নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘মিউজ’ (Muse) চালু করেছে মেটা। এটি এমন এক ধরনের AI এজেন্ট, যা শুধু ব্যবহারকারীর নির্দেশ বা প্রম্পটের জবাব দেবে না, বরং ব্যবহারকারীর হয়ে বিভিন্ন কাজও স্বাধীনভাবে সম্পন্ন করতে পারবে।

নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘মিউজ’ (Muse) চালু করেছে মেটা। এটি এমন এক ধরনের AI এজেন্ট, যা শুধু ব্যবহারকারীর নির্দেশ বা প্রম্পটের জবাব দেবে না, বরং ব্যবহারকারীর হয়ে বিভিন্ন কাজও স্বাধীনভাবে সম্পন্ন করতে পারবে। মঙ্গলবার লঞ্চ হওয়া এই টুলটি ব্যবহারকারীর সামান্য হস্তক্ষেপেই ইমেল পাঠানো, ভ্রমণের ব্যবস্থা করা, সময়সূচি পরিচালনা, অনলাইনে কেনাকাটা-সহ নানা দৈনন্দিন কাজ করতে সক্ষম। প্রাথমিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের জন্য ‘মিউজ’ চালু করা হয়েছে। ডেডিকেটেড অ্যাপের পাশাপাশি মেটার হোয়াটসঅ্যাপ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও এই AI অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্যবহার করা যাবে। মেটার CEO মার্ক জাকারবার্গ ‘মিউজ’ সম্পর্কে বলেন, এটি এমন একটি ব্যক্তিগত এজেন্ট, যা ব্যবহারকারীর লক্ষ্য বুঝে সেই অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করতে পারে এবং দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় থাকতে পারে।

গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে মেটা। সংস্থার দাবি, ‘মিউজ’ তৈরির সময় শুরু থেকেই নিরাপত্তা ও ব্যবহারকারীর তথ্যের গোপনীয়তার বিষয়টি মাথায় রাখা হয়েছে। ব্যবহারকারীর ডেটা ও লগইন সংক্রান্ত তথ্য ‘মিউজ সিকিউর ভিএম’ (Muse Secure VM)-এ সংরক্ষিত থাকে। এটি একটি পৃথক বা আইসোলেটেড Linux কম্পিউটার, যেখানে ব্রাউজার, CPU, মেমোরি ও স্টোরেজের মতো প্রয়োজনীয় সুবিধা রয়েছে।

চ্যাটবটের চেয়ে কীভাবে আলাদা ‘মিউজ’?

সাধারণ AI চ্যাটবটের মূল কাজ যেখানে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, সেখানে ‘মিউজ’ নির্দেশ পাওয়ার পর ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ চালিয়ে যেতে পারে। ডেডিকেটেড ভার্চুয়াল মেশিনের মাধ্যমে কাজ করার ফলে এটি ইমেল, ক্যালেন্ডার, পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম, শপিং অ্যাপ এবং স্মার্ট-হোম সিস্টেমের মতো বিভিন্ন পরিষেবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।

কোন কোন অ্যাপ বা পরিষেবায় ‘মিউজ’ প্রবেশ করতে পারবে, তা ব্যবহারকারীরাই নির্ধারণ করবেন। প্রয়োজনে যে কোনও সময় দেওয়া অনুমতি বাতিলও করা যাবে। ব্যবহারকারীর কথোপকথন AI মডেল প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার না করার জন্যও একটি বিশেষ অপশন রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে মেটা। পাশাপাশি চলতি বছরের শেষের দিকে এই পরিষেবার একটি এনক্রিপ্টেড সংস্করণ আনার পরিকল্পনাও রয়েছে সংস্থাটির।

বিনামূল্যে ব্যবহারের পাশাপাশি থাকবে পেড প্ল্যান

মেটা ‘মিউজ’-এর একটি বিনামূল্যের সংস্করণ চালু করছে। যাঁরা তুলনামূলক বেশি মাত্রায় এই AI অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্যবহার করতে চান, তাঁদের জন্য পেড সাবস্ক্রিপশনের ব্যবস্থাও থাকবে। ভবিষ্যতে স্মার্ট গ্লাস প্ল্যাটফর্মেও ‘মিউজ’ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে মেটার। ফলে স্মার্ট গ্লাসের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা আরও সহজে AI অ্যাসিস্ট্যান্টের বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।

‘পার্সোনাল সুপার-ইন্টেলিজেন্স’-এর পথে মেটা

‘মিউজ’ চালুর মাধ্যমে AI এজেন্ট তৈরির প্রতিযোগিতায় আরও জোরালোভাবে প্রবেশ করল মেটা। জাকারবার্গ এই প্রযুক্তিকে ‘পার্সোনাল সুপার-ইন্টেলিজেন্স’ বা ব্যক্তিগত অতি-বুদ্ধিমত্তার দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এই ধরনের AI ব্যবস্থা শুধু প্রশ্নের উত্তর দেবে না, বরং ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য পূরণেও সক্রিয়ভাবে সাহায্য করতে পারবে।

তবে এর সঙ্গে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার ঝুঁকিও রয়েছে। কোনও AI অ্যাসিস্ট্যান্টকে ব্যক্তিগত তথ্য এবং ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি দিলে অনিচ্ছাকৃত কাজ বা অপব্যবহারের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। মেটার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই কারণেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে চলতি বছরের শুরুতে ‘মিউজ’-এর রিলিজ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়া সংবেদনশীল কাজ যাতে সম্পন্ন না হয়, সে জন্য বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা তৈরি করেছে মেটা। কোনও কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই তা পর্যালোচনা করা হবে এবং সংবেদনশীল ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে।

মেটার মূল বিজ্ঞাপন ব্যবসার বাইরে নতুন আয়ের উৎস খোঁজার সময়েই ‘মিউজ’ চালু করা হল। একই সঙ্গে AI পরিকাঠামোয় বিপুল বিনিয়োগের যৌক্তিকতা প্রমাণেরও চেষ্টা করছে সংস্থাটি। মেটার পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরে AI-সম্পর্কিত হার্ডওয়্যার ও উন্নয়নের পেছনে ১৩০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি খরচ হতে পারে। সব মিলিয়ে, ‘মিউজ’-এর আত্মপ্রকাশ মেটার AI পরিকল্পনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। চ্যাটবটের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ব্যবহারকারীর হয়ে বাস্তব কাজ করতে সক্ষম AI অ্যাসিস্ট্যান্ট তৈরির দিকেই যে প্রযুক্তি সংস্থাগুলি এগোচ্ছে, ‘মিউজ’ সেই পরিবর্তনেরই একটি উদাহরণ।