গত বছর ডিসেম্বরে চিনের উহানে প্রথম করোনা সংক্রমমের খবর পাওয়া গিয়েছিল। তারপর ৬ মাসও পেরোয়নি, সারা বিশ্বের মহামারীর আকারে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। গোটা দুনিয়ায় ৬৮ লক্ষেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এই মারম ভাইরাসে। প্রাণ হারিয়েছেন ৩ লক্ষ ৯৬ হাজারের বেশি। এই পরিস্থিতিতে করোনার টিকা বা প্রতিষেধক বাজারে কবে আসবে তা স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না কোনও বিজ্ঞাণীই। দুনিয়া জুড়ে যখন এই পরিস্থিতি, তখন চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন আমেরিকার একদল গবেষক। জানালেন, করোনায় টাক মাথা মানুষের ঝুঁকি নাকি সবচেয়ে বেশি।

পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মতো অ্যান্ড্রোজেন বা লিঙ্গ নির্ধারক হরমোন থাকে। গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, এই হরমোনগুলো শুধু চুল পড়ার ক্ষেত্রেই নয়, বরং করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার মতো বিষয়গুলোতেও প্রভাব রাখতে পারে। আর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানেও উঠে এসেছে,  বিশ্বে করোনায় মৃতের সংখ্যায় নারীদের তুলনায় পুরুষরা এগিয়ে।

বর্ণবিদ্বেষের শিকার জর্জ ফ্লয়েড নাকি আক্রান্ত ছিলেন করোনায়, চাঞ্চল্যকর তথ্য ময়নাতদন্ত রিপোর্টে

বাবার বিপরীতে হাঁটছেন ট্রাম্প কন্যা, বর্ণবৈষ্যম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাশে দাঁড়ালেন আন্দোলনকারীদের

আরও একবার দৈনিক সংক্রমণে রেকর্ড, দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ২ লক্ষ ২৬ হাজার

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটির  অধ্যাপক কার্লোস ওয়াম্বিয়ার নেতৃত্বে এই গবেষণাটি করা হয়। গবেষকদের দাবি, মাথায় চুল নেই এমন পুরুষদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্যান্যদের তুলনায় বেশি। এমনকি কয়েকজন গবেষক টাক মাথাকে করোনার অন্যতম ঝুঁকির কারণ হিসেবে ঘোষণা করতে চাইছেন। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক গবেষক চিকিৎসক ডাঃ ফ্রাঙ্ক গ্যাব্রিন করোনায় মারা যাওয়ার পর তার নাম অনুসারে এই ঝুঁকির নামকরণ করা হয়েছে গ্যাব্রিন সাইন। জানা যাচ্ছে, ওই চিকিৎসকের মাথায়ও টাক ছিল।

লাখখানেক ডাটা সংগ্রহ করে এই গবেষণা চালিয়েছেন ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর কার্লোস ওয়াম্বিয়ার। তিনি বলছেন, আসলেই টেকো মাথার ব্যক্তিরা কিছুটা বেশি বিপদে রয়েছেন। এদিকে ডাঃ ফ্রাঙ্ক গ্যাব্রিন ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড-১৯ এ মারা যাওয়া প্রথম চিকিৎসক। তার মাথায় টাক ছিলো। তাঁকে সম্মান জানিয়ে তাই  গবেষণার নাম দেওয়া হয়েছে গারবিন সাইন।

সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে পুরুষদের শরীরের হরমোন চুল পড়ার ক্ষেত্রেই নয়, বরং করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার মতো বিষয়গুলোতেও প্রভাব রাখতে পারে। এই ফলাফল থেকে তারা ধারণা করছেন, মাথায় টাক পড়া ঠেকাতে বা ক্যানসার চিকিৎসায় হরমোন নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিগুলো করোনা চিকিৎসায় ব্যবহার করা যেতে পারে।  প্রফেসর ওয়াম্বিয়ার বলেন, 'আমরা ধারণা করছি অ্যান্ড্রোজেন বা পুরুষ হরমোনগুলোর মাধ্যমে আমাদের কোষে ভাইরাস প্রবেশ করে।'

অধ্যাপক ওয়াম্বিয়ারের নেতৃত্বে স্পেনে এই বিষয়ে পর্যবেক্ষণও চালান হয়। সেখানে দেখা গেছে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের মধ্যে টাকমাথার পুরুষদের সংখ্যা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি। তবে এই  নিয়ে যথার্থ প্রমাণ খুঁজে পেতে আরো পরীক্ষা নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।