পেট্রোলের দাম ১০ টাকা ছুঁইছুঁই, আর E85 জ্বালানি ৮৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। শুনেই লোভ লাগছে? থামুন। সব গাড়িতে E85 ঢালা যায় না। E85 মানে ৮৫% ইথানল + ১৫% পেট্রোল। সস্তা, পরিবেশবান্ধব, কিন্তু মাইলেজ ৩০% কম, আর সাধারণ ইঞ্জিনে ঢাললে রিপেয়ার খরচ ৫০ হাজার। আপনার গাড়ি "ফ্লেক্স ফুয়েল" না হলে E85 = ইঞ্জিনের মৃত্যু। আগে চেক করুন, তারপর ট্যাঙ্ক ভরুন।

পাম্পে নতুন বোর্ড লাগছে "E20, E85 Available"। দাম শুনে অনেকে সাধারণ পেট্রোল গাড়িতেই ঢেলে দিচ্ছে। ২ মাস পর ইঞ্জিন, ফুয়েল পাম্প, রাবার পাইপ সব নষ্ট। মেকানিক বলছে "ইথানল ক্ষয় করে দিয়েছে"। E85 সবার জন্য না। এটা ফ্লেক্স ফুয়েল গাড়ির জন্য বানানো। আপনার Maruti, Hyundai, Tata-র নরমাল গাড়ি E10 পর্যন্তই সহ্য করতে পারে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

E85 = ৮৫% ইথানল + ১৫% পেট্রোল। ইথানল আসে আখ, ভুট্টা, ধানের গুঁড়ো থেকে। সরকার বানাচ্ছে কারণ বিদেশ থেকে তেল আমদানি কমবে + চাষিরা লাভ পাবে। দাম পেট্রোলের থেকে ১০-১৫ টাকা কম। পরিবেশ দূষণও ৪০% কম।

*সমস্যা ৩টি*

*মাইলেজ ২৫-৩০% কম*: ইথানলের এনার্জি পেট্রোলের থেকে কম। E85 ভরলে ১ লিটারে যত কিমি যেত, এখন ৭০ মিলির মতো যাবে। মানে টাকা বাঁচলেও ঘন ঘন পাম্প যেতে হবে।

*ইঞ্জিনের পার্টস ক্ষয়*: ইথানল রাবার, প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম ক্ষয় করে। নরমাল গাড়ির ফুয়েল লাইন, ইনজেক্টর, পাম্প E85 সহ্য করতে পারে না। ৬ মাসে লিকেজ শুরু।

*ঠাণ্ডায় স্টার্ট সমস্যা*: ১৫ ডিগ্রির নিচে ইথানল ঠিকমতো জ্বলে না। শীতের সকালে গাড়ি স্টার্ট নেবে না, বাড়তি ক্র্যাঙ্কিং লাগবে।

*আপনার গাড়িতে E85 চলবে? ১০ সেকেন্ডের টেস্ট*

*ফ্লেক্স ফুয়েল স্টিকার*: ফুয়েল ক্যাপের ভেতরে বা গাড়ির পেছনে "Flex Fuel", "E85", হলুদ গ্যাস ক্যাপ দেখুন। থাকলে ঢালতে পারবেন।

*কোম্পানির ম্যানুয়াল*: গাড়ির বইতে লেখা আছে "E10/E20 compatible"। E85 লেখা না থাকলে ঢালবেন না। ভারতে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৯% গাড়ি E20 পর্যন্তই অ্যাপ্রুভড।

*রুল অফ থাম্ব*: ২০১৫ সালের আগের গাড়ি + নরমাল পেট্রোল ইঞ্জিন = E85 একদম না। শুধু নতুন Toyota, Maruti-র কিছু ফ্লেক্স ফুয়েল মডেল E85 নিতে পারে।

*E85 ব্যবহার করলে ৪টি টিপস*

*মিক্স করে চালান*: হঠাৎ E85 ভরবেন না। প্রথমে E20 → তারপর E50 → তারপর E85। ইঞ্জিন ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হবে।

*ঘন ঘন ফুয়েল ফিল্টার বদলান*: ইথানল ট্যাঙ্কের ময়লা ধুয়ে আনে। ৫ হাজার কিমি অন্তর ফিল্টার চেক করুন।

*লম্বা সময় গাড়ি ফেলে রাখবেন না*: ইথানল জল টানে। ১ মাস গাড়ি না চললে ট্যাঙ্কে জল জমে ইঞ্জিনে জং ধরবে।

*সার্ভিস সেন্টারে জানান*: সার্ভিসের সময় বলুন E85 ব্যবহার করছেন। ওরা স্পেশাল ইঞ্জিন অয়েল আর পার্টস লাগাবে।

*তাহলে নেবেন নাকি নেবেন না?*

*নেবেন যদি*: আপনার গাড়ি Flex Fuel হয় + আপনি ট্যাক্সি/কমার্শিয়াল চালান + শহরে ঘন ঘন পাম্প আছে। সস্তা + ট্যাক্স ছাড় পাবেন।

*নেবেন না যদি*: সাধারণ ফ্যামিলি কার হয় + মাইলেজ ম্যাটার করে + লং ট্যুর করেন। E20-এর বেশি রিস্ক নেবেন না।

E85 ভবিষ্যতের ফুয়েল, কিন্তু সব গাড়ির ভবিষ্যৎ না। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে E20 বাধ্যতামূলক করছে। E85 এখনও পরীক্ষামূলক। লোভে পড়ে ট্যাঙ্ক ভরে ৫০ হাজার টাকার ইঞ্জিন রিপেয়ার করাবেন না।

*নোট*: E85 ব্যবহারের আগে গাড়ি কোম্পানির অনুমোদন চেক করুন। ম্যানুয়ালে E85 না লেখা থাকলে ব্যবহার করলে ওয়ারেন্টি বাতিল হবে। ভারতে E85 পাম্প খুব কম শহরে আছে। দাম রাজ্য ভেদে আলাদা। ইঞ্জিন ক্ষতি হলে কোম্পানি দায় নেবে না। ফুয়েল বদলানোর আগে মেকানিকের পরামর্শ নিন।