রবিবার নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় সরকারের আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে অপমানিত বোধ করেন মমতা। তিনি যখন ভাষণ দিতে যান, সেই সময় সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে জয় শ্রীরাম স্লোগান দেয় বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। সরকারি অনুষ্ঠানে এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কোনও বক্তব্য না রেখেই প্রতিবাদ জানান। কিন্তু সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উপস্থিত ছিলেন। তিনিও তাঁর ভাষণে এই ঘটনা নিয়ে একটি শব্দটিও খরচ করেননি। সেই ঘটনার জবাব সোমবার পুরশুড়ার সভা থেকে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। 

নেতাজির ভেবে প্রসেঞ্জিৎ চট্টোপাধ্যায়কে প্রণাম করলেন রাষ্ট্রপতি, উঠল গুরুতর অভিযোগ

হুগলির পুরশুড়ায় নির্বাচনী প্রচারে যান মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূলের সেই সভা থেকে নেতাজী, রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে বিজেপির আচরনের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, ''তোমরা এসছো আমি ধন্য। তোমরা যদি নেতাজী-নেতাজী করতে আমি তোমাদের স্যালুট জানাতাম। তা না করে যা করেছো, বাংলাকে অপমান করেছে, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুকে অপমান করেছে। এর আগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও অপমান করেছো। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম জোড়াসাঁকোয়। তোমাদের নেতারা বলে গেছে, রবীন্দ্রনাথের জন্ম শান্তিনিকেতনে। তার আগে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছো। বিরনা মুণ্ডার নামে অন্য লোকের গলায় মালা পরিয়েছো। দলীতদের উপর অত্যাচার করেছো। আমি পরিষ্কার বলছি। রাজনীতিতে আমি এর প্রত্যুত্তর দেব''।

আরও পড়ুন-'নেতাজী-বাংলাকে অপমান করেছো, রাজনীতিতে আমি এর প্রত্যুত্তর নেব', ভিক্টোরিয়ার ঘটনায় সরব মমতা

পাশাপাশি, এদিনের সভা থেকে বিজেপির সঙ্গে সিপিএম-কংগ্রেসকেও একযোগে আক্রমণ করেন মমতা। পুরশুড়ার সভা থেকে রাজ্যের সব বিরোধী দলকে এক ছাতার তলায় এনে তীব্র কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ''এই বিজেপি সিপিএম আর কংগ্রেসের সমর্থনে এখানে এসেছে। আমি কত আগে থেকেই বলে এসেছি এঁরা তিন ভাই, জগাই-মাধাই-গদাই। একটা দেশ জ্বালাও পার্টি, একটা ভারত জ্বালাও পার্টি, আর একটা সিপিএম পার্টি ৩৪ বছর অত্যাচার করেছে। বিজেপি একটা জ্বালাও পার্টি''। সভা থেকে তীব্র কটাক্ষ মমতার।