প্রধানমন্ত্রী-কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে প্রায় যুদ্ধ ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার কৃষকদের উদ্দেশ্য বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন রাজ্যের ৭০ লক্ষেরও বেশি কৃষকদের বঞ্চিত করেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পঞ্জাবের কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন করছেন। ১০ বছর রাজ্যের ক্ষমতায় থাকলেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই প্রকল্প চালু করতে দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারই উত্তর দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী অর্ধসত্য কথা বলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি বিবৃতি জারি করেছেন। তাতে বলেছেন, তিনি ও তাঁর সরকার সর্বদাই কৃষকদের পাশে থেকেছে। প্রধানমন্ত্রী-কিষাণ সম্মান নিধি নিয়ে রাজ্য থেকে দুটি চিঠি লেখা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন তিনি নিজে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি আরও বলেন কেন্দ্রীয় সহযোগিতায় একাধিক প্রকল্প চলছে রাজ্যে। তাই কোনও একটি প্রকল্প কেন্দ্রকে সহযোগিতা না করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকারই রাজ্য থেকে রাজনৈতিক ফয়দা লাভের চেষ্টা করে ভুল প্রচার চালাচ্ছে। 

সব খতিয়ে দেখতে ২ দিনে ৪ রাজ্যে ড্রাই রান, তারপরই শুরু হয়ে যাবে করোনা টিকা কর্মসূচি ...

কেন্দ্র কি প্রত্যাহার করবে কৃষি আইন, মোদীর পর কী ইঙ্গিত দিলেন ২ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ..

পাল্টা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন বিজেপি প্রতিষ্ঠত নীতি ও নিয়ম লঙ্ঘন করতে অভ্যস্ত। তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যকে বঞ্চিত করে রেখেছে। রাজ্যের প্রাপ্য় ৮৫ হাজার কোটি টাকা দেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। যারমধ্যে জিএসটি হিসেবে রাজ্যের প্রাপ্য হল ৮ হাজার কোটি টাকা। তিনি বলেন রাজ্যকে যদি সাহায্য করার ইচ্ছেই থাকে প্রধানমন্ত্রীর তাহলে প্রাপ্য অর্থ মিটিয়ে দিন। বকেয়া অর্থ হাতে এলে রাজ্যসরকার রাজ্যের সাধারণ নাগরিকদের জন্য আরও ভালো করে কাজ করতে পারবে।  তিনি আরও বলেন কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার কাজে সর্বদা এগিয়ে রয়েছে তাঁর সরকার। বাংলার মানুষেক স্বার্থে তিনি সবকিছু করতে পারেন বলেও জানিয়েছেন। তিনি বলেন রাজ্যের মানুষই তাঁর পরিবার। একই সঙ্গে তিনি বলেন বিজেপির এই বিভ্রান্তিকর প্রচারের বিরুদ্ধে রাজ্যের মানুষই রুখে দাঁড়াবে।