ফের জম্মু ও কাশ্মীরে পাক মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদীদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা রুখে দিল ভারতীয় সেনা। এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত অভিযান চলছে। ইতিমধ্যেই এক জঙ্গিকে খতম করেছে সীমান্তরক্ষা বাহিনী। বাহিনীর এক মুখপাত্র অবশ্য জানিয়েছেন, জঙ্গিদের গুলিতে প্রাণ গিয়েছে বিএসএফ-এর একজন কনস্টেবলও।

বিএসএফ-এর মুখপাত্র জানিয়েছেন, ওই শহিদ কনস্টেবলের সুদীপ কুমার। প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতেও কাশ্মীরের কুপওয়ারা জেলার মছিল সেক্টরে নিয়ন্ত্রণ রেখার কাঁটাতারের বেড়া বরাবর টহল দিচ্ছিল বিএসএফ-এর একটি দল। ভোর ১টা নাগাদ এক জায়গায় সেই কাটাতারের বেড়া পেরিয়ে কিছু সন্দেহজনক ব্যক্তিকে ঢুকতে দেখা যায়। তাদের পথ আটকে দাঁড়িয়েছিল বিএসএফ-এর টহলদার দলটি।

তারপরই অনুপ্রবেশকারীদের থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি ছুটে আসতে থাকে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল রাজেশ কালিয়া জানিয়েছেন, পাল্টা জবাব দেয় বিএসএফ-ও। সেই গুলিতেই মৃত্য়ু হয়েছে এক সন্ত্রাসবাদীর। তার কাছ থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল ও দুটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাকি অনুপ্রবেশকারীদের এখনও ধরা যায়নি। তারা আশপাশের এলাকাতেই লুকিয়ে আছে বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের অনুসন্ধানে এখনও অভিযান চলছে। অন্যান্য সেক্টর থেকে মছিলে বিএসএফ-এর বাড়তি কর্মী পাঠানো হয়েছে।  

গোয়েন্দা বিভাগ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি বছরে উপত্যকায় সেনা ও পুলিশের যৌথ অভিযানে একের পর এক জঙ্গি সংগঠনের কমান্ডাররা খতম হয়েছে। তাতে কাশ্মীরি জঙ্গিদের এখন নেতার অভাবে ভুগছে। এই অবস্থায় পাকিস্তানে বসে জঙ্গি সংগঠগুলির চাঁইরা ওই পাড় থেকে এদিকে জঙ্গিনেতা পাঠানোর চেষ্টা করছে। আর এই সময় সেই অনুপ্রবেশের চেষ্টা সবচেয়ে বেসি হবে বলে মনে করছেন গোয়েন্দা ও সেনা কর্তারা। কারণ এরপর শীত বাড়লে ভারী তুষারপাতের ফলে জম্মু এবং কাশ্মীরে পাহাড়ি এলাকা দিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশ করাটা প্রায় অসম্ভব।