লকডাউনের মেয়াদ আরও বেড়ে গিয়েছে। কতদিনইবা অপেক্ষা করবেন! বিহার থেকে সাইকেলে চেপে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন নদিয়ার ১১ জন ফেরিওয়ালা। সোমবার সকালে তাঁরা পৌঁছন উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে। তবে বিশ্রাম নেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। বরং রাতভর সাইকেল চালিয়ে এগিয়ে যাবেন গন্তব্যের দিকে।

আরও পড়ুন: করোনা চিকিৎসায় ফের সাফল্য, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন মেদিনীপুরের যুবক

গৃহস্থালীর বিভিন্ন সামগ্রী, খেলনা, আরও কত কী! বাড়ি গিয়ে গিয়ে বিক্রি করেন কালু শেখ, আমিনূল ইসলামরা। নদিয়ার দেবগ্রাম থেকে ১১ জন গিয়েছিলেন বিহারের সুফলা জেলায়। যে যাঁর মতো গ্রামে গ্রামে গিয়ে দিব্যি জিনিসপত্র বিক্রি করছিলেন তাঁরা। রোজগারও মন্দ হচ্ছিল না। কোথা থেকে কী যে হয়ে গেল! করোনা সতর্কতায় দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাতারাতি বাস-ট্রেন, সবই বন্ধ হয়ে গেল। ভিন রাজ্যে আটকে পড়া বাংলার ফেরিওয়ালারা ভেবেছিলেন, কোনওমতে ২১ দিন কাটিয়ে দিতে পারলেই মিলবে মুক্তি। ফের সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কিন্তু তা আর হল কই! উল্টে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউনের সময়সীমা বাড়িয়ে দিল প্রশাসন। অগত্যা সাইকেলই ভরসা। বিহার থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন নদিয়ার ১১ জন ফেরিওয়ালা। 


আরও পড়ুন: ভিনরাজ্যের যুবকের মৃত্যুতে বন্ধ আইসোলেশন ওয়ার্ড, আতঙ্ক ছড়াল রামপুরহাটে

আরও পড়ুন: লকডাউনের জেরে বন্ধ দোকান, গ্রামে গ্রামে ঘুরে মানুষকে সচেতন করছেন দর্জি

সোমবার সকালে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ হয়ে এ রাজ্যে ঢুকে পড়েন কালু শেখ, আমিনূল ইসলামরা। সঙ্গে খাবার বলতে বিস্কুট আর জলের জন্য রাস্তার ধারে কল তো আছেই।  তবে গন্তব্য এখনও অনেক দূর। কিন্তু থামতে রাজি নন তাঁরা। যেকরেও হোক বাড়ি পৌঁছতেই হবে। এর আগে লকডাউনের জেরে বিহারে আটকে পড়েছিলেন বীরভূমের একদল শ্রমিক। শেষপর্যন্ত পায়ে হেঁটেই বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। উত্তর দিনাজপুর হয়েই ওই শ্রমিকরা ঢুকেছিলেন এ রাজ্যে।