একসময় ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ছিল Orkut। বন্ধুদের প্রোফাইল দেখা, একে অপরের প্রোফাইলে বার্তা লেখা এবং পছন্দের কমিউনিটিতে যুক্ত হওয়ার জন্য এই প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। বিশেষ করে ২০০০-এর দশকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছে Orkut ছিল এক আলাদা আবেগের নাম।

একসময় ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ছিল Orkut। বন্ধুদের প্রোফাইল দেখা, একে অপরের প্রোফাইলে বার্তা লেখা এবং পছন্দের কমিউনিটিতে যুক্ত হওয়ার জন্য এই প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। বিশেষ করে ২০০০-এর দশকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছে Orkut ছিল এক আলাদা আবেগের নাম। ২০১৪ সালে গুগল এই পরিষেবা বন্ধ করে দেয়। তবে প্রায় ১২ বছর পর ফের আলোচনায় উঠে এসেছে এই প্ল্যাটফর্ম। Orkut-এর প্রতিষ্ঠাতা Orkut Buyukkokten একটি নতুন সোশ্যাল নেটওয়ার্ক তৈরির জন্য সাধারণ মানুষের সমর্থন চেয়েছেন। তবে এখনই পুরনো Orkut ফিরে আসছে, এমনটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আপাতত একটি প্রচারের মাধ্যমে নতুন সোশ্যাল নেটওয়ার্ক তৈরির বিষয়ে মানুষের আগ্রহ যাচাই করা হচ্ছে।

Google-এর সঙ্গে Orkut-এর সম্পর্ক কী?

২০০৪ সালে গুগলের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার Orkut Buyukkokten নিজের নামেই Orkut নামে একটি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক তৈরি করেন। সেই সময় ভারত ও ব্রাজিলে এই প্ল্যাটফর্ম ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রোফাইল তৈরি করতে পারতেন, বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে তৈরি কমিউনিটিতে আলোচনায় অংশ নিতে পারতেন।

Orkut-এর অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘Scrap’ এবং ‘Testimonial’ ফিচার। বন্ধুদের প্রোফাইলে প্রকাশ্যে বার্তা লেখা যেত। পাশাপাশি একে অপরের সম্পর্কে প্রশংসাসূচক মন্তব্য বা অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নেওয়া যেত। সিনেমা, গান, কলেজ, শহর কিংবা দৈনন্দিন পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে আলোচনা করার জন্য ছিল নানা কমিউনিটি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে Facebook-সহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে Orkut পরিষেবা বন্ধ করে দেয় Google।

কেন ফের Orkut নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে?

বর্তমানে Instagram, Facebook-সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে AI-নির্মিত কনটেন্ট, ভুয়ো প্রোফাইল এবং অ্যালগরিদমের প্রভাব নিয়ে বিতর্ক চলছে। এই পরিস্থিতিতে Orkut-এর প্রতিষ্ঠাতা এমন একটি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক তৈরির ভাবনা সামনে এনেছেন, যেখানে লাইক, ভিউ কিংবা স্ক্রিনে ব্যবহারকারীদের বেশি সময় ধরে আটকে রাখার পরিবর্তে গুরুত্ব পাবে প্রকৃত বন্ধুত্ব ও মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ। 0তাঁর বক্তব্য, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করা। কিন্তু বর্তমানে অনেক প্ল্যাটফর্মের মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছে ব্যবহারকারীদের মনোযোগ ধরে রাখা এবং তাঁদের আরও বেশি সময় অনলাইনে সক্রিয় রাখা।

Orkut-এর প্রতিষ্ঠাতার মতে, AI দিয়ে তৈরি ছবি, ভিডিও, পোস্ট এবং বটের ব্যবহার বাড়তে থাকায় অনলাইনে কার সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে, তিনি আদৌ বাস্তব মানুষ কি না, তা বোঝা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। তবে তিনি AI প্রযুক্তির সম্পূর্ণ বিরোধী নন। বরং তাঁর ভাবনা, AI-কে এমনভাবে ব্যবহার করা উচিত, যাতে মানুষ নতুন বন্ধু খুঁজে পান, পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ ফেরাতে পারেন এবং নিজেদের পছন্দের কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন।

সত্যিই কি ফিরছে পুরনো Orkut?

এই প্রশ্নের উত্তর আপাতত ‘না’ বলাই সঠিক। কারণ, পুরনো Orkut-এর ওয়েবসাইট ও অ্যাকাউন্টগুলি এখনও নতুন করে চালু হয়নি। বর্তমানে Orkut-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে একটি প্রচারাভিযান চলছে। সেখানে আগ্রহীরা নিজেদের নাম নথিভুক্ত করে নতুন সোশ্যাল নেটওয়ার্ক তৈরির উদ্যোগকে সমর্থন জানাতে পারেন। নতুন সোশ্যাল নেটওয়ার্ক কবে চালু হবে, আদৌ কবে ব্যবহারকারীরা সেখানে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন, সে বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট ঘোষণা করা হয়নি।

১১৫টি দেশের মানুষের সমর্থন, কতটা জনপ্রিয় এই উদ্যোগ?

প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, Orkut-কে নতুন রূপে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগে ১১৫টি দেশের মানুষের কাছ থেকে ২.৬ লক্ষেরও বেশি সমর্থন জমা পড়েছিল। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, পুরনো প্ল্যাটফর্মটিকে ঘিরে এখনও মানুষের আগ্রহ রয়েছে। তবে এই সমর্থনই যে নতুন সোশ্যাল নেটওয়ার্কের সাফল্য নিশ্চিত করবে, তা নয়। নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি হলে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, ভুয়ো অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণ, অনলাইন নিরাপত্তা এবং আপত্তিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

আগামী দিনে কী হতে পারে?

আপাতত Orkut-এর প্রতিষ্ঠাতা একটি নতুন সোশ্যাল নেটওয়ার্ক তৈরির জন্য মানুষের সমর্থন সংগ্রহ করছেন। তাঁর লক্ষ্য এমন একটি ডিজিটাল পরিসর তৈরি করা, যেখানে প্রকৃত মানুষ, বন্ধুত্ব এবং কমিউনিটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কিন্তু নতুন প্ল্যাটফর্মটির নাম কী হবে, কবে এটি চালু হবে, পুরনো ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট বা তথ্য ফিরিয়ে আনা হবে কি না—এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও অজানা।