বয়স তাঁর ১০৪ বছর। তারমধ্যে ৪২ বছর স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করেছেন। জীবনে কোনওদিন ভ্যালেন্টাইন্স ডে পালন করার সুযোগ হয়নি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন নৌসেনার সদস্য মেজর উইলিয়াম হোয়াইট-এর। মেজ বিল নামেই বেশি পরিচিত এই শতায়ু বিস্মিত হয়ে গেলেন এই বছর ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তে। একটি-দুটি নয়, তার কাছে এল প্রায় ৩,০০,০০০ প্রেমপত্র। গোটা দুনিয়া থেকে এল চিঠি, তারমধ্যে কেউ কেউ চেনা, কিন্তু বেশিরভাগই অচেনা ব্যক্তির।  

বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ার স্টকটনে এক বৃদ্ধাবাসে থাকেন অবসরপ্রাপ্ত এই মেজর। সেই বৃদ্ধাবাসের তাঁর সঙ্গেই থাকেন এমন এক ব্যক্তি এই বছর সোশ্যাল মিডিয়ায় 'অপারেশন ভ্যালেন্টাইন' নামে একটি প্রচার শুরু করেছিলেন। মেজর বিল-এর বন্ধুবান্ধব, পরিবার পরিজনদের পাশাপাশি অপরিচিত লোকজনদেরও উদ্দেশ্য করে সেনাবাহিনীতে মেজরের অবদানের কথা উল্লেখ করে তাঁকে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। মেজরের শতায়ুর কথা মাথায় রেখে তাদের লক্ষ্য ছিল মোট ১০০ টি চিঠি।

কার্যক্ষেত্রে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায় এই প্রচারে। সব প্রত্যাশা ছাপিয়ে গিয়ে প্রায় ৩ লক্ষ্য চিঠির তাড়া এসে পৌঁছায় মেজর বিল-এর কাছে। তাঁর নাতনির ৯ বছরের মেয়ে অবিগেল সইয়ার-এর চতুর্থ শ্রেনির বন্ধুরাই প্রথম চিঠি পাঠায় তাঁকে। তারপর দেশ ও দেশের বাইরে থেকে তাড়া তাড়া চিঠি আসতে থাকে। অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে হোয়াইট পরিবার-কে চিঠি খুলে তার বার্তা উইলিয়াম হোয়াইট-কে পড়ে শোনানোর জন্য একজন স্বেচ্ছাসেবক রাখতে হয়। এমনকি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস সংস্থাও এই বিষয়ে তিনি কোনও রেকর্ড ভাঙলেন, নাকি কোনও রেকর্ড গড়লেন তা খতিয়ে দেখছে।

৩৫ বছর নৌসেনায় পরিষেবা দিয়েছিলেন মেজর বিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গুরুতর আহতও হন। সব চিঠি যে একেবারে ব্যাক্তিগতভাবে তাঁর উদ্দেশ্যেই লেখা তা নয়। অনেকেই হোয়াইট-এর মতো অন্যান্য যেসব যুদ্ধনায়করা রয়েছেন, তাঁদেরও শ্রদ্ধা-ভালোবাসা জানিয়েছেন। অনেকেই কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন নিরাপত্তা দিতে গিয়ে যুদ্ধে, অল্প বয়সেই যাঁদের মৃত্যু হয়েছে তাঁদেরও। এক মহিলা যেমন জানিয়েছেন তাঁর দাদুও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে লড়েছিলেন। আজ তিনি আর বেঁচে নেই। হোয়াইটকে ভালবাসার চিঠি লেখাটা তাঁর কাছে অনেকটাই দাদুকে চিঠি লেখার মতো।

আর এত ভালবাসা শ্রদ্ধা পেয়ে মেজর উইলিয়াম হোয়াইট অভিভূত বললেও কম বলা হয়। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর ১০০ বছরের দীর্ঘ জীবনে তিনি এমন কিছু ঘটতে আগে কখনও দেখেননি, শোনেননি। তাঁর মনে হচ্ছে এক টন ইটের মতো একগাদা চিঠি এসে হাজির হয়েছে। এই ঘটনা তাঁকে হতবাক করে দিয়েছে।