ফের মালদহ শহরের রাজনীতিতে পালা বদলের সমম্ভাবনা। না, তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে বিজেপি আসছে না। এই পালা বদল তৃণমূল নেতৃত্বের। বছর আড়াই আগে কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরিকে সরিয়ে তৃণমূল পরিচালিত ইংলিশবাজার পুরবোর্ডের পুরপ্রধান পদে বসেছিলেন স্থানীয় বিধায়ক নিহার রঞ্জন ঘোষ। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে বুধবার মালদহের মহকুমা শাসকের কাছে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিলেন দলেরই গরিষ্ঠ সংখ্যক কাউন্সিলর। এই নিয়ে মালদহের রাজনীতিতে হৈচৈ পড়ে গিয়েছে।

২০১৫ সালে শেষ বার ইংলিশববাজার পুরসভার নির্বাচন হয়েছিল। সেই থেকে গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকবার সমীকরণ বদলে গিয়েছে পুরবোর্ডের। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দেখা গিয়েছিলল ১৫ টি ওয়ার্ডে জয়ী তৃণমূল। ৯টি ওয়ার্ড গিয়েছে বামেদের দখলে। আর ৩টি ওয়ার্ড পেয়েছিল বিজেপি, বাকি ২টি কংগ্রেস। সেই সময় তৃণমূল বোর্ড গঠন করে এবং চেয়ারম্যান হন কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরি।

কিন্তু এই ছবিটা পাল্টে যায় ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর। বাম কাউন্সিলার তথা সিপিএম নেতা নিহা ররঞ্জন ঘোষের বিরুদ্ধে পরাজিত হন কৃষ্ণেন্দু চৌধুরি। এরপর সদ্য বিধায়ক হওয়া নিহাররঞ্জন ঘোষ কয়েকজন বাম কাউন্সিলারকে নিয়ে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূল শিবিরে। এর পরপরই কংগ্রেসের দুইজন ও বিজেপির একজন কাউন্সিলারও যোগ দেন তৃণমূলে। সব মিলিয়ে বোর্ডে তৃণমূলের শক্তি দাঁড়ায় ২৪। এই শক্তি বদলের পরই দলীয় নির্দেশে পুরপ্রধানের পদ ছাড়তে বাধ্য হন কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরি। ২০১৭ সালের গোড়ায় চেয়ারম্যান হন নিহার রঞ্জন ঘোষ।

আরও পড়ুন - ধর্মের সঙ্গে ঘুচে গেল রাজনীতির রংও, জন্মাষ্টমীতে সাক্ষী থাকল মালদহ

আরও পড়ুন - সকাল গড়িয়ে দুপুর, মালদহের হেড পোস্ট অফিসে উড়ল উল্টো জাতীয় পতাকা

আরও পড়ুন - বাড়ির অমতে প্রেম, মেয়েকে খুন করে মাঝ গঙ্গায় ফেলল মালদহের দম্পতি

আরও পড়ুন - শিয়ালদা-মালদহ আপ গৌড় এক্সপ্রেসে ডাকাতি, লুঠ লক্ষাধিক টাকার জিনিস

এদিন ফের সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত মিলেছে। ২৪ কাউন্সিলরের পুর বোর্ডের ১৫ জনই নিহাররঞ্জনের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান উপপুরপ্রধান তথা পুরসভার তৃণমূলের দলনেতা দুলাল সরকার, প্রাক্তন পুরপ্রধান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরি, আরও এক প্রাক্তন পুরপ্রধান নরেন্দ্রনাথ তিওয়ারি, দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলার আশীষ কুণ্ডু প্রমুখ। আগামী বছরই ইংলিশবাজার পুরসভার ভোট হওয়ার কথা। তাঁর আগে এই অনাস্থা প্রস্তাবে তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়েছে। অস্বস্তিতে পড়েছে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দল।

বিক্ষুব্ধরা নিহার রঞ্জনের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। কিন্তু এখনও এই বিষয়ে কিছু বলেননি ইংলিশবাজারের পুরপ্রধান। এশিয়ানেট নিউজ বাংলার পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কলকাতায় আছেন, ফিরে গিয়ে সবটা জেনে তবেই মন্তব্য করবেন বলে এড়িয়ে গিয়েছেন।   

এর আগে নেত্রীর নির্দেশই যথেষ্ট ছিল দলীয় কোন্দল থামাতে। কিন্তু ইদানিং বিজেপিতে যোগ দেওয়ার হিরিক যেরকম বেড়েছে তাতে কতটা কাজ হবে তাই নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। সব মিলিয়ে মালদহ শহরের রাজনৈতিক মহল ফের সমীকরন বদলের গন্ধ পাচ্ছে।