প্রাথমিক স্কুল, গ্রাম পঞ্চায়েত, আশাকর্মী সহ সরকারি একাধিক পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। এমনই আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে প্রায় তিরিশ লক্ষ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। কিন্তু, দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার শিকার চাকরিপ্রার্থীরা। এই অবস্থায় অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা ও জেলা পরিষদের সদস্যের বাড়িতে টাকা চাইলে গেলে আক্রান্ত হলেন তাঁরা। চাকরিপ্রার্থীদের উপর ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন-কয়লাকাণ্ডে লালাকে 'ফেরার' ঘোষণা আদালতের, সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের প্রক্রিয়া শুরু করল CBI

ভোটের আগে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের রতুয়ার ভাদো এলাকায়। চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল জেলা পরিষদের সদস্য হুমায়ূন কবীরের বিরুদ্ধে। সরকারের বিভিন্ন দফতরে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে দলীয় কর্মী সহ বিভিন্ন চাকরিপ্রার্থীদের থেকে ওই তৃণমূল নেতা প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা নেন বলে অভিযোগ। দিনের পর দিন চাকরি না পাওয়ায় তৃণমূল নেতা হুমায়ূন কবীরের বাড়িতে যান চাকরিপ্রার্থীরা। বাড়িতে গিয়ে টাকা ফেরতের দাবি জানায়। সেই সময় এক তৃণমূলকর্মীর উপর ধারাল অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, তাঁকে বন্দুক দেখিয়ে হুমকিও দেওয়া হয় বলেও দাবি আক্রান্তের। অন্যদিকে, তাঁর বাড়িতে ঢুকে পাল্টা হামলার অভিযোগ করেছেন ওই তৃণমূল নেতা হুমায়ূন কবীর। ঘটনার জেরে ভাদো এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়।

আরও পড়ুন-'পিঠে-পুলিতে মিষ্টিমুখ হোক সকলের', পৌষ সংক্রান্তিতে শুভেচ্ছা মমতার

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় দু পক্ষের তরফে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। দু পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান চাঁচলের এসডিপিও শুভেন্দু মণ্ডল। চাকরি প্রার্থীদের দাবি. প্রাথমিক স্কুল, গ্রাম পঞ্চায়েত, আশাকর্মী সহ সরকারি একাধিক পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে মোটা টাকা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে আবার আসন নথিপত্র দিয়েছেন ওই তৃণমূল নেতাকে। ওই চাকরিপ্রার্থীরা সকলেই দলেরই কর্মী। কেউ সরাসরি বা কেউ দলীয় কর্মীর মাধ্যমে হুমায়ূন কবীরকে টাকা দিয়েছেন বলে দাবি। সেই টাকা ফেরত চাইতে গেলে হুমায়ূনের ছেলে তাঁদের উপর বন্দুক নিয়ে তাঁদের উপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ। যদিও, টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতা হূমায়ূন কবির।