ভারতকে ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান সরবরাহের জন্য ২০১৬ সালে যে চুক্তি হয়েছিল, তাতে কোনও অবৈধ কাজ করা হয়নি। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতি দিয়ে এমন কথাই জানালো ফরাসী বিমান প্রস্তুতকারক সংস্থা ডাসল্ট এভিয়েশন। চুক্তির বিষয়টি বেশ কয়েকটি দুর্নীতি নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারির মধ্যেও ছিল বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। সম্প্রতি এই চুক্তির বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে বেশ কয়েকটি অভিযোগ সামনে আসার প্রেক্ষিতেই এই বিবৃতি জারি করা হল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ডাসল্ট সংস্থা জানিয়েছে, ২০১৬ সালে ওই চুক্তি করার সময়ে, ওইসিডি (OECD) ঘুষ-বিরোধী কনভেনশন এবং ফ্রান্সের জাতীয় আইনগুলি কঠোরভাবে মানা হয়েছে। শুধু তাই নয়, নতুন সহস্রাব্দের প্রথম দশকের গোড়ার থেকেই, ডাসল্ট এভিয়েশন দুর্নীতি রোধে কঠোর অভ্যন্তরীণ পদ্ধতি প্রয়োগ করেছে বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি। শিল্প ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সংস্থাটির নিষ্ঠা, নৈতিকতা এবং সুনাম রয়েছে। ফ্রান্সের সাপিন ২ আইন মেনে ডাসল্ট সংস্থা এবং তার সহায়ক সংস্থাগুলি দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং সনাক্তকরণের জন্য তাদের ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করেছে।

ডাসল্ট এভিয়েশন সংস্থার জারি করা বিবৃতি

ডাস্লট সংস্থা এদিনের বিবৃতিতে আরও জানিয়েছে, ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমানের বিষয়ে ভারতের সঙ্গে চুক্তিটি দুই সরকারের  স্তরে হয়েছে। এই চুক্তি এবং তার পাশাপাশি সম্পর্কিত চুক্তিগুলি বিধি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত মানদণ্ডগুলি পূরণ করে এবং দুই সরকার এবং শিল্প অংশীদারদের মধ্যে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে কার্যকর করা হয়েছে। তারা আরও বলেছে, কোভিড-১৯ স্বাস্থ্য সঙ্কট সত্ত্বেও, বিমানগুলি নির্ধারিত সময়সূচী মেনেই সরবরাহ করা হয়েছে। এই বিমানগুলি ভারতের সুরক্ষা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা পুরোপুরি মেটাতে পেরেছে, বলেই দাবি করেছে তারা।

আরও পড়ুন - বিজেপি এলে CAA হবেই, কিন্তু NRC-র কথা তুলছে কেন তৃণমূল - গেরুয়া শিবিরের কী পরিকল্পনা

আরও পড়ুন - 'তৃণমূলকে ভোট না দিলে উচ্ছেদ' - প্রচারে বেরিয়ে হুমকি গৌতম দেবের, ভাইরাল হল ভিডিও

আরও পড়ুন - কৃষি না শিল্প - একদশক পর নির্বাচনে ফিরে এল পুরোনো প্রশ্ন, কী বলছে সিঙ্গুর

অনিল অম্বানীর রিলায়েন্স অ্যারোস্পেস লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে, ডাসল্ট এভিয়েশন জানিয়েছে, তারা রিলায়েন্স গোষ্ঠীর সঙ্গে ২০১৭ সালে যৌথ ব্যবসা প্রকল্প স্থাপন করেছিল। নাগপুরে যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয়েছিল কারখানা। ২০১৮ সাল থেকেই এই কারখানায় রাফাল বিমানের বহু অংশ উত্পাদন হচ্ছে। তবে শুধু রিলায়েন্স নয়, ভারতের ৬০টি সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে তারা। নতুন সহযোগীও খোঁজা হচ্ছে।