শনিবার  রাজ্য-রাজনীতিতে একটা ঐতিহাসিক দিন। একদিকে শাহ সফর, শুভেন্দুর বিজেপি যোগদান এবং অপরদিকে তৃণমূলে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন জিতেন্দ্রর। কী কী অপেক্ষা করছে তা বেলা গড়ালেই টের পাওয়া যাবে। তবে তার আগে কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ এমনই চাপান উতোর চলছে রাজনৈতিক মহলে। প্রশ্ন উঠেছে, বাঁধা না পেলে শনিবার বিজেপিতে কি জিতেন্দ্রও যেতেন নাম লেখাতে।

 

 

আরও পড়ুন, 'অবৈধ পাচারকারীরা' BJPতে এলে মানবেন না, জিতেন্দ্র প্রসঙ্গে বিস্ফোরক বাবুল


জিতেন্দ্র বলেছেন, 'আমার ব্যবহারে দিদি দুঃখ পেয়েছে, আমি দিদিকে দুঃখ দিয়ে থাকতে পারবো না, ক্ষোভের কিছু নেই তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বেরোলাম না.ইস্তফা দিয়েছিলাম, ফেরত চাইছি। দল আমাকে কাজের সুযোগ করে দিয়ে আবার। আমার খারাপ লেগেছে দিদি দুঃখ পেয়েছে। দিদিকে দুঃখ দিয়ে আমি কোনও কিছু করতে চাই না। আমি যা করেছি তার জন্য দিদির কাছে ক্ষমা চাইছি। আগের যা ছিল সব ভুলে গেছি। দিদি আমার শেষ কথা। দলের কাজ করবোনা বলেছিলাম সেটা প্রত্যাহার করছি। দলের সব কাজ করব। মনে ভুল বোঝাবুঝি ছিল,মিটিয়ে নিয়েছি, আমারই দোষ ছিল।'

এদিকে একথা বলার আগে দলে ফেরার আগে অবধি ভালো ক্ষেপে ছিলেন জিতেন্দ্র। নিজমুখে বলেছিলেন ,'ফিরহাদের কথা পরোয়া করি না।' কিন্তু অদ্ভুতভাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়ের তোপের পাশাপাশি জিতেন্দ্র তৃণমূলে ফেরা এবং দিদির কথা শুনবেন বলে ফিরহাদকে 'হজম করা' কি বাধ্যতামূলক হয়ে উঠল। এদিকে এমন এক সময় বিজেপি খোঁচা দিয়ে বলেছে আমও পেল না, ছাঁলও নয়। এহেন মন্তব্যে জ্বলে উঠলেও আরও একবার ছেড়ে যাওয়া স্টেশনে ফিরে, চেপে থাকতে হচ্ছে জিতেন্দ্রকে। কারণ যাওয়ার যে আর পথ নেই, এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলে। 

 

আরও দেখুন, Election Live Update- আজ বাংলা সফরে অমিত শাহ, বিজেপিতে যোগ দিচ্ছে কারা, অপেক্ষায় সারা বাংলা


অপরদিকে, শুভেন্দুর ইস্তফার সঙ্গে সঙ্গে জিতেন্দ্রেরও পার্টি ছাড়ার পিছনে, ফিরদাদ বলেছিল ও গ্যাস খেয়েছে। এদিকে রাতারাতি আসানসোলে জিতেন্দ্রর বিরোধিতা বিজেপিতেও। জিতেন্দ্র প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় বলেছেন, 'যাঁরা এতদিন আসানসোলের বিজেপি কর্মীদের উপরে অত্য়াচার করেছেন, যাঁরা কয়লা-বালির অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাঁরা বিজেপিতে এলে মন থেকে মনে নিতে পারবেন না। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বার্তাই জানিয়েছে বাবুল। আসানসোলের বিজেপি-কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বাবুল বলেছেন, 'আপনাদের সঙ্গে আমি বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারব না।' তাহলে বাবুলের প্রতিক্রিয়া এবং জিতেন্দ্রর দল ছাড়ার পর ফিরহাদের কথাই সত্যি ছিল। বিরোধিতা না পেলে কি শাহ সফরের দিনে শনিবার শুভেন্দু পিছনে পিছনে বিজেপিতে নাম লেখাতেন জিতেন্দ্রও, প্রশ্ন উঠেছে রাজ্য-রাজনীতিতে।