প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সীর খাসতালুক তথা জন্মস্থান কালিয়াগঞ্জে,  আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী খুঁজতে পক্ষান্তরে তৃনমুল কংগ্রেসের উপরেই নির্ভর করতে হল কংগ্রেসকে। একাধিকবার অনুরোধ করার পরেও দলের কেউ প্রার্থী হতে  ' রাজি না হওয়ায়' কালিয়াগঞ্জ  ব্লক তৃনমূল কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি প্রভাস সরকারকেই  প্রার্থী হিসেবে ঘোষনা করল ভারতের জাতীয় কংগ্রেস। বাম-কংগ্রেস জোট তথা সংযুক্ত মোর্চার এমনই দুর্দশার ছবি উঠে এল ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা আসনে। যদিও বাম-কংগ্রেস জোটের দাবি,  প্রভাস সরকার  তৃনমূল কংগ্রেসে বর্তমানে কোনও সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন না। তিনিই যোগ্য প্রার্থী। 

 

আরও পড়ুন, আজ নির্বাচনী প্রচারে বাঁকুড়া সফর মমতার, মোদীর পাল্টা সভায় কী বার্তা দেবেন তৃণমূল সুপ্রিমো 

 

 

বামফ্রন্ট সরকারের আমলে তো বটেই  তৃনমূল কংগ্রেসের মমতার ঝড়েও কংগ্রেস অটুট দূর্গ ছিল উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা। ২০০৬ সাল থেকে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও পর পর তিনবার বিধায়ক হয়েছিলেন প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সী ঘনিষ্ঠ অধ্যাপক প্রমথনাথ রায়। কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী  প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সীর  বাড়ি কালিয়াগঞ্জ শহরে। পরবর্তীতে বৈবাহিকসূত্রে তার স্ত্রী দীপা দাসমুন্সীও এই এলাকার বাসিন্দা হন।সেই থেকেই প্রিয় - দীপার গড় বলে কালিয়াগঞ্জ পরিচিত রাজনিতির আঙিনায়। 

 

 

আচমকা ২০১৮ সালে প্রয়াত হন কালিয়াগঞ্জের কংগ্রেস বিধায়ক প্রমথনাথ রায়। ২০১৯ সালে কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী করে প্রয়াত বিধায়ক কন্যা ধৃতশ্রী রায়কে। কিন্তু উপনির্বাচনে জয়ী হয় তৃনমূল কংগ্রেস। অনেকটা পেছনে থেকেই তৃতীয় স্থান পায় কংগ্রেস। এবার ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাম, কংগ্রেস ও আইএসএফ মিলে সংযুক্ত মোর্চা নামে জোট করেছে। রায়গঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র সহ জেলার অন্যান্য বিধানসভায় বেশ কিছুদিন আগেই কংগ্রেস প্রার্থীদের নাম ঘোষনা করে দিলেও প্রার্থীর অভাবে কংগ্রেস কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা আসনে প্রার্থীর নামই ঘোষনা করতে পারেনি। 

 

 আরও পড়ুন, ইস্তাহারে তৃণমূলকে ছাপিয়ে গিয়েছে BJP, কী কী ক্ষেত্রে জানুন বিস্তারিত 

 

সূত্রের খবর কংগ্রেস বহু চেষ্টা করলেও উপনির্বাচনের প্রার্থী ধৃতশ্রী রায় দাঁড়াতে রাজি হননি। ভোটে দাঁড়াতে রাজী হননি কালিয়াগঞ্জের প্রিয়রঞ্জন ঘনিষ্ট কংগ্রেস নেতা তুলসী জয়শোয়ালও। হন্যে হয়ে প্রার্থী খুঁজে চলছিল জেলা কংগ্রেস নেতৃত্ব।  অগত্যা তৃনমূল কংগ্রেস ছেড়ে সদ্য ফিরে আসা শিক্ষক প্রভাস সরকারকেই বাম-কংগ্রেস জোটের কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে ঘোষনা করে দেয় কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব।  কালিয়াগঞ্জ ব্লক তৃনমূল কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি প্রভাস সরকারকে প্রার্থী করে তৃনমূলের ঘর ভাঙার ইঙ্গিত দিল বাম-কংগ্রেস জোট এমনটাই দাবি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।  তবে বামেদের সাথে হাত মিলিয়ে তৃনমূল নেতাকে জোটের প্রার্থী করাটা বুমেরাং হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহলে। 

আরও পড়ুন, 'আমি একটা বড় গাঁধা-বারবার ঠকি', কাঁথির সভায় কেন আচমকা আবেগ প্রবণ হয়ে পড়লেন মমতা 

 

তবে তৃনমূলে থেকে বাম-কংগ্রেস জোটের কংগ্রেস দলের প্রার্থী হওয়াটাকে একটু অন্যভাবে ব্যাখ্যা দিলেন বোচাডাঙ্গা গ্রামপঞ্চায়েতের হলদিবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা পেশায় স্কুল শিক্ষক প্রভাস সরকার।  তার বলেন বক্তব্য, '  আমার বাবা ১৫ ধরে গ্রামপঞ্চায়েতের কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন। আমি কংগ্রেস পরিবারের সদস্য। ২০১৪ সালে তৃনমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছিলাম। কালিয়াগঞ্জ ব্লক তৃনমূল কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি ছিলাম। কংগ্রেস পরিবারের সদস্য হিসেবে আবারও কংগ্রেসেই ফিরে এলাম।  মাস খানেক আগে তৃনমূলের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি। এরপর আমার কাছে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত করেছে। আমার আশা এবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিটি বিধানসভাতেই সংযুক্ত মোর্চার ফল আশাতীত হবে।' জেলা কংগ্রেসের সহ সভাপতি পবিত্র চন্দ জানিয়েছেন, ' প্রার্থী খুজে না পাবার কথা ভিত্তিহীন। তবে অন্যান্যদের থেকে বর্তমানের প্রার্থী অনেক বেশি লড়াই দিতে পারবে বলেই তাকে নির্বাচিত করা হয়েছে। '