কৌশিক সেন: পঞ্চম দফা নির্বাচনের ঠিক আগে ফের এক অডিও ক্লিপ নিয়ে উত্তাল বাংলার রাজ্য রাজনীতি। এদিন বিকালে এক সাংবাদিক সম্মলন করে এই অডিও ক্লিপটি প্রকাশ করেন বিজেপির সর্বাভারতীয় আইটি সেল-এর প্রধান তথা পশ্চিমবঙ্গের সহ-পর্যবেক্ষক অমিত মালব্য। সেই অডিও ক্লিপে মমতা বন্দ্যোপাধায়ের তৃণমূলের কোচবিহার জেলার সভাপতি তথা শীতলকুচি কেন্দ্রের প্রার্থী পার্থপ্রতীম রায়ের কথোপকথন শোনা গিয়েছে বলে দাবি করেছে বিজেপি। এই অডিও ক্লিপ কি সত্যি? এখানে কি পার্থপ্রতীম রায়ের কন্ঠই শোনা গিয়েছে? এশিয়ানেট নিউজ বাংলার প্রতিনিধিকে একান্ত সাক্ষাতকারে জানালেন পার্থপ্রতীম স্বয়ং।

পার্থপ্রতীম রায়ের দাবি, চতুর্থ দফা নির্বাচনের দিন শীতলকুচিতে ওই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর তাঁর সঙ্গে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর বেশ কয়েকবার কথা হয়েছে। কিন্তু, যে কথোপকথনের রেকর্ড বিজেপি প্রকাশ করেছে, সেই রকম কোনও কথা তাঁদের মধ্য়ে হয়নি। তাঁর দাবি, বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্যই এই অডিও ক্লিপটি তৈরি করেছেন। অভিযোগ করেন, অমিত মালব্যর ইতিহাসই বলে দিচ্ছে তিনি প্রায়শই ভুয়ো অডিও বা ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করে থাকেন। উদাহরণ স্বরূপ পার্থপ্রতীম বলেন, লখনউ-এ সিএএ বিরোধী আন্দোলনে পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান দেওয়া হয়েছে দাবি করে অমিত মালব্য একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন, য়া ভুয়ো প্রমাণিত হয়েছিল। একইভাবে এএমইউ-এর শিক্ষার্থীদের নিয়েও তিনি ভুয়ো ভিডিও প্রকাশ করেছেন। এই অডিওটি সেই রকমই।

অবশ্য, অডিওতে যে পুরু, কন্ঠটি শোনা গিয়েছে তার সঙ্গে তাঁর নিজের গলার স্বরের মিল রয়েছে বলে মেনে নিয়েছেন শীতলকুচির তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী। তবে তাঁর দাবি, সম্ভবত প্রযুক্তির কারিকুরিতে তাঁর গলা মিলিয়ে ওই অডিও ক্লিপটি তৈরি করেছে বিজেপি। প্রত্যেক দফা নির্বাচনের আগেই এরকম একেকটি ভুয়ো অডিও ক্লিপ প্রকাশ করছে বিজেপি। এটা তাদের রাজনৈতিক কৌশল। আর বারবার একই কাজ করতে থাকায় মানুষ তাদের খেলা ধরে ফেলেছে বলেই দাবি করেছেন পার্থপ্রতীম রায়।

তবে এই বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানাবেন বলেও হুমকি দিয়েছেন কোচবিহারের তৃণমূল জেলা সভাপতি। তিনি জানিয়েছেন, অডিও ক্লিপটির বিষয়ে তিনি আরও খোঁজখবর নিচ্ছেন। তারপরই, কমিশনে জানাবেন।

এরইসঙ্গে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে ফোন ট্যাপিং-এর অভিযোগও করেছেন। পার্থপ্রতীম বলেন, এই ক্লিপটি সম্পূর্ণ ভুয়ো হলেও, বিজেপি প্রতিনিয়ত বিরোধী নেতা-নেত্রীদের ফোনে আড়ি পাতছে। এটা অত্যন্ত উদ্বেগের। এই নিয়ে লোকসভাতেও আলোচনা হয়েছে।

আরও পড়ুন - 'এবার, ২০০ আসন পার' - একান্ত সাক্ষাতকারে কী জানালেন স্বপন দাশগুপ্ত

 

আরও পড়ুন - সংগঠন থেকে প্রচার, আরএসএস-ই গড়ে দিয়েছে বিজেপির জয়ের ভিত

 

আরও পড়ুন - শহুরে ভোট ধরতে কৌশল বদল, কোন হাতিয়ারে শিক্ষিত বাঙালীর মন জিততে চাইছে বিজেপি

তবে যা নিয়ে এত হইচই, সেই শীতলকুচিতে ঠিক কী ঘটেছিল ওইদিন? তৃণমূল প্রার্থীর দাবি এই বিষয়ে বিভিন্ন ফুটেজ সামনে আসছে। তাতে পরিষ্কার, কেন্দ্রীয় বাহিনীর পক্ষ থেকে যে দাবি করা হচ্ছিল, ৩০০-৪০০ লোকের জমায়েত হয়েছিল, তা মিথ্যা। ১০-১২ জনেরও জমায়েত ছিল না বলে দাবি করেছেন তিনি। সেইসঙ্গে, তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি হয়নি সেদিন, যাতে গুলি চালাতে হত।