নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের আহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে, শনিবার নতুন করে প্রতিবেদন চেয়ে পাঠালো ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। এদিন পূর্ব মেদিনীপুর প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে ১০ মার্চের ঘটনা সম্পর্কে প্রতি মিনিটের বিবরণ দিতে বলেছে তারা। শুক্রবারই এই ঘটনা নিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো রিপোর্ট 'অসম্পূর্ণ' অন্তোষ প্রকাশ করেছিল কমিশন। পরদিনই আবার এই নির্দেশ এল।

বাংলার মুখ্যসচিবের প্রতিবেদনটি অসম্পূর্ণ বলে অসন্তোষ প্রকাশ করার পর, পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে এই ঘটনার বিষয়ে আরও একটি বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন আসে নির্বাচন কমিশনের কাছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ তাঁর উপর 'আক্রমণ' করা হয়েছিল। কমিশন বলেছে, মুখ্যসচিবের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখই করা হয়নি, যে কীভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ের উরর তাঁর গাড়ির দরজা বন্ধ হয়েছিল। অন্যদিকে, পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশ সুপারের জমা দেওয়া প্রতিবেদনটিতেও বেশ কয়েকটি বৈষম্য পাওয়া গিয়েছে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, এরপরই নির্বাচন কমিশন জেলা প্রশাসনের কাছে ১০ মার্চ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচির বিষয়ে তাদের একটি বিশদ প্রতিবেদন পাঠাতে বলেছে। আর শনিবার রাতের মধ্যেই কমিশন রাজ্য সরকারের কাছেও এই বিষয়ে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন চেয়েছে। সব দেখে শুনে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কমিশন এই ঘটনার একেবারে শেষ দেখতে চাইছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই ঘটনার জন্য সরাসরি কমিশনের দিকেই আঙুল তোলা হয়েছিল। ডিজিপি, এজিপিদের সরিয়ে দেওয়ার সঙ্গে সংযুক্ত করা হচ্ছিল মমতার আহত হওয়ার ঘটনাকে। সেই বিষয়টা কমিশন ভালোভাবে নেয়নি বলেই মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর বাবা তথা তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ শিশিরকুমার অধিকারী, কেন যথেষ্ট আলো না থাকা বিরুলিয়া বাজারে সন্ধ্যার সময় মমতা গিয়েছিলেন, তাই নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। শনিবার তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মমতা ওই এলাকায় প্রথমবার গিয়েছিলেন। স্থানীয় অঞ্চল তিনি চিনতেন না। রাজনৈতিক সভা বা জনসাধারণকে নিয়ে অনুষ্ঠান হয় সাধারণত দিনের বেলায়। তাঁর মতে, সূর্য ডোবার পর কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই অঞ্চলে প্রবেশ করেছিলেন, সেটি একটি বড় প্রশ্ন।