নাসার আর্টেমিস ২ (Artemis 2 Mission) মিশন হল ৫৪ বছরের মধ্যে চাঁদে মানুষ ফিরিয়ে আনার প্রথম অভিযান (Nasa Moon Mission)। এই মিশনটি শুধু একটি উড়ান নয়, বরং মানবজাতির জন্য মহাকাশ ভ্রমণের এক নতুন যুগের সূচনা। ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো ১৭-এর পর এই প্রথম মানুষ চাঁদে পৌঁছবে।
নাসার আর্টেমিস ২ (Artemis 2 Mission) মিশন হল ৫৪ বছরের মধ্যে চাঁদে মানুষ ফিরিয়ে আনার প্রথম অভিযান (Nasa Moon Mission)। এই মিশনটি শুধু একটি উড়ান নয়, বরং মানবজাতির জন্য মহাকাশ ভ্রমণের এক নতুন যুগের সূচনা। ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো ১৭-এর পর এই প্রথম মানুষ চাঁদে পৌঁছবে। এই মিশনে, চারজন মহাকাশচারী একটি ওরিয়ন ক্যাপসুলে করে চাঁদের চারপাশে ভ্রমণ করবেন এবং ফিরে আসবেন। এটি কোনও অবতরণ মিশন নয়, তবে এটি ভবিষ্যতের চন্দ্র অবতরণ এবং দীর্ঘমেয়াদী অবস্থানের জন্য ভিত্তি স্থাপন করবে।
কারা পাড়ি দেবেন?
- রিড ওয়াইসম্যান (কমান্ডার): প্রাক্তন নৌসেনা পাইলট। ১৬৫ দিন মহাকাশে কাটানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে।
- ভিক্টর গ্লোভার (পাইলট): নাসার ক্রু-১ অভিযানে সামিল হয়েছিলেন।
- ক্রিস্টিনা কচ (অভিযান বিশেষজ্ঞ): মহিলা হিসাবে সবচেয়ে বেশি সময় স্পেসফ্লাইট চালিয়েছেন।
- জেরেমি হানসেন: কানাডিয়ান মহাকাশ সংস্থার মহাকাশচারী।
মানবতা, মহাকাশ অভিযান এবং বিজ্ঞানের জন্য এর কী কী সুবিধা রয়েছে?
মানবজাতির জন্য আর্টেমিস ২-এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল আমরা চাঁদে আমাদের যাত্রা পুনরায় শুরু করছি। এটি মহাকাশের প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ বাড়াবে এবং নতুন বিজ্ঞানীদের প্রস্তুত করবে। এটি মহাকাশ অভিযানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি গভীর মহাকাশে ওরিয়ন মহাকাশযান, এসএলএস রকেট এবং মানুষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করবে। এই মিশন সফল হলে এটি আর্টেমিস ৩-এ চন্দ্র অবতরণ এবং আর্টেমিস ৪-এ একটি স্থায়ী চন্দ্র ঘাঁটি স্থাপনের পথ প্রশস্ত করবে। বিজ্ঞানও এর থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হবে। এই অভিযানটি চাঁদের দূরবর্তী অংশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করবে, যা বিকিরণ এবং মানবদেহে গভীর মহাকাশের প্রভাব সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি দেবে। এই তথ্য মঙ্গল গ্রহে ভবিষ্যতের অভিযানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। সামগ্রিকভাবে, এই অভিযানটি মানবজাতির জন্য চাঁদ এবং তার বাইরে যাওয়ার একটি নতুন পথ তৈরি করবে।
কখন উৎক্ষেপণ? (artemis 2 launch time)
ভারতীয় প্রমাণ সময় (IST) অনুযায়ী সন্ধ্যায় উৎক্ষেপণের সরাসরি সম্প্রচার শুরু হবে। ভারতে যারা আছেন, তারা সন্ধ্যা ৬:৩০ থেকে রাত ৮:৩০ এর মধ্যে এটি সরাসরি দেখতে পারবেন। তবে, আবহাওয়া এবং প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে এই সময়সীমা পরিবর্তিত হতে পারে। নাসা উৎক্ষেপণের জন্য দুই ঘণ্টার একটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। আপনি নাসা টিভি, নাসার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল এবং নাসার অ্যাপে উৎক্ষেপণটি সরাসরি দেখতে পারবেন। এছাড়াও আপনি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে (এক্স এবং ফেসবুক) আপডেট পাবেন।
৫৪ বছর পর এই অভিযানের প্রয়োজন কেন হল?
১৯৭২ সালে অ্যাপোলো কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার চন্দ্র অভিযান কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়। সেই সময়ে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে মনোযোগ পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের দিকে সরে গিয়েছিল। কিন্তু পৃথিবী বদলে গেছে। চাঁদে জল, খনিজ এবং ভবিষ্যতের মহাকাশ অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য সম্পদ রয়েছে। তাই, নাসা আর্টেমিস অভিযান শুরু করে। আর্টেমিস ২ হল এই কর্মসূচির দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযান, যা মানুষকে আবার চাঁদে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।
বেসরকারি সংস্থাগুলোর চাপে কি এটি হচ্ছে?
না, আর্টেমিস ২ মূলত নাসার একটি সরকারি কর্মসূচি। যদিও স্পেসএক্স এবং ব্লু অরিজিনের মতো বেসরকারি সংস্থাগুলো সহযোগিতা করছে, তবে এই অভিযানটি মূলত নাসা এবং মার্কিন সরকার দ্বারা পরিচালিত। ভবিষ্যতে বেসরকারি সংস্থাগুলো চাঁদে ল্যান্ডার এবং অন্যান্য পরিষেবা সরবরাহ করবে, কিন্তু আর্টেমিস ২ এখনও একটি সরকারি অভিযান।
এটি কি ভিনগ্রহী অনুসন্ধানের জন্য?
না। আর্টেমিস ২-এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য ভিনগ্রহীদের সন্ধান করা নয়। এর উদ্দেশ্য হল বৈজ্ঞানিকভাবে চাঁদকে অধ্যয়ন করা, সম্পদের অনুসন্ধান করা এবং ভবিষ্যতের অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। ভিনগ্রহী বা প্রাণের সন্ধানের জন্য ইউরোপা ক্লিপার এবং মার্স স্যাম্পল রিটার্নের মতো পৃথক অভিযান রয়েছে।
চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতা কি একটি কারণ?
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। চিন দ্রুত চাঁদে তার প্রভাব বিস্তার করছে। এটি চ্যাং'ই কর্মসূচির অধীনে চাঁদের নমুনা সংগ্রহ করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে একটি চাঁদে ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। রাশিয়াও চিনের সঙ্গে মিলে একটি আন্তর্জাতিক চন্দ্র গবেষণা কেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা করছে। যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে পড়ে, তবে চিন চাঁদের সম্পদ এবং কৌশলগত অবস্থানে আধিপত্য বিস্তার করবে। তাই, আর্টেমিস কর্মসূচি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে চাঁদে ফিরতে এবং আরও অগ্রগতি লাভ করতে সাহায্য করছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কি চাঁদে ঘাঁটি তৈরি করে আধিপত্য বিস্তার করতে চায়?
হ্যাঁ, এটি অন্যতম প্রধান কারণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর্টেমিস অ্যাক্সিলারেটরের অধীনে চাঁদে একটি স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন করতে চায়। সেখানে জলীয় বরফ এবং হিলিয়াম-৩ এর মতো সম্পদ রয়েছে, যা ভবিষ্যতের শক্তি ও জ্বালানির জন্য উপযোগী হতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাঁদে তার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে এবং মহাকাশে তার কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করতে চায়।


