মুর্শিদাবাদে অশনি সংকেত! জেলাজুড়ে ডায়রিয়া প্রকোপে মৃত নাবালিকা ও চিকিৎসাধীন কমপক্ষে ২০, পরিস্থিতি সামাল দিতে তৈরি মেডিকেল টিম।

শীতের শুরুতেই এবার করোনার পাশাপাশি রাজ্যের(West Bengal) একাধিক প্রান্তে জাঁকিয়ে বসতে শুরু করেছে একাধিক সংক্রামক ব্যাধি। এরই মাঝে এবার মুর্শিদাবাদ(Diarrhea in Murshidabad) জুড়ে হঠাৎই অশনি সংকেত! মুর্শিদাবাদের ডাহাপাড়া এলাকায় শিশু থেকে শুরু করে বড়দের মধ্যে বড়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে মহামারি ডাইরিয়া(Epidemic Diarrhea) আতঙ্ক। শনিবার রাতের শেষ পাওয়া খবরে জানা যায়, ইতিমধ্যে মৃত্যু ঘটেছে ফেন্সি মন্ডল নামের বালিকার। এদিকে এই খবর চাউর হতেই প্রশাসনিক মহল থেকে স্বাস্থ্য দপ্তর সর্বত্র তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগের পরিবেশ। জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে শিশু সহ একাধিক ব্যক্তিদের চিকিৎসা শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তালিকায় রয়েছেন প্রায় কুড়ি জনের অধিক মানুষ। তারা প্রত্যেকেউ ডাইরিয়ার কবলে পড়েছেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

তব যে গতিতে থাবা বসাচ্ছে ডাইরিয়া তাতে শীঘ্রই আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ব্যাপারে স্থানীয় স্বাস্থ্য আধিকারিক আকাশ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে কোন ভাবে জল থেকেই এই রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। তাই এলাকার জল টেস্টে পাঠান হয়েছে। এলাকার বাসিন্দাদের বলা হয়েছে জল ফুটিয়ে খেতে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পার্শ্ববর্তী হাসপাতালে বেডের শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে আপৎকালীন অবস্থার জন্য পঞ্চাশের অধিক করা হয়েছে। তবে অবিরাম বমি, পায়খানা,গা ঝিমুনি সহ একাধিক উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হতে শুরু করেছে এলাকার ছোট থেকে বড় বিভিন্ন বয়সের মানুষজন। প্রথমে কিছু বোঝা না গেলেও, সময় গড়াতেই পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে।

আরও পড়ুন- স্বামী কাজে যাওয়ার একদিনের মধ্যেই মুখে গাঁজলা উঠে মৃত্যু স্ত্রী সহ দুই সন্তানের মৃত্যু

এদিকে এদের মধ্যে বাড়িতেই মৃত্যু হয় ফেনসি মন্ডল নামের এক বালিকার। এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরও বর্তমানে নড়েচড়ে বসেছে। এলাকায় পাঠানো হয়েছে চিকিৎসক প্রতিনিধি দল। সংগ্রহ করা হয়েছে জলের নমুনা, বাইরে থেকে পানীয় জলের ব্যবস্থাও করা হয়েছে কয়েকটি জায়গায়। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এলাকার একটি মাত্র টিউবওয়েল। পাশাপাশি গ্রামের বাসিন্দাদের নামতে দেওয়া হচ্ছে না পুকুরে। অন্যদিকে আক্রান্তরা বর্তমানে জেলার ৬টি হাসপাতলে ভর্তি বলে জানা যাচ্ছে।অনেকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও ভর্তি হয়েছে। এই ঘটনায় আতঙ্ক গ্রাস করেছে গোটা এলাকায়। এদিকে সম্প্রতি পাড়তেই একটি বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। ইতিমধ্যে বিয়ের প্যান্ডেল বাঁধার কাজও শুরু হয়ে গিয়েছিল। তাও ভেঙে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে করোনার পর এবার ডাইরিয়ার আতঙ্কে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে মুর্শিদাবাদের গ্রামে।