WhatsApp: “হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস এসে গেছে, ডিলিট মেসেজ দেখুন, ব্লু টিক হাইড করুন, ১০০MB ভিডিও পাঠান” – এমন মেসেজ ফেসবুক-ইউটিউবে ভাইরাল। কিন্তু সাবধান। হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস Meta-র বানানো অফিশিয়াল অ্যাপ নয়। এটা থার্ড পার্টি মোড APK।
WhatsApp: বন্ধুর স্ট্যাটাসে দেখলেন – “আমি WhatsApp Plus ইউজ করছি, তুমিও করো। দারুণ ফিচার।” সাথে একটা লিঙ্ক।

ক্লিক করলেই apk ফাইল ডাউনলোড শুরু। নামালেই নাকি ম্যাজিক। মেসেজ ডিলিট করলেও দেখা যাবে। লাস্ট সিন ফ্রিজ করে রেখে চ্যাট করা যাবে। থিম বদলে হোয়াটসঅ্যাপ হবে গোলাপি-কালো।
ইনস্টল করার আগে ২ মিনিট পড়ুন
কিন্তু দাঁড়ান। ইনস্টল করার আগে ২ মিনিট পড়ুন। না হলে ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স আর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর – দুটোই হারাতে পারেন।
হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস জিনিসটা কী? Meta বানিয়েছে? এক কথায় উত্তর: না। WhatsApp Plus, GB WhatsApp, FM WhatsApp, Yo WhatsApp – এগুলোর একটাও Meta বা অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ টিমের বানানো নয়।
এগুলো হল ‘মোডেড অ্যাপ’। কিছু প্রোগ্রামার অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপের কোড কপি করে, তার মধ্যে এক্সট্রা ফিচার ঢুকিয়ে নতুন নামে ছেড়েছে। গুগল প্লে-স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে পাবেন না। কারণ সিকিউরিটি ইস্যুর জন্য গুগল-অ্যাপল এগুলো ব্লক করে রেখেছে।
কোন ‘অবিশ্বাস্য ফিচার’ এর লোভ দেখাচ্ছে? মোড অ্যাপগুলো মূলত এই ৬টা ফিচার দিয়ে ইউজার টানে:
১. সুপার প্রাইভেসি: ব্লু টিক, সেকেন্ড টিক, ‘টাইপিং…’, ‘রেকর্ডিং…’ – সব হাইড। আপনি সিন করলেও অন্যে বুঝবে না। লাস্ট সিন ফ্রিজ করে রাখা যাবে। ২. অ্যান্টি-ডিলিট: কেউ মেসেজ বা স্ট্যাটাস ‘ডিলিট ফর এভরিওয়ান’ করলেও আপনার কাছে থেকে যাবে। ৩. লিমিট হ্যাক: ১০০MB-র ভিডিও, ১০০টা ছবি একসাথে, ৭ মিনিটের স্ট্যাটাস। অরিজিনাল কোয়ালিটিতে পাঠানো যাবে। ৪. কাস্টম লুক: ৪০০০+ থিম। চ্যাট বাবল, টিক মার্ক, ফন্টের কালার-সাইজ সব পাল্টানো যাবে। ৫. অটো-রিপ্লাই: আপনি অফলাইন থাকলেও সেট করা মেসেজ অটো চলে যাবে। ৬. DND মোড: শুধু হোয়াটসঅ্যাপের ইন্টারনেট অফ করে রাখা যাবে, বাকি ফোনে নেট চলবে।
শুনে মনে হবে, “ইশ, এগুলো তো অফিশিয়াল অ্যাপে থাকলে ভালো হতো।”
কিন্তু এই ফ্রি ফিচারের দাম কত? জানুন ৫টা মারণ রিস্ক
রিস্ক ১: নম্বর পার্মানেন্ট ব্যান হোয়াটসঅ্যাপের অফিশিয়াল FAQ-তে লেখা আছে – “Unsupported app” ইউজ করলে প্রথমে ২৪ ঘণ্টার টেম্পোরারি ব্যান। তারপরেও চালালে পার্মানেন্ট ব্যান। মানে ওই নম্বরে আর কোনওদিন হোয়াটসঅ্যাপ খুলবে না। বিজনেস নম্বর হলে ব্যবসা শেষ।
