একুশের নির্বাচনের আগে লাগাতার সোনার বাংলার গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন বিজেপি নেতারা। এমনকি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বোলপুরে গিয়েও সোনার বাংলা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বিজেপির সেই প্রতিশ্রুতিকে তীব্র কটাক্ষ করলেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, “নতুন করে কাউকে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখানোর দরকার নেই। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে দিন গানটা গেয়েছিলেন ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি’। সেদিনই কবিগুরু সোনার বাংলা রচনা করে গিয়েছিলেন। সোনার বাংলার সৃষ্টি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের”। 

অমিত শাহকে কড়া জবাব মমতার, বোলপুরে জনসমুদ্র পদযাত্রায় 'বদলা' নিলেন তৃণমূল নেত্রী

মঙ্গলবার দুপুরে বোলপুর ডাক বাংলো সংলগ্ন মাঠ থেকে জামবুনি পর্যন্ত এক পদযাত্রায় হাঁটেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সামনে ছিল তিনটি সুসজ্জিত ট্যাবলো। সেখানে রবীন্দ্রনাথের ছবি লাগানো। ট্য়াবলোয় বাজছিল রবীন্দ্র সঙ্গীত। এছাড়া বাউল, আদিবাসী নৃত্য ছিল পদযাত্রায়। পদযাত্রার শেষে জামবুনির মাঠে জনসভায় প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত বিজেপিকে আক্রমণ করেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, “কু-কথায়, অ-কথায় যেভাবে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিশ্বভারতী, শান্তিনিকেতনকে অসম্মানিত করা হচ্ছে। এমনকি অমর্ত্য সেনও পর্যন্ত রেহাই পাননি। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মের ৬০ বছর পরে তৈরি করেছিলেন বিশ্বভারতী। আর এই বিজেপির বহিরাগত নেতারা জানেই না বাংলার সংস্কৃতি কি। তাঁরা বলে গিয়েছেন শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ জন্মে ছিলেন”।

আরও পড়ুন-'৮ জানুয়ারি ১ লক্ষ মানুষের সমাগম', বিধায়কহীন নন্দীগ্রাম থেকে তৃণমূলকে চ্য়ালেঞ্জ দিলেন শুভেন্দু

শুধু তাই নয়, বিশ্বভারতী কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মমতা।  তিনি বলেন, ''যখন দেখি বিশ্বভারতীর বুকে প্রাচীর গেঁথে দেওয়া হয়, মানুষের হৃদয়টাকে কারাগারে বন্দি করা হয়। তখন আমি ভালোবাসি না। বলি বাঁধ ভেঙে দাও, বাঁধ ভেঙে দাও, ভাঙো। আমার ভালো লাগে না, যখন দেখি বিশ্বভারতীকে কেন্দ্র করে একটি জঘন্য ধর্মান্তবাদ চলছে। আমরা বিশ্বভারতীকে হৃদ মাঝারে রাখিব ছেড়ে দেব না। বিশ্বভারতীতে এক ঘৃণ্য রাজনীতির আমদানি করা হয়েছে। সারা বাংলার বুকে এক ঘৃণ্য রাজনীতির আমদানি করা হয়েছে। সংকীর্ণ, ঘৃণ্য, বিদ্বেষমূলক রাজনীতির আমদানি করা হয়েছে”। জামবনির সভা থেকে মন্তব্য তৃণমূল নেত্রীর।