শুক্রবার ভোর ২টা ৫৫ মিনিটে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারের দ্বিতীয় লঞ্চ প্যাড থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় GSLV-F17। ৫১.৭ মিটার উঁচু এবং ৪২০.৫ টন ওজনের তিন-ধাপের এই রকেট প্রায় ২,৩৬৭ কেজি ওজনের EOS-05 উপগ্রহকে নির্ধারিত সাব-জিওসিঙ্ক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিটে পৌঁছে দেয়।

ভারতের মহাকাশ গবেষণায় বড় সাফল্য। শুক্রবার ভোরে সফল উৎক্ষেপণের পর ভারতের প্রথম জিওসিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথে কাজ করার উপযোগী ইমেজিং স্যাটেলাইট EOS-05-কে নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছে দিল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO)-র GSLV-F17 রকেট। শুক্রবার ভোর ২টা ৫৫ মিনিটে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারের দ্বিতীয় লঞ্চ প্যাড থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় GSLV-F17। ৫১.৭ মিটার উঁচু এবং ৪২০.৫ টন ওজনের তিন-ধাপের এই রকেট প্রায় ২,৩৬৭ কেজি ওজনের EOS-05 উপগ্রহকে নির্ধারিত সাব-জিওসিঙ্ক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিটে পৌঁছে দেয়।

এটি ছিল GSLV-এর ১৯তম উড়ান। EOS-05-কে প্রায় ১৭১ কিলোমিটার পেরিজি, ৩১,০২৬ কিলোমিটার অ্যাপোজি এবং ১৯.২৮ ডিগ্রি ইনক্লিনেশন-সহ জিওসিঙ্ক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিটে স্থাপন করা হয়েছে। এরপর উপগ্রহটির নিজস্ব থ্রাস্টার ব্যবহার করে একাধিক ধাপে সেটিকে চূড়ান্ত কক্ষপথে নিয়ে যাওয়া হবে। ISRO চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন জানান, রকেটটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে উপগ্রহটিকে নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপন করেছে। শ্রীহরিকোটা থেকে এটি ছিল ১০৭তম উৎক্ষেপণ এবং GSLV-এর ১৯তম মিশন।

তিনি বলেন, প্রথম GSLV উৎক্ষেপণে যেখানে ১,৫৩৬ কেজি ওজনের পেলোড বহন করা হয়েছিল, এবার রকেটটি তার ইতিহাসে সবচেয়ে ভারী ২,৩৬৭ কেজি পেলোড বহন করেছে। কাঠামোগত ওজন কমানো এবং প্রপালশন ব্যবস্থার উন্নতির মাধ্যমে ধীরে ধীরে রকেটটির সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।

EOS-05 হল জিওসিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথ থেকে কাজ করার জন্য ভারতের প্রথম বিশেষভাবে তৈরি ইমেজিং স্যাটেলাইট। এই উপগ্রহ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত তথ্য পাওয়া যাবে। ISRO জানিয়েছে, চলতি অর্থবর্ষে আরও ছয়টি উৎক্ষেপণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নেভিগেশন স্যাটেলাইট NVS-03 এবং গগনযানের প্রথম মানবহীন মিশন।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারতের ২১টি আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট সক্রিয় ছিল। এর বেশিরভাগই লো-আর্থ অরবিট অথবা সান-সিঙ্ক্রোনাস পোলার অরবিটে রয়েছে। জিওস্টেশনারি কক্ষপথ থেকে পৃথিবী পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে বর্তমানে INSAT-3D, INSAT-3DR এবং INSAT-3DS-এর মতো আবহাওয়া উপগ্রহগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

EOS-05-এর বিশেষত্ব হল এটি জিওসিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথ থেকে কাজ করবে। ফলে পৃথিবীর একই বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে প্রায় নিরবচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। সাধারণ লো-আর্থ অরবিটের উপগ্রহগুলি পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করার সময় নির্দিষ্ট এলাকার উপর দিয়ে মাঝে মাঝে যায়। ফলে একই জায়গায় ফের ছবি তুলতে সময় লাগে। কিন্তু প্রায় ৩৬,০০০ কিলোমিটার উচ্চতায় জিওসিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথে থাকা উপগ্রহ পৃথিবীর ঘূর্ণনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলায় নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলের উপর প্রায় স্থির অবস্থানে থাকতে পারে। এর ফলে ঝড়, বজ্রপাত, অগ্নিকাণ্ডের মতো দ্রুত পরিবর্তনশীল ঘটনাও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।

EOS-05-এ দুটি মাল্টিস্পেকট্রাল ইমেজার রয়েছে। এর মধ্যে একটি ক্যামেরার প্রতি পিক্সেলে ৪২ মিটার স্পেশিয়াল রেজোলিউশন রয়েছে, যা জিওস্টেশনারি কক্ষপথে থাকা ক্যামেরাগুলির মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ রেজোলিউশন। উপগ্রহটি পৃথিবীর বিশদ ছবি তোলার পাশাপাশি জমি ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়মিত তথ্য সরবরাহ করবে।

EOS-05, যা Gisat-1A নামেও পরিচিত, ২০২১ সালের ১২ আগস্ট উৎক্ষেপণের সময় হারিয়ে যাওয়া Gisat-1-এর জায়গা পূরণ করবে। সেই সময় GSLV-F10 রকেটের ক্রায়োজেনিক আপার স্টেজে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে সঠিকভাবে ইঞ্জিন চালু হয়নি এবং মিশনটি ব্যর্থ হয়। সেই উৎক্ষেপণ সফল হলে Gisat-1-ই জিওস্টেশনারি কক্ষপথ থেকে কাজ করা ভারতের প্রথম পৃথিবী-ইমেজিং উপগ্রহ হতে পারত। GSLV-F17-এর এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে প্রায় আট মাস পর ফের বড় উৎক্ষেপণ অভিযানে ফিরল ISRO।