রিস্ক ২: আপনার চ্যাট আর প্রাইভেট নেই অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপে ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ থাকে। মানে মেসেজ শুধু আপনি আর যাকে পাঠাচ্ছেন সে পড়তে পারে। Meta-ও পড়তে পারে না।
কিন্তু WhatsApp Plus-এর মেসেজ যায় থার্ড পার্টি সার্ভার দিয়ে। ওই অ্যাপের মালিক চাইলে আপনার পার্সোনাল চ্যাট, ব্যাঙ্ক OTP, আধার ছবি, ন্যুডস – সব পড়তে পারে, ডার্ক ওয়েবে বেচতে পারে।
রিস্ক ৩: ফোনে ভাইরাস-ম্যালওয়্যার গ্যারান্টি APK ফাইল বাইরে থেকে নামাচ্ছেন। ২০২৪-এ Kaspersky-র রিপোর্ট বলছে, ৬৮% মোড WhatsApp APK-তে ‘Triada Trojan’ পাওয়া গেছে। এটা ইনস্টল হলেই ফোনের SMS, কন্ট্যাক্ট, UPI পিন, গ্যালারি হ্যাকারের কাছে চলে যায়। রাতারাতি ব্যাঙ্ক খালি।
রিস্ক ৪: আপডেট নেই, হ্যাকারের স্বর্গ অফিশিয়াল অ্যাপে প্রতি ২ সপ্তাহে সিকিউরিটি প্যাচ আসে। মোড অ্যাপ ৬ মাসেও আপডেট হয় না। হ্যাকাররা পুরনো সিকিউরিটি হোল দিয়ে ঢুকে আপনার ফোন কন্ট্রোল নেয়।
রিস্ক ৫: আইনি ঝামেলা মোড অ্যাপ বানানো ও ব্যবহার করা কপিরাইট আইনে বেআইনি। আপনার নম্বর দিয়ে ক্রাইম হলে পুলিশ প্রথমে আপনাকে ধরবে। কারণ এনক্রিপশন নেই, তাই প্রমাণ হবে না যে আপনি মেসেজ পাঠাননি।
তাহলে নতুন ফিচার কীভাবে পাব? ১০০% সেফ উপায় প্লে-স্টোরে যান। ‘WhatsApp Messenger’ সার্চ করুন। ‘Update’ বাটন চাপুন। Meta প্রতি মাসে নতুন ফিচার দিচ্ছে। এখনই পাবেন:
১. HD ফটো-ভিডিও: কোয়ালিটি না কমিয়ে সেন্ড। ২. চ্যাট লক: সিক্রেট চ্যাট ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে লক করুন। ৩. মেসেজ এডিট: ১৫ মিনিটের মধ্যে বানান ভুল শুধরে নিন। ৪. ভিডিও মেসেজ: ৬০ সেকেন্ডের শর্ট ভিডিও রেকর্ড করে পাঠান। ৫. চ্যানেল: মোদী-কোহলির মতো সেলিব্রিটিকে ফলো করুন। ৬. স্ক্রিন শেয়ার: ভিডিও কলে ফোনের স্ক্রিন শেয়ার করুন। ৭. কমিউনিটি: স্কুল-অফিসের সব গ্রুপ এক ছাতার তলায় আনুন।
এগুলো সব এনক্রিপ্টেড, ব্যানের ভয় নেই, ফোন হ্যাক হবে না।
ভুল করে ইনস্টল করে ফেলেছেন? এখনই ৪টে কাজ করুন ১. আনইনস্টল: সেটিংস > Apps > WhatsApp Plus > Uninstall। ২. অফিশিয়াল ইনস্টল: প্লে-স্টোর থেকে আসল হোয়াটসঅ্যাপ নামান। নম্বর ভেরিফাই করুন। ৩. পাসওয়ার্ড বদলান: PhonePe, GPay, Net Banking, Gmail – সব পাসওয়ার্ড বদলে ফেলুন। ৪. মোবাইল স্ক্যান: Play Protect বা Malwarebytes দিয়ে ফুল স্ক্যান দিন।
শেষ কথা: মনে রাখবেন, Meta-র ২০০ কোটি ইউজার। ওরা চাইলে কালই এই ফিচারগুলো অফিশিয়াল অ্যাপে দিতে পারে। দিচ্ছে না কারণ তাতে প্রাইভেসি নষ্ট হবে।
আপনার ডেটা-ই আপনার টাকা। ‘ফ্রি ফিচার’ এর নামে সেই ডেটা হ্যাকারকে দিয়ে দেবেন না।
তাই লিঙ্কে ক্লিক করার আগে ১০ বার ভাবুন। থিম পাল্টে কী হবে, যদি নম্বরটাই পাল্টে যায়?
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


