এটুকু শুনে মনে হবে, ডাক্তারের দিন শেষ।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

তাহলে সমস্যা কোথায়? বাকি ২২% ভুলের দাম জীবন:

৭৮% মানে প্রতি ৫ জনে ১ জনের ভুল ডায়াগনোসিস। আপনি যদি ওই ১ জন হন? AIIMS-এর ডিরেক্টর ডা. এম শ্রীনিবাস বলছেন, “AI কনটেক্সট বোঝে না।” রোগীর বয়স ২৫, বুকে ব্যথা, গ্যাস ভেবে অ্যান্টাসিড বলল। কিন্তু ওটা হার্ট অ্যাটাক ছিল। ECG, ইকো ছাড়া AI ধরবে কীভাবে? আবার মাথা ব্যথাকে টিউমার বলে প্যানিক করাতে পারে। ফলস পজিটিভ আর ফলস নেগেটিভ—দুটোই ভয়ঙ্কর। AI-এর ভুলে সুইসাইডের কেসও এসেছে।

ডাক্তার যা পারে, চ্যাটজিপিটি তা পারে না: ৫টা বড় ফারাক:

ক. ক্লিনিক্যাল আই: ডাক্তার রোগীর হাঁটা, কথা বলা, চোখের হলুদ ভাব, হাতের কাঁপুনি দেখে বোঝে। AI শুধু আপনার লেখা পড়ে।

খ. ফিজিক্যাল এক্সাম: পেট টেপা, স্টেথো দিয়ে বুক শোনা, প্রেশার মাপা—AI করবে কীভাবে? ৬০% রোগ ধরা পড়ে এই টাচ-এ।

গ. হিস্ট্রি ও ইমোশন: আপনার গত ১০ বছরের সুগার, ফ্যামিলিতে ক্যানসার আছে কিনা, আপনি টেনশনে খাওয়া ছেড়েছেন কিনা—ডাক্তার জিগ্যেস করে। AI-কে না বললে জানবে না।

ঘ. দায়িত্ব: ডাক্তারের ভুল হলে মেডিকেল কাউন্সিল আছে, কেস হয়। AI ভুল করলে কে দায় নেবে? OpenAI না আপনি?

ঙ. আপডেট ও লোকাল নলেজ: আপনার এলাকায় ডেঙ্গু চলছে নাকি চিকুনগুনিয়া, AI রিয়েল-টাইম জানে না। ডাক্তার জানে।

৪. AI কখন ইউজ করবেন, কখন একদম না: রেড লাইন টানুন

ইউজ করুন: ১. মেডিকেল টার্ম বুঝতে। CBC রিপোর্টে ‘Eosinophil’ বেশি মানে কী—AI বুঝিয়ে দেবে। ২. সেকেন্ড ওপিনিয়ন নিতে। ডাক্তার যা বলল, সেটা AI-কে জিগ্যেস করে ক্রস-চেক করুন। ৩. লাইফস্টাইল টিপস। সুগার কমাতে ডায়েট চার্ট, ব্যায়াম—AI ভালো দেয়।

জরুরি ভিত্তিতে: ১. ইমার্জেন্সি: বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান, বেশি ব্লিডিং—১০৮ ডায়াল করুন, চ্যাট না। ২. ওষুধের ডোজ: AI-এর কথায় প্যারাসিটামল ২টো খেয়ে লিভার ফেল করেছে—এমন কেস আছে। ৩. মানসিক রোগ: ডিপ্রেশন, সুইসাইডাল থট—AI থেরাপিস্ট না। হেল্পলাইন ৯১৫২৯৮৭৮২১ এ কল করুন।

ভবিষ্যৎ কী: ডাক্তার + AI = বেস্ট টিম

ডাক্তাররা AI-কে ভয় পাচ্ছেন না, ইউজ করছেন। X-ray, MRI রিপোর্ট পড়তে, ওষুধের ইন্টার‍্যাকশন চেক করতে AI হেল্প করছে। এতে ডাক্তারের সময় বাঁচে, ভুল কমে। PGI চণ্ডীগড়ে AI দিয়ে চোখের ছবি দেখে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি ধরছে। কিন্তু ফাইনাল সাইন ডাক্তারই করছে। তাই ভবিষ্যৎ ‘AI বনাম ডাক্তার’ না, ‘AI সহ ডাক্তার’। আপনার ডাক্তার যদি চ্যাটজিপিটি ইউজ করে, ভয় পাবেন না। উনি টেক-স্যাভি।

গুগল ডাক্তারি কেন রিস্কি: ৩টে কারণ

ক. হ্যালুসিনেশন: AI কনফিডেন্টলি ভুল তথ্য দেয়। ২০২৩-এ এক AI আইনি কেসে ভুয়ো জাজমেন্ট বানিয়েছিল। শরীর নিয়ে এটা হলে?

খ. বায়াস: AI আমেরিকার ডেটা দিয়ে ট্রেন্ড। ভারতীয় শরীর, ডায়েট, রোগের প্যাটার্ন আলাদা। অ্যানিমিয়া এখানে কমন, ওখানে রেয়ার।

গ. প্রাইভেসি: আপনি প্রেগন্যান্সি, STD-র কথা চ্যাটজিপিটিকে বললেন। এই ডেটা কোথায় যাচ্ছে? ডাক্তারের চেম্বার আইনত গোপন, AI না।

সেফ থাকার গোল্ডেন রুল: AI ইউজের ৩টি শর্ত

এক, AI-কে ডাক্তার ভাববেন না, ‘মেডিকেল স্টুডেন্ট’ ভাবুন। ও সাজেশন দেবে, ডিসিশন না।

দুই, AI যা বলবে, সেটা “আমারা ডাক্তারকে জিগ্যেস করব” মেন্টালিটি রাখুন। নিজে ওষুধ শুরু করবেন না।

তিন, সোর্স চান। “তুমি এটা কোথা থেকে বললে?” জিগ্যেস করুন। রেফারেন্স না দিলে বিশ্বাস করবেন না।

শেষ কথা:

চ্যাটজিপিটি ৭৮% ঠিক, মানে ১০০ তে ৭৮ জন বাঁচল। কিন্তু আপনি যদি ২২ জনের মধ্যে পড়েন? তাই ছোটখাটো ডাউট ক্লিয়ার করতে AI ইউজ করুন। কিন্তু বুক ধড়ফড়, পেটে ব্যথা, জ্বর ৩ দিনের বেশি—সোজা MBBS ডাক্তারের কাছে যান। স্টেথো আর এক্সপেরিয়েন্সের বিকল্প এখনও আসেনি।

এই আর্টিকেল সাধারণ তথ্যের জন্য। AI বা ইন্টারনেট কোনওটাই প্রফেশনাল মেডিকেল পরামর্শের বিকল্প নয়। শারীরিক বা মানসিক সমস্যায় রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ইমার্জেন্সিতে নিকটবর্তী হাসপাতালে যান বা ১০৮ এ কল করুন।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।