ঝরঝর করে চোখ দিয়ে জল পড়ছে মায়ের চোখে। সামনে পুলিশ এবং সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা। তাঁর পুত্র মৃণালকান্তি জানা নন্দীগ্রাম ২ নং ব্লকের আসনের এক বুথের তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী এজেন্ট হয়েছেন। বুধবারই এজেন্ট হিসাবে সই করেছেন। বৃহস্পতিবার, বুথে গিয়ে বিজেপির হুমকিতে ফিরে আসতে হয়েছে তাঁকে। তারপর, তাঁর মা আর তাঁকে বুথে যেতে দিতে রাজি নন।

গণতন্ত্রের ভয়ঙ্কর এক চিত্র ধরা পড়ল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২১-এর দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের দিন। গত দুদিন ধরেই রাত্রিবেলায় তাঁদের বাড়িতে বিজেপি-র কর্মীরা চড়াও হয়ে তাদের হুমকি দিয়েছেন,এমনটাই অভিযোগ করেছেন ওই মৃণালকান্তি জানার মা। রাজ্য পুলিশ, কেন্দ্রীয় পুলিশ এসে নিরাপত্তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তিনি ছেলেকে এজেন্ট হিসাবে বুথে যেতে দিতে রাজি হননি। ভোটের দিন পুলিশ নিরাপত্তা দিলেও, নির্বাচনের পর কী হবে, তা ভেবেই আতঙ্কিত তাঁরা।

আরও পড়ুন - নিশানায় কমিশন থেকে অমিত শাহ - মুক্তি পেয়েই হুঙ্কার ছাড়লেন মমতা, অট্টহাসি শুভেন্দুর

আরও পড়ুন - নন্দীগ্রামে মমতা কি হারের ভয় পাচ্ছেন - ভরসার তালিকায় কেন এখন রাজ্যপাল, আদালত আর সুদীপ জৈন

আরও পড়ুন - শুভেন্দু অধিকারীর গাড়িতে 'পাকিস্তানি'দের হামলা - ইটের ঘায়ে ভাঙল কাচ, অক্ষত বিজেপি নেতা

মৃণালকান্তি জানার মায়ের অভিযোগ, রাতে চড়াও হয়ে বিজেপির কর্মীরা তাঁদের রান্নাঘর ভেঙে দিয়েছেন। তাঁর ছেলে তৃণমূলের এজেন্ট হলে তাঁদের পুরো বাড়িটিই ভেঙে দেওয়া হবে, বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বাড়িতে ঢুকে তাঁর ছেলের গায়ে হাত তোলা হয়েছে, জামা কাপড় ছিঁড়ে দেওযা     হয়েছে। মৃণাল কান্তি জানার স্ত্রীও পুলিশ কর্তা ও স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের সামনে হাতজোড় করে জানিয়েছেন, তাঁদের একটি ছোট সন্তান আছে। তাঁর স্বামীই পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য। এই অবস্থায় তাঁরা কোনও মতেই মৃণালকান্তি জানাকে তৃণমূলের এজেন্ট হতে দিতে চান না।

এই অবস্থায় রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কর্তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন স্থানীয় তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। তৃণমূলের দাবি, পুলিশ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে পারছে না। অন্যদিকে, পুলিশ জানায়, এজেন্টকে বুথে তো তারা জোর করে নিয়ে আসতে পারেন না। এই ঘটনা জানতে পেরে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল কংগ্রেসের এজেন্টকে বসানোর ব্যবস্থাও করা হবে, বলে জানানো হয়েছে কমিশনের পক্ষ থেকে। তবে, ইতিমধ্যেই ভোটগ্রহণের অনেকটা সময় পার হয়ে গিয়েছে।