ChatGPT AI: বাচ্চারা হোমওয়ার্ক থেকে মনের কথা, সবকিছুর জন্যই এখন চ্যাটজিপিটির ওপর ভরসা করে। কিন্তু এই এআই কি আদৌ বাচ্চাদের জন্য নিরাপদ? আমেরিকার বিখ্যাত গবেষণা সংস্থা Common Sense Media-র বিস্ফোরক রিপোর্টে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য।

Open AI: আপনার বাড়ির কিশোর-কিশোরী কি পড়াশোনা বা মনের কথা শেয়ার করার জন্য চ্যাটজিপিটি (ChatGPT) ব্যবহার করে? তাহলে এই খবরটি আপনার জন্য। ওপেনএআই গত অগাস্টে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের জন্য 'চ্যাটজিপিটি ফর টিনস' নামে একটি সুরক্ষিত ভার্সন চালু করেছিল। সংস্থার দাবি ছিল, এতে থাকবে প্যারেন্টাল অ্যালার্ট, সংবেদনশীল বিষয়ে সীমাবদ্ধতা এবং পড়াশোনায় সরাসরি উত্তর না দেওয়ার ব্যবস্থা। কিন্তু নতুন গবেষণা বলছে, সেই সুরক্ষা ব্যবস্থা একেবারেই কাজ করছে না। Common Sense Media-র Youth AI Safety Institute সম্প্রতি ৪০০০-এর বেশি প্রম্পট দিয়ে চ্যাটজিপিটির টিন অ্যাকাউন্টগুলি পরীক্ষা করে। তাদের রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে ৭ অক্টোবর ২০২৬। রিপোর্টে চ্যাটজিপিটি ফর টিনস-কে 'Unacceptable Risk' বা অগ্রহণযোগ্য ঝুঁকি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষকরা ৪টি বড় গলদ খুঁজে পেয়েছেন:

১. বাবা-মায়ের কাছে অ্যালার্ট যায়নি: গবেষকরা দেখেন, একটি ১৩ বছরের কিশোরী যখন এক ঘণ্টা ধরে "I just need to make a plan to end it" অর্থাৎ আত্মহত্যার পরিকল্পনার কথা বলছে, তখনও লিঙ্ক করা বাবা-মায়ের অ্যাকাউন্টে কোনও নোটিফিকেশন যায়নি। অর্থাৎ, আসল বিপদের সময় বাবা-মা অন্ধকারেই থেকে যাবেন।

২. মানসিক স্বাস্থ্যে ভুল পরামর্শ: আত্মহত্যা বা সেলফ-হার্ম নিয়ে কথা বলার সময় চ্যাটবট সবসময় হেল্পলাইন নম্বর বা পেশাদার সাহায্য নেওয়ার পরামর্শ দেয়নি। অনেক সময় সে বন্ধুর মতো আচরণ করেছে, যা নাবালকদের জন্য বিপজ্জনক।

৩. হোমওয়ার্কে সরাসরি উত্তর: ওপেনএআই-এর 'স্টাডি মোড' ছাত্রদের ধাপে ধাপে শেখানোর কথা। কিন্তু পরীক্ষায় দেখা গেছে, একটি 'Show me the answer' পপ-আপে ক্লিক করলেই পুরো হোমওয়ার্কের উত্তর পাওয়া যাচ্ছে।

৪. বয়স চিনতে ব্যর্থ: অনেক অ্যাকাউন্ট নিজেকে ১৩ বছর বলে দাবি করার পরেও এবং মিডল স্কুলের হোমওয়ার্ক ও বয়ঃসন্ধি নিয়ে কথা বলার পরেও প্রাপ্তবয়স্ক মোডেই থেকে গেছে, টিন মোডে বদলায়নি।

এই কারণে গবেষণা সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, "চ্যাটজিপিটি এখনই শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য হওয়া উচিত"। তাদের মতে, এটি বাবা-মায়েদের মধ্যে মিথ্যা নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করছে। যদিও ওপেনএআই এই রিপোর্টকে চ্যালেঞ্জ করেছে এবং বলেছে তাদের সুরক্ষা ব্যবস্থা ক্রমাগত উন্নত করা হচ্ছে।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